[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

দিল্লির অনুষ্ঠানে হাসিনার বক্তব্য: ঢাকার ‘ক্ষুব্ধ’ প্রতিক্রিয়া

প্রকাশঃ
অ+ অ-
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। সরকার বলছে, ওই বক্তব্যে বাংলাদেশে সরকার উৎখাত এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ব্যাহত করার উদ্দেশ্যে সহিংসতায় উসকানি দেওয়া হয়েছে, যা স্পষ্টত বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রগতি এবং শান্তি ও নিরাপত্তাকে বিপন্ন করছে।

আজ রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিত পলাতক শেখ হাসিনাকে ২৩ জানুয়ারি নয়াদিল্লিতে একটি প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সেখানে তিনি প্রকাশ্যে বাংলাদেশের সরকার উৎখাতের আহ্বান জানিয়েছেন এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে তাঁর দলীয় অনুসারী ও সাধারণ জনগণকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়ার জন্য স্পষ্ট উসকানি দিয়েছেন। এতে বাংলাদেশের সরকার ও জনগণ বিস্মিত ও হতবাক হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ জানানো হলেও দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের বিষয়ে ভারত এখনও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। তার বদলে ভারতের মাটিতে দাঁড়িয়ে তাঁকে এ ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা বাংলাদেশকে গভীরভাবে সংক্ষুব্ধ করেছে। এটি স্পষ্টত বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রগতি এবং শান্তি ও সমৃদ্ধিকে বিপন্ন করছে।

বাংলাদেশ সরকার মনে করছে, ভারতের রাজধানীতে এ ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দেওয়া এবং সেখানে ‘গণহত্যাকারী’ শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া রাষ্ট্রসমূহের পারস্পরিক সম্পর্কের প্রচলিত নীতির পরিপন্থী। এতে সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনধিকার হস্তক্ষেপ না করা এবং সুপ্রতিবেশী আচরণের মূলনীতি উপেক্ষিত হয়েছে। এটি বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি স্পষ্ট অবমাননাও বটে।

বিবৃতিতে সতর্ক করা হয়েছে, এ ঘটনা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যতের জন্য একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে এতে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্বাচিত সরকারের পক্ষে পারস্পরিক কল্যাণমূলক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে তোলা ও এগিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের উসকানিমূলক বক্তব্য আবারও প্রমাণ করেছে কেন অন্তর্বর্তী সরকার দলটির কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। নির্বাচনের আগে এবং নির্বাচনের দিন সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য এই দল দায়ী থাকবে।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের সহিংসতা ও ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন