[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

আওয়ামী লীগের মতোই গোপনে বন্দর ও টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে: বাম জোট

প্রকাশঃ
অ+ অ-
বিদেশি কোম্পানিকে বন্দর ও টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভে বাম গণতান্ত্রিক জোট। আজ রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের মতো অন্তর্বর্তী সরকারও গোপনে দেশের বন্দর ও টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে তুলে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট।

চট্টগ্রামের লালদিয়ার এবং ঢাকার পানগাঁওয়ের কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি কোম্পানিকে দেওয়ার প্রতিবাদে রোববার ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে এই অভিযোগ করা হয়।

সমাবেশে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষার বদলে এসব চুক্তির মাধ্যমে তা ধ্বংসের পাঁয়তারা চলছে। আওয়ামী লীগ সরকার যেভাবে একের পর এক গোপন চুক্তি করেছিল, বর্তমান সরকারও একইভাবে গোপন চুক্তির মাধ্যমে দেশের বন্দর ও টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে তুলে দিচ্ছে।’

১২ নভেম্বর অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের কমিটির এক সভায় চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া চরে কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ এবং ৩০ বছরের জন্য পরিচালনার দায়িত্ব ডেনমার্কের একটি প্রতিষ্ঠানকে দিতে চুক্তি করার সিদ্ধান্ত হয়। ঢাকার কেরানীগঞ্জের পানগাঁও ইনল্যান্ড কনটেইনার টার্মিনালটি সুইজারল্যান্ডের একটি কোম্পানিকে দিয়ে পুনরায় চালু করার আলোচনাও হয় ওই সভায়।

‘দেশবিরোধী’ এসব চুক্তি রুখে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে সমাবেশে সাজ্জাদ জহির বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের কাজ এগুলো নয়। আপনাদের কাজ হলো দ্রুত একটা সাধারণ নির্বাচন দিয়ে জনগণের প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে বিদায় নেওয়া। কিন্তু সেটা না করে একের পর এক দেশের স্বার্থবিরোধী নীতি গ্রহণ করা হচ্ছে।’

সমাবেশে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, ‘দেশের বন্দর ও টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার এই চুক্তি হলে দেশে নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে। সব জিনিসপত্রের ওপর শুল্ক বসবে। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। বাংলাদেশের ভূরাজনীতি নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। বাংলাদেশকে সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধের অংশ বানানোর চেষ্টা হচ্ছে। এটি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সম্পদের ওপর বড় আঘাত।’

সরকারকে এসব চুক্তি থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু বলেন, ‘বিদেশিদের কাছে বন্দর ইজারা দেওয়ার মানে দেশের বন্দরকে নিরাপত্তাহীন করে ফেলা। দেশকে আরও বৈষম্যের দিকে ঠেলা দেওয়া। আমরা সেটা হতে দেব না। অবিলম্বে এই চুক্তি থেকে সরে আসুন। দেশীয় মালিকানায় বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি করুন। না করলে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’

কমিউনিস্ট লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আবদুস সাত্তার বলেন, ‘অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর কী দায়িত্ব ছিল, আর তিনি কী করছেন? আমরা অবাক হয়ে যাচ্ছি। সাম্রাজ্যবাদীদের হাতে দেশের বন্দর ও টার্মিনাল তুলে দিয়ে তাদের দালালি করছেন। সাম্রাজ্যবাদীর দালালি করে রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকবেন, সেটা হবে না।’

বাসদের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য নিখিল দাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে বাসদের (মার্ক্সবাদী) প্রধান সমন্বয়ক মাসুদ রানাও বক্তব্য দেন। সমাবেশ শেষে প্রেসক্লাবের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে বাম জোট।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন