{getBlock} $results={3} $label={ছবি} $type={headermagazine}

অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছরেও বাজারে স্থিতি ফেরেনি

প্রকাশঃ
অ+ অ-

সবজি বাজার | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন    

চলতি মাসেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এক বছর পূর্ণ হয়েছে। গত বছরের ৫ আগস্ট গণআন্দোলনের মুখে পতন হয় তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের। আন্দোলনের মুখে দেশ ছেড়ে চলে যান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জনমনে তৈরি হয় নতুন করে দেশ গোছানোর প্রত্যাশা। যেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয়  দ্রব্যমূল্য হবে না লাগামহীন, দুর্নীতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি থাকবে নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু এই সরকারের এক বছর পূর্ণ হলেও পূরণ হয়নি জনগণের প্রত্যাশা। দেশের অন্যান্য সমস্যাগুলোর সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারও নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি সরকার। এখনও কাঁচাবাজারে স্বস্তির বাতাস আসেনি। কিছুদিন নিত্যপণ্যের দাম কিছুটা কম থাকলেও সম্প্রতি আবার চড়া হচ্ছে বাজার। এভাবেই নিজেদের অভিমত প্রকাশ করেন বাজার করতে আসা ক্রেতারা। তবে কোনও কোনও ক্রেতা-বিক্রেতা মনে করেন বাজারে পণ্যের দাম কিছুটা বেশি থাকলেও সহনশীল পর্যায়ে আছে।

এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজার নিয়ন্ত্রণহীন হওয়ার পেছনে রয়েছে সুশাসনের অভাব। এখন প্রয়োজন স্থানীয় প্রশাসনের আরও বেশি সক্রিয়তা। একইসঙ্গে সরকারের উচিত ভর্তুকি দিয়ে হলেও পণ্যের দাম কমিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা।

শুক্রবার রাজধানীর মিরপুর ১ নম্বরের কাঁচাবাজার সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, ক্রেতা-বিক্রেতাদের অভিমত। এ সময় গত বছরের আগস্ট মাসের পণ্যের মূল্যের সঙ্গে এ দিনের বাজারের মূল্যও তুলনা করা হয়। জানা যায়, বাজার পরিস্থিতিও।

গত বছরের চেয়ে এ বছরের আগস্টে সবজির দাম বেশি
শুক্রবারের বাজারে প্রতিকেজি ভারতীয় টমেটোর দাম ছিল ১৬০-১৮০ টাকা, দেশি গাজর ৮০ টাকা, চায়না গাজর ১০০-১২০ টাকা, লম্বা বেগুন ১২০ টাকা, সাদা গোল বেগুন ১২০ টাকা, কালো গোল বেগুন ২২০-২৪০ টাকা, শসা ৭০ টাকা, দেশি শসা ১০০ টাকা, উচ্ছে ১০০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, কাকরোল ১০০ টাকা, পেপে ৪০ টাকা, ঢেঁড়স ১০০-১২০ টাকা, পটল ৮০-১২০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, ধুন্দল ৮০-১০০ টাকা, ঝিঙা ১০০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, কচুর লতি ৮০ -১০০ টাকা, কচুরমুখী ৮০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০-৬০ টাকা, কাঁচামরিচ ২০০-২৪০  টাকা, ধনেপাতা (মানভেদে) ২৫০-৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর মানভেদে প্রতিটি লাউ ৮০-১০০ টাকা, চাল কুমড়া ৭০-৮০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতিহালি কাঁচা কলা ৪০ টাকা, প্রতিহালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৩০ -৪০ টাকা করে।

একই বাজারে গত বছরের আগস্ট মাসে (২৩ তারিখ) এসব সবজির দাম ছিল- প্রতিকেজি ভারতীয় টমেটো ১৩০ টাকা, দেশি গাজর ১০০ টাকা, চায়না গাজর ১৫০ টাকা, লম্বা বেগুন ৮০ টাকা, সাদা গোল বেগুন ৮০ টাকা, কালো গোল বেগুন ১২০ টাকা, শসা ৬০-৭০ টাকা, উচ্ছে ৮০ টাকা, করল ৭০ টাকা, কাকরোল ৮০ টাকা, পেপে ৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, পটল ৪০-৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, ধুন্দল ৬০ টাকা, ঝিঙা ৭০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা, কচুরমুখী ৮০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা, কাঁচামরিচ ২৮০-৩২০ টাকা, ধনেপাতা ২০০ টাকা করে। আর মানভেদে প্রতিটি লাউ ৮০ টাকা, চাল কুমড়াও ৮০ টাকা করে বিক্রি হয়। এছাড়া প্রতিহালি কাঁচা কলা ৩৫-৪০ টাকা এবং প্রতিহালি লেবু বিক্রি হয়েছে ২৫ টাকা করে।

গত বছরের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, এই এক বছরে প্রতিকেজিতে ভারতীয় টমেটোর দাম বেড়েছে ৩০-৫০ টাকা, লম্বা বেগুনের দাম বেড়েছে ৪০ টাকা, সাদা গোল বেগুনের দাম বেড়েছে ৪০ টাকা, কালো গোল বেগুনের দাম বেড়েছে ১০০-১২০ টাকা, উচ্ছের দাম বেড়েছে ২০ টাকা, করলার দাম বেড়েছে ৩০ টাকা, কাকরোলের দাম বেড়েছে ২০ টাকা, ঢেঁড়সের দাম বেড়েছে ৪০-৬০ টাকা, পটলের দাম বেড়েছে ৪০ টাকা, চিচিঙ্গার দাম বেড়েছে ২০ টাকা, ধুন্দলের দাম বেড়েছে ২০-৪০ টাকা, ঝিঙার দাম বেড়েছে ৩০ টাকা, বরবটির দাম বেড়েছে ২০ টাকা, কচুর লতির দাম বেড়েছে ২০ টাকা, মিষ্টি কুমড়ার দাম বেড়েছে ১০ টাকা এবং ধনেপাতার দাম বেড়েছে কেজিতে ৫০-২০০ টাকা করে।

আর প্রতি কেজিতে দেশি গাজরের দাম কমেছে ২০ টাকা, চায়না গাজরের দাম কমেছে ৩০-৫০ টাকা, কাঁচা মরিচের দাম কমেছে ৮০ টাকা করে। এছাড়া অন্যান্য সবজির দাম রয়েছে অপরিবর্তিত। 

এ সময় সবজি বিক্রেতা মো. শাহ আলম বলেন, ‘গত বছরের চেয়ে এ বছরে বেশিরভাগ সবজির দামই বেশি। এর কারণ গত বছরের চেয়ে এই বছর বেশি বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি বেশি হলে সবজির দাম বাড়বেই। অনেক সবজি গাছ আছে, যেগুলো বেশি বৃষ্টি হলে মরে যায়, যেমন বেগুন গাছ। এ কারণেই বেগুনের দাম অনেক বেড়েছে। এর মধ্যে নতুন সবজি আসার আগে আর যদি আমদানি না করা হয় তাহলে সবজির দাম আর কমছে না, এটাই মনে হচ্ছে।

আরেক বিক্রেতা মো. সাকিব বলেন, ‘গত বছরের চেয়ে এই বছর সবজির দাম বেশি। কিন্তু অনেকে মনে করেন যে সরকার সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ায়। আসলে কিন্তু ব্যাপারটা ওরকম না। বৃষ্টিতে গাছ মারা গেলে, ফলন কমে গেলে এমনেই সবজির দাম বেড়ে যাবে। চাহিদা থাকলো কিন্তু ফলন হলো না, তাহলে তো অটোমেটিক দাম বেড়ে যায়।’

বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘নতুন সরকার আসার পরে ভেবেছিলাম সব হয়তো স্বাভাবিক হয়ে যাবে কিছুদিনের মধ্যে। কিন্তু এখনও আমরা শান্তিতে বাজার করতে পারছি না। কিছুদিন দাম কম থাকলেও এখন সব ধরনের সবজির দাম অনেক বেশি। বেশিরভাগ সবজির দাম এখন ৮০-১০০ টাকার মধ্যে বা তারও বেশি।’

আলু-পেয়াজ-আদা-রসুনের বাজার | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

গত বছরের চেয়ে সস্তা আলু-পেঁয়াজের বাজার
গত বছরের এই সময়ের চেয়ে সবজির বাজার চড়া থাকলেও সস্তা রয়েছে আলু--পেয়াজ, আদা-রসুনের বাজার। শুক্রবারের বাজারে আকার ও মানভেদে ক্রস জাতের পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৭৫-৮০ টাকায়। এরমধ্যে ছোট পেঁয়াজ ৭৫ টাকা ও বড় সাইজের পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৮০ টাকা করে। দেশি পেঁয়াজ ৮৫-৯০ টাকা, লাল আলু ২০-২৫ টাকা, সাদা আলু ২০-২৫ টাকা, বগুড়ার আলু ৩০-৩৫ টাকা, দেশি রসুন ১২০ টাকা, চায়না রসুন ১৫০-১৬০ টাকা, চায়না আদা ২০০- ২২০ টাকা, ভারতীয় আদা মান ভেদে ১৮০-২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।

গেল বছর একই বাজারে এসব পণ্যের দাম ছিলো-
আকার ও মানভেদে ক্রস জাতের পেঁয়াজ ১১০-১২০ টাকা। এরমধ্যে ছোট পেঁয়াজ ১১০ টাকা ও বড় সাইজের পেঁয়াজ বিক্রি হয় কেজি ১২০ টাকায়। দেশি পেঁয়াজ ৮৫-৯০ টাকা, লাল আলু ৬০ টাকা, সাদা আলু ৬০ টাকা, বগুড়ার আলু ৭০ টাকা, দেশি রসুন ২০০-২২০ টাকা, চায়না রসুন ২০০ টাকা, চায়না আদা ২৬০ টাকা এবং ভারতীয় আদা মান ভেদে ২৬০ টাকা দরে বিক্রি হয়।

এক্ষেত্রে দেখা যায় প্রতি কেজিতে ক্রস জাতের পেঁয়াজের দাম কমেছে ৩৫-৪০ টাকা, লাল, সাদা ও বগুড়ার আলুর দাম কমেছে ৩৫-৪০ টাকা, দেশি রসুনের দাম কমেছে ৮০-১০০ টাকা, চায়না রসুনের দাম কমেছে ৪০-৫০ টাকা, চায়না আদার দাম কমেছে ৪০-৬০ টাকা এবং ভারতীয় আদার দাম কমেছে ৬০-৮০ টাকা করে। 

এ সময় আলু-পেঁয়াজ বিক্রেতা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘গত বছর থেকে এই বছর আলু-পেঁয়াজের দাম শুধু কম না, অনেক কম।’

বর্তমানে পেঁয়াজের বাজার চড়া থাকা নিয়ে তিনি বলেন, ‘মোটামুটি ২০ দিন ধরে পেঁয়াজের দাম বাড়তি আছে। এর কারণ এবার কিন্তু আমরা আমাদের দেশের পেঁয়াজ দিয়েই চলছি। অন্য কোনও দেশের পেঁয়াজ নাই। তার আবার মধ্যে বন্যা। এই কারণেই দাম কিছুটা বাড়তি। আলুর দাম কিন্তু বাড়ে নাই। কারণ এটার অনেক ফলন হয়েছে।’

এ সময় বাজার করতে আসা কাওসার হোসেন বলেন, ‘আলু-পেঁয়াজের বাজার এবার অনেকটাই সস্তা। আবার আমরা রোজায়ও এসব কম দামে পেয়েছি। কিন্তু এখন পেঁয়াজের দাম আবার বাড়ছে। সরকারের এসব দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত। আমাদের দেশে কোনও জিনিস ছেড়ে দিলে সেটার দামের লাগাম থাকে না। তাই সরকারের উচিত লাগাম টেনে ধরা। যাতে দেশের মানুষ স্বস্তিতে থাকতে পারে।’

মাছ সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

মাংসের দাম বেশি, ডিমের দাম কিছুটা কম
গত বছরের এই সময়ের চেয়ে মাছ ও সব ধরনের মাংসের দাম বেশি। এই বাড়তি দাম ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের জন্যই অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গতকালকের বাজারে ইলিশ মাছ আকার ও ওজন অনুযায়ী ১০০০-২৫০০ টাকা, রুই ৪০০-৬০০ টাকা, কাতল ৩৫০-৭০০ টাকা, কালিবাউশ ৪০০-৭০০ টাকা, চিংড়ি মাছ ৮০০-১৫০০ টাকা, কাঁচকি মাছ ৬০০ টাকা, কৈ ২৫০ টাকা, পাবদা ৪০০-৬০০ টাকা, শিং ৪০০-১২০০ টাকা, টেংরা মাছ ৬০০-১০০০ টাকা, বেলে মাছ ১১০০-১৪০০ টাকা, মেনি মাছ ৮০০ টাকা, বোয়াল ৬০০-১২০০ টাকা, রূপচাঁদা ১২০০-১৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।

গত বছর এসব মাছের দাম ছিল- ইলিশ আকার ও ওজন অনুযায়ী ১০০০-১৮০০ টাকা, রুই ৩৮০-৬০০ টাকা, কাতল ৪০০-৫৫০ টাকা, কালিবাউশ ৪০০-৬৫০ টাকা, চিংড়ি মাছ ৭০০-১৪০০ টাকা, কাঁচকি মাছ ৫০০ টাকা, কৈ ২০০-৬০০ টাকা, পাবদা ৪০০-৮০০ টাকা, শিং ৪০০-১২০০ টাকা, টেংরা ৫৫০- ৮০০ টাকা, বেলে মাছ ৮০০-১২০০ টাকা, মেনি মাছ ৮০০ টাকা, বোয়াল ৬০০-১০০০ টাকা এবং রূপচাঁদা প্রতিকেজি ৮০০-১৪০০ টাকা।

এক্ষেত্রে দেখা যায় ইলিশ, রুই, কাতল, কালিবাউশ, চিংড়ি, কাঁচকি, টেংরা, বেলে, বোয়াল, রূপচাঁদা মাছের দাম বেড়েছে। এছাড়া অন্যান্য মাছের দাম রয়েছে অপরিবর্তিত। 

এ সময় মাছ বিক্রেতা মো. বাদল বলেন, ‘গত বছরের থেকে এই বছর মাছের দাম বেশি। ফলে আমাদের বিক্রিও কমেছে। দাম কম থাকলে তো মানুষ বেশি নেয়। আর বেশি থাকলে কম নেয়।’

মাছ কিনতে আসা সরকারি চাকরিজীবী আবিদুর রহমান বলেন, ‘গত বছরের থেকে এই বছর সব ধরনের নিত্যপণ্যের দামই বলা চলে বেশি। এরমধ্যে সবজির দাম কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও মাছের দাম অত্যাধিক। এখন মাছ কিনতে হিসেব করতে হয়।’

এছাড়া এ দিন গরুর মাংস বিক্রি হয় ৭৮০ টাকা কেজি দরে। খাসির মাংস ১২০০ টাকা কেজি, ব্রয়লার মুরগি ১৭৩-১৮০ টাকা, কক মুরগি ২৯৫-৩১০ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩০০-৩১০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৫৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।

দোকানে সাজিয়ে রাখা হয়েছে হাস ও মুরগির ডিম | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

এদিকে বিভিন্ন দোকানে মুরগির লাল ডিম ১৩০-১৪০ টাকা এবং সাদা ডিম ১২৫-১৩০ টাকা এবং হাঁসের ডিম প্রতিডজন ২৪০ টাকা দরে বিক্রি হয়।  

গত বছরের চেয়ে এ বছর প্রতিকেজিতে গরুর মাংসের দাম বেড়েছে ৩০ টাকা, খাসির মাংসের দাম বেড়েছে ১৫০ টাকা, ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে ১৫ টাকা, কক মুরগির দাম বেড়েছে ৮২-৯০ টাকা, লেয়ার মুরগির দাম বেড়েছে ১০ টাকা, দেশি মুরগির দাম বেড়েছে ৬০ টাকা। এছাড়া প্রতি ডজনে লাল ডিমের দাম কমেছে ১০-২০ টাকা, সাদা ডিমের দাম কমেছে ২০ টাকা করে। 

মুদি দোকানের পণ্যের দামও ওঠানামা করছে
শুক্রবার প্যাকেট পোলাওয়ের চাল ১৫৫ টাকা, খোলা পোলাওয়ের চাল মান ভেদে ৯০-১৩০ টাকা, ছোট মুসরের ডাল ১৫৫ টাকা, মোটা মুসরের ডাল ১১০ টাকা, বড় মুগ ডাল ১৪০ টাকা, ছোট মুগ ডাল ১৭০ টাকা, খেশারি ডাল ১২০ টাকা, বুটের ডাল ১২০ টাকা, ডাবলি ৬৫ টাকা, ছোলা ১১০ টাকা এবং মাশকালাইয়ের ডাল ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯৮ টাকা, খোলা সয়াবিন তেল ১৭২ টাকা, কৌটাজাত ঘি ১৪৫০-১৫৫০ টাকা, খোলা ঘি ১২৫০ টাকা, প্যাকেটজাত চিনি ১১০ টাকা, খোলা চিনি ১০৫ টাকা, দুই কেজি প্যাকেট ময়দা ১৩০ টাকা, আটা দুই কেজির প্যাকেট ১২০ টাকা, খোলা সরিষার তেল প্রতিলিটার ২২০ টাকায় বিক্রি হয়। এছাড়া এলাচি ৪৮০০ টাকা, দারুচিনি ৫০০ টাকা, লবংগ ১২৮০ টাকা, সাদা গোল মরিচ ১৩৫০ টাকা ও কালো গোল মরিচ ১১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়।

এক্ষেত্রে দেখা যায়, গত বছরের থেকে এই বছর প্রতি কেজিতে ছোট মুসরের ডালের দাম বেড়েছে ২০ টাকা, খেশারি ডালের দাম বেড়েছে ২০ টাকা, কৌটাজাত ঘিয়ের দাম বেড়েছে ১০০-২০০ টাকা, এলাচির দাম বেড়েছে ৬০০ টাকা, কালো গোল মরিচের দাম বেড়েছে ১০০ টাকা। আর প্রতি লিটারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ৩১ টাকা, খোলা সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ২৫ টাকা, খোলা সরিষার তেলের দাম বেড়েছে ৩০ টাকা।

এছাড়া প্রতিকেজিতে খোলা পোলাওয়ের চালের দাম কমেছে ১০-২০ টাকা, ছোট মুগ ডালের দাম কমেছে ১০ টাকা, বুটের ডালের দাম কমেছে ১০ টাকা, ডাবলির দাম কমেছে ১৫ টাকা, ছোলার দাম কমেছে ৫ টাকা, মাশকালাইয়ের ডালের দাম কমেছে ২০ টাকা, প্যাকেটজাত চিনির দাম কমেছে ২৫ টাকা, খোলা চিনির দাম কমেছে ২৫ টাকা, দুই কেজি প্যাকেট ময়দার দাম কমেছে ২০ টাকা, দারুচিনির দাম কমেছে ৫০ টাকা, লবংগের দাম কমেছে ২৫০ টাকা।

দোকানে ক্রেতার অপেক্ষায় মুদি ব্যবসায়ী | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এক বছর পূর্ণ হলেও বাজার সেভাবে নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বাজারে নিত্যপণ্যের দাম এখনও চড়া। এর কারণ এবং করনীয় কী জানতে চাইলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আলীম আখতার খান বলেন, ‘পেঁয়াজের দাম গত বছরের তুলনায় কম, তবুও সাম্প্রতিক সময়ে আবারও বাড়তি দামের চাপ রয়েছে। আমরা মাঠপর্যায়ের খোঁজ নিয়েছি; অনেক কৃষক এখন নিজেরাই পেঁয়াজ সংরক্ষণ করছেন, যাতে ভালো দাম পাওয়া যায়। এতে কিছু অসাধু ফরিয়াও যুক্ত রয়েছে, যার ফলে বাজারে সরবরাহ কমে যাচ্ছে এবং দাম বাড়ছে। কিন্তু আমরা যখন বেশি চাপ দেই আমাদের তখন বলা হয় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তো এখন স্থানীয় প্রশাসনের আরও বেশি সক্রিয়তা দরকার বলে আমি মনে করছি।’

বাজারের নিয়ন্ত্রনহীনতার কারণ নিয়ে মহাপরিচালক বলেন, ‘এই অব্যবস্থাপনার মূল কারণ সুশাসনের অভাব। রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকলে প্রশাসনের পক্ষে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন হয়ে যায়।’

বাজার নিয়ন্ত্রণে করনীয় নিয়ে তিনি বলেন, ‘বাজার ব্যবস্থাপনা ও ন্যায্য দামে পণ্য সরবরাহের জন্য এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নৈতিকতা ও সুশাসন। আমরা উন্নত দেশগুলোর উদাহরণ দিতে পারলেও, নিজেদের কার্যক্রমে সে মানসিকতা বা আন্তরিকতা দেখাতে পারছি না। ফলে পুরো গভারন্যান্স সিস্টেমই একটি বড় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।’

জানতে চাইলে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবির ভূঁইয়া বলেন, ‘মানুষ ছাড়া সরকারের নিয়ন্ত্রণে আর কোনটা আছে? এই সরকারের আমলে কোনও নিয়ন্ত্রণে নাই। আমরা ধন্যবাদ দিয়েছি, যে রমজান মাসে সরকার পণ্যের দাম কম ছিল, কিছুটা নিয়ন্ত্রণে ছিল। সবচেয়ে দুঃখজনক হলো বাজারে সিন্ডিকেট এখনও ভাঙা হয়নি। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট তৈরি করে বাজারে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।’

পণ্যের দাম কমাতে ভর্তুকি দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘সাধারণ আয়ের মানুষ খুব কষ্টে আছে। এটা সরকারের নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ ভর্তুকি দিয়ে হলেও পণ্যের দাম কমান।’

একটি মন্তব্য করুন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন