[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

প্রথম আলো, ডেইলি স্টারে হামলার নিন্দায় আর্টিকেল নাইনটিন

প্রকাশঃ
অ+ অ-
নাইনটিনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট

বাংলাদেশে দৈনিক প্রথম আলো ও দৈনিক ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আর্টিকেল নাইনটিন। সংস্থাটি এই হামলাকে মুক্ত মতপ্রকাশের ওপর সরাসরি আক্রমণ হিসেবে দেখছে।

প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে হামলার পর গতকাল শুক্রবার আর্টিকেল নাইনটিন তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ নিন্দা জানায়। একই সঙ্গে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজের সম্পাদক নূরুল কবীরকে হেনস্থা এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানটের ওপর হামলার ঘটনাও নিন্দা জানিয়েছে সংগঠনটি।

প্রতিবেদনে আর্টিকেল নাইনটিন বলেছে, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে ভয়াবহ হামলা, নিউ এজের সম্পাদক ও সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীরের ওপর আক্রমণ এবং ছায়ানটের মতো একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে ধ্বংসযজ্ঞ—সবকিছুই গভীর উদ্বেগজনক।

গুলিবিদ্ধ জুলাই আন্দোলনের মুখ ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়। এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল সন্ত্রাসী এই হামলা চালিয়েছে বলে প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ মনে করছে।

আর্টিকেল নাইনটিনের প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের সর্বাধিক প্রচারিত বাংলা দৈনিক প্রথম আলো এবং প্রধান ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক চরমপন্থী গোষ্ঠীর হুমকির মুখে রয়েছে। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে এ ধরনের হামলা থেকে বোঝা যাচ্ছে, সাংবাদিক, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে শত্রুতা, হয়রানি ও সহিংসতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। এতে সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতার চিত্রও স্পষ্ট হয়েছে।

ডেইলি স্টার কার্যালয়ের কাছে নিউ এজ সম্পাদক ও সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীরকে হেনস্থার ঘটনাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, পর্যাপ্ত রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা না থাকায় সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে এ ধরনের আক্রমণাত্মক ঘটনা বাড়ছে।

ছায়ানটের ওপর হামলা প্রসঙ্গে আর্টিকেল নাইনটিন বলেছে, এটি সারা দেশে সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের বিরুদ্ধে বাড়তে থাকা সহিংসতার একটি উদাহরণ। এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে বোঝা যাচ্ছে, সাংবাদিকতা, সাংস্কৃতিক প্রকাশ ও নাগরিক আলোচনায় যুক্ত মানুষের জন্য পরিবেশ ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিরাপদ হয়ে উঠছে।

সংস্থাটি মনে করে, এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। দীর্ঘদিনের দায়মুক্তির সংস্কৃতির কারণেই বাংলাদেশে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের বিরুদ্ধে হুমকি, নজরদারি, হয়রানি ও হামলার ঘটনা প্রায়ই সঠিক তদন্তের বাইরে থেকে যায় এবং অপরাধীরা শাস্তি পায় না। রাষ্ট্র অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় সমালোচনামূলক কণ্ঠস্বরের ওপর হামলা দিন দিন স্বাভাবিক হয়ে উঠছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তি, বিশেষ করে ইন্টারন্যাশনাল কভেন্যান্ট অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটস (আইসিসিপিআর) মেনে চলার আইনি বাধ্যবাধকতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আর্টিকেল নাইনটিন বলেছে, এসব চুক্তি অনুযায়ী রাষ্ট্রকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

এ কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সংস্থাটি বলেছে, যত দ্রুত সম্ভব সাংবাদিক, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সহিংসতা রোধে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা এবং অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত, কঠোর ও স্বচ্ছ আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। তা না হলে সংকট আরও গভীর হবে, দায়মুক্তি বাড়বে এবং ২০২৬ সালের নির্বাচনী পরিবেশের বিশ্বাসযোগ্যতা হুমকির মুখে পড়বে।

এদিকে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক উপপরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আর্টিকেল নাইনটিনের প্রতিবেদনটি রিপোস্ট করেছেন। সেখানে তিনি আর্টিকেল নাইনটিনের উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে উচ্ছৃঙ্খল জনতার সহিংসতা এবং নিউ এজ সম্পাদকের ওপর হামলার ঘটনা স্বাধীন মতপ্রকাশের ওপর সরাসরি আক্রমণ।’

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন