৫ অগাস্ট ‘ভার্চুয়ালি সামনে আসছেন’ শেখ হাসিনা
নয়া দিল্লিতে একটি মতবিনিময় সভায় তার যোগ দেওয়ার খবর দিয়েছে ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যম
মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের রায় মাথায় নিয়ে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দুই বছর পর প্রথমবারের মতো কোনো অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে।
আগামী ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে এ ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে। ২০২৪ সালের এই দিনেই ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা।
রোববারের প্রতিবেদনে ইন্ডিয়া টুডে জানায়, নয়াদিল্লির ‘ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া’ (এফসিসি সাউথ এশিয়া) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে।
অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনা এতে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও বাংলাদেশে ফেরার ‘প্রস্তাবিত সময়সূচি’ নিয়ে আলোচনা করবেন।
এর আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এবং সম্প্রতি জাপানের কিয়োডো নিউজকে দেওয়া দুটি সাক্ষাৎকারে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার কথা জানিয়েছিলেন শেখ হাসিনা।
ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, ৫ আগস্টের ওই মতবিনিময় সভার আলোচকদের তালিকায় শেখ হাসিনার ছেলে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সজীব ওয়াজেদ জয়, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং তারকা ক্রিকেটার ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানের নাম রয়েছে।
এ ছাড়া প্যানেলে সাবেক কূটনীতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক আমিনুল হক পলাশ, সন্ত্রাসবাদবিরোধী বিশ্লেষক আবু ওবায়দা আরিন, বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী এবং ইউএসএর পরিচালক শাহ মো. বখতিয়ারের নাম রয়েছে।
এফসিসি সাউথ এশিয়া ও ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব প্রেস ক্লাবের সভাপতি ওয়ায়েল আউয়াদের সভাপতিত্বে সভাটি নয়াদিল্লির মথুরা রোডের স্যার মার্ক টালি অডিটোরিয়ামে’ অনুষ্ঠিত হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি চলার কথা। এফসিসি ক্লাবের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোতে এটি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, এমন একটি সময়ে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে, যখন দুই বছর আগে ঠিক এই দিনেই গণ-অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। পরে আন্দোলন দমনে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে হতাহতের অভিযোগে বাংলাদেশে তাঁর বিরুদ্ধে শতাধিক হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলা হয়। এর মধ্যে একটি মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেন। আবাসন প্লটের জমি নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির মামলাতেও শেখ হাসিনা এবং তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে সাজা দেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলন পরে দেশব্যাপী সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। একপর্যায়ে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন। এরপর থেকে তিনি ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থান করছেন। দেশ ছাড়ার পর তাঁকে কোনো প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি।
গত ৯ জুলাই রয়টার্সকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। নির্বাসিত আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারাও তাঁর সঙ্গে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করবেন বলে দাবি করেছিলেন তিনি।
সম্প্রতি কিয়োডো নিউজকে দেওয়া এক লিখিত সাক্ষাৎকারেও ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা বলেন, আমি বাংলাদেশে ফিরে আসব। আমি আদালতে হাজির হব। তারা আমাকে কারাগারে পাঠাতে পারে। এমনকি আমাকে ফাঁসিতেও ঝোলানোর চেষ্টা করতে পারে। আমি সেই ঝুঁকির কথা জানি।
ওই সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা দাবি করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’।
How did this article make you feel?