নোয়াখালীতে চর দখল নিয়ে সংঘর্ষ-গোলাগুলি, নিহত ৫
![]() |
| নোয়াখালীতে সংঘর্ষের ঘটনায় নিহতদের মধ্যে দুজনের মরদেহ পড়ে আছে নদীর চরে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় চর দখলকে কেন্দ্র করে আধিপত্য বিস্তারের বিরোধে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার সুখচর ইউনিয়নের ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড সংলগ্ন জাগলার চরে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, নিহতদের মধ্যে একজনের নাম আলাউদ্দিন। অন্যদের নাম-পরিচয় এখনও নিশ্চিত হয়নি। আলাউদ্দিনকে বিকেলে নোয়াখালীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকি চারজনের লাশ সন্ধ্যা পর্যন্ত জাগলার চরেই পড়ে ছিল। পুলিশ লাশ উদ্ধারে ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হাতিয়ার মেঘনা নদীতে জেগে ওঠা জাগলার চরের খাসজমির দখল নিয়ে স্থানীয় কোপা সামছু ওরফে সামছুদ্দিন গ্রুপ এবং আলাউদ্দিন বাহিনীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। সম্প্রতি এ নিয়ে উভয় পক্ষ একাধিকবার পাল্টাপাল্টি হামলায় জড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবার সকালে চরের খাসজমির দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষ দফায় দফায় সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের লোকজন হতাহত হন। পুলিশ জানিয়েছে, বিকেল পর্যন্ত উভয় পক্ষের দুই বাহিনীর প্রধানসহ পাঁচজন নিহত হয়েছে।
তবে স্থানীয় একটি সূত্র নিহতের সংখ্যা ছয় বলে দাবি করেছে। স্থানীয়রা জানান, ঘটনাস্থলে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম নদীপথ হওয়ায় সকালেই ঘটলেও তা দুপুরের পর জানাজানি হয়। খবর পেয়ে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে হাতিয়া থানার পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সন্ধ্যা পর্যন্ত পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ফিরতে পারেনি।
হাতিয়া থানার ওসি মো. সাইফুল আলম বলেন, জাগলার চরের জমি দখলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া কয়েকজন আহত হয়েছেন। নিহত ও আহতদের নাম-পরিচয় সংগ্রহ করা হচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলাউদ্দিনও পাঁচজন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আরও একজনের অবস্থা গুরুতর।

Comments
Comments