[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে শ্রমিকদের অবরোধ, যানজটে দুর্ভোগ

প্রকাশঃ
অ+ অ-
অপসো স্যালাইন লিমিটেডের কারখানার পাঁচ শতাধিক শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে শ্রমিকদের অবরোধ। আজ দুপুরে নগরের চৌমাথা এলাকায় | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

বরিশালে অপসো স্যালাইন লিমিটেডের ৫৭০ শ্রমিককে ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করেছেন শ্রমিকেরা। আজ শনিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে নগরের চৌমাথা এলাকায় মহাসড়কে বিক্ষোভ শুরু করেন তাঁরা। এতে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন।

আজ বেলা পৌনে তিনটায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলছিল।

এর আগে সকাল থেকেই নগরের জীবনানন্দ দাশ (বগুড়া সড়ক) সড়কে অবস্থিত অপসো স্যালাইন কারখানার সামনে জড়ো হন শ্রমিকেরা। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে তারা চৌমাথা এলাকায় পৌঁছে মহাসড়ক অবরোধ শুরু করেন। সেখানে তাঁদের সঙ্গে সংহতি জানান বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) বরিশাল জেলা সমন্বয়ক মনীষা চক্রবর্তী, বিএনপির বরিশাল নগর কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।

শ্রমিকেরা জানায়, গত ২৯ অক্টোবর ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে তারা ধারাবাহিকভাবে বিক্ষোভ-সমাবেশ, অবস্থান কর্মসূচি ও সড়ক অবরোধসহ নানা কর্মসূচি পালন করছেন। গতকাল শুক্রবারও কারখানার সামনে সংহতি অবস্থান পালন করেন। কিন্তু মালিকপক্ষ তাঁদের কাজে ফিরিয়ে নিচ্ছে না। তাই এবার বরিশালের অন্যান্য শ্রমিকরাও সংহতি জানিয়ে আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন।

ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কের দুই প্রান্তে আটকা পড়েছে অসংখ্য যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

অপসো স্যালাইন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রাকিব মিয়া বলেন, ‘স্টুরিপ্যাক (সিরিঞ্জ ও স্যালাইন সেট প্রস্তুতকারক) শাখার সব শ্রমিককে প্রথমে চার দিনের মৌখিক ছুটি দেওয়া হয়। এরপর ২৯ অক্টোবর শ্রমিকদের বাড়িতে ডাকযোগে চাকরিচ্যুতির নোটিশ পৌঁছায়। আমরা ১৮ দিন ধরে আন্দোলন করছি। কিন্তু কর্তৃপক্ষ সমস্যার সমাধানে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। আমরা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরব না।’

শুধু ট্রেড ইউনিয়ন করার কারণে ওই শ্রমিকদের অপসারণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মনীষা চক্রবর্তী। তিনি বলেন, এসব শ্রমিককে বিনা নোটিশে কারখানা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে—এটা অন্যায়, অমানবিক। আজ তাঁরা কাজ হারিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে পথে বসেছেন, ঘরে খাবার নেই।

এদিকে মহাসড়ক অবরোধের কারণে বরিশালের সঙ্গে পাঁচ জেলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। মহাসড়কের দুই প্রান্তে অসংখ্য যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন আটকা পড়েছে। সাকুরা বাসের যাত্রী আলী হোসেন বলেন, ‘সকালে ঢাকা থেকে বরগুনার উদ্দেশে রওনা হয়েছি। বরিশালে এসে আটকা পড়েছি। জানি না কখন এই অবরোধ শেষ হবে, আর কখন পৌঁছাতে পারব।’

২৯ অক্টোবর কারখানাটির স্টুরিপ্যাক শাখার ৫৭০ শ্রমিককে চাকরিচ্যুতির নোটিশ দেওয়া হয়। এতে বলা হয়েছে, ‘কোম্পানির নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত কারণে স্টুরিপ্যাক শাখার উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।’

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন