পদ্মা ট্রিবিউন | বাংলা নিউজ পেপার
বাংলাদেশ রাজনীতি বিশ্ব বাণিজ্য মতামত খেলা বিনোদন চাকরি জীবনযাপন ভিডিও

চলমান পরিস্থিতিতে চিন্তিত অভিনয়শিল্পীরা

বিনোদন প্রতিবেদক ঢাকা
শহীদুজ্জামান সেলিম, তৌকীর আহমেদ ও আজাদ আবুল কালাম
শহীদুজ্জামান সেলিম, তৌকীর আহমেদ ও আজাদ আবুল কালাম | ছবি: সংগৃহীত

গত মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে হয়ে গেল ছোট পর্দার অভিনয়শিল্পীদের সংগঠন অভিনয়শিল্পী সংঘের বার্ষিক সভা। চলমান পরিস্থিতি ও শিল্পীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সভায় শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিনয়শিল্পীরা। তাঁদের দাবি, দেশে টিভি চ্যানেল বাড়লেও কমেছে শিল্পের গুরুত্ব। বিদেশি সিরিয়ালের আধিক্যের কারণে দেশি অনুষ্ঠান কমে সংকুচিত হচ্ছে শিল্পীদের কর্মক্ষেত্র। শিল্পীরা বাধ্য হচ্ছেন পেশা পরিবর্তনে।


বাংলা ডাবিং করা সিরিয়াল প্রচারের আধিক্য নিয়ে সমালোচনা করেন অভিনয়শিল্পী শহীদুজ্জামান সেলিম। তিনি মনে করেন, দর্শক চাহিদা থাকায় নিয়মিত বিদেশি সিরিয়াল প্রচার করছে চ্যানেলগুলো। সেই প্রভাব পড়েছে শিল্পী ও নির্মাতাদের ওপর। অনেকেই কাটাচ্ছেন কর্মহীন সময়। বাধ্য হয়ে অনেকে পেশা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।


শহীদুজ্জামান সেলিম বলেন, ‘দেশের চ্যানেলগুলোতে প্রচারিত বাংলায় ডাবিং করা বিদেশি সিরিয়ালগুলোর কারণে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। টেলিভিশন চ্যানেলগুলো কম খরচে সিরিয়ালগুলো কিনে ডাবিং করে প্রচার করছে, এতে শিল্পীদের কাজের ক্ষেত্র সংকুচিত হচ্ছে। এই সিরিয়ালগুলো যেন পিক আওয়ারে না চলে, তা নিয়ে আগে নীতিমালা ছিল। সেই নীতিমালা যদি কঠোরভাবে পালন করা যায়, তাহলে শিল্পী ও নির্মাতাদের কাজের ক্ষেত্র তৈরি হবে।’


সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে শহীদুজ্জামান সেলিম বলেন, ‘অনেক শিল্পী ও নির্মাতা প্রায় দুস্থ জীবনযাপন করছেন। শিল্পের পেছনে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার দরকার আছে। নিশ্চয়ই সরকারও এই পৃষ্ঠপোষকতা করতে বদ্ধপরিকর। শুধু তাদের ধরিয়ে দিতে হবে কোন কোন কাজগুলো করতে হবে।’


কাজ কমে যাওয়ায় শিল্পীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তৌকীর আহমেদ বলেন, ‘দেশে টিভি চ্যানেলের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি। কিন্তু বেশির ভাগ চ্যানেল এখন বাণিজ্য আর সংবাদনির্ভর হয়ে পড়ছে। নাটক, সিনেমা এবং শিল্পচর্চার গুরুত্ব কমে গেছে। ফলে চ্যানেল বাড়লেও চলচ্চিত্র, টিভি ও মঞ্চশিল্পীদের কাজের সুযোগ ক্রমাগতভাবে সংকুচিত হচ্ছে। পেশার স্বীকৃতি তো দূরের ব্যাপার, আমাদের কাজের সম্ভাবনা থাকছে না। এটি অত্যন্ত আশঙ্কার বিষয়। এ নিয়ে রাষ্ট্রের যাঁরা নীতিনির্ধারক, তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় যাওয়া উচিত। এখনই সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।’


অভিনয়শিল্পী সংঘের সভাপতি আজাদ আবুল কালাম মনে করেন, শিল্পীদের একে অপরের পাশে দাঁড়ানো উচিত। তিনি বলেন, ‘অভিনয়শিল্পী হিসেবে আমাদের রাষ্ট্রীয় কোনো স্বীকৃতি নেই। এটা যেমন বেদনার, তেমনি রাষ্ট্রের অবজ্ঞা। এ নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত, আন্দোলনে যাওয়া উচিত। অভিনয়কে পেশা হিসেবে নিয়ে জীবন যাপন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকেই একটা দুর্বিষহ, কখনো কখনো মানবেতর জীবন যাপন করছেন। পেশাজীবী শিল্পীদেরও এগিয়ে আসতে হবে। তাঁদের প্রতি আমার অনুরোধ, শুধু নিজের দিকে না তাকিয়ে সহকর্মীদের পাশে থাকুন। অর্থনৈতিক সহযোগিতা নয়, সহযোগিতা করুন কর্মক্ষেত্রে। শিল্পীদের সম্মানের সঙ্গে বাঁচার যে আকুতি ও অধিকার, সেখানে আপনি সংযুক্ত হতে পারেন কি না, ভাবুন।’


আলোচনায় আরও অংশ নিয়েছেন অভিনয়শিল্পী মামুনুর রশীদ, দিলারা জামান, ফেরদৌসী মজুমদারসহ অনেকে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, দেশের শিল্পচর্চা এবং শিল্পীদের সুরক্ষায় এখনই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনের জন্য সুষ্ঠু শিল্প ও সংস্কৃতিচর্চায় রাষ্ট্রীয়, সামাজিক, দলীয় এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ে নানামুখী উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন।

বিনোদন থেকে আরও পড়ুন

How did this article make you feel?

0 Comments

No comments yet. Be the first to share your thoughts!

Leave a Comment

Moderated — may take a moment.