পদ্মা ট্রিবিউন | বাংলা নিউজ পেপার
বাংলাদেশ রাজনীতি বিশ্ব বাণিজ্য মতামত খেলা বিনোদন চাকরি জীবনযাপন ভিডিও

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ, দায়িত্ব পালন করবেন স্পিকার

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে জানাতে বিকাল ৫টায় জাতীয় সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন | গ্রাফিক্স: পদ্মা ট্রিবিউন

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।


শুক্রবার বিকেলে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলে পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপতি বলেন, 'এটা তো সর্বজনবিদিত, আমার মুখ থেকে শুনে কী লাভ? আই অ্যাম সিক, সো ইট ইজ ডান (আমি অসুস্থ, তাই এটি চূড়ান্ত)।'


পদত্যাগপত্রে ইতিমধ্যে স্বাক্ষর করেছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'বলে তো দিলাম, বুঝে নিন।'


এদিকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে জানাতে বিকাল ৫টায় জাতীয় সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে।


উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগে ২০১১ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. সাহাবুদ্দিন। পরবর্তীতে ইসলামী ব্যাংকের একটি উচ্চপদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। সেখান থেকে পদত্যাগ করে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি শপথ নেন।


২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের দাবি তোলে। তাঁকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ আখ্যা দিয়ে বঙ্গভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচীও পালন করে আন্দোলনকারীরা। তবে সাংবিধানিক সংকট এড়াতে অন্তর্বর্তী সরকার সে সময় তাঁকে পদচ্যুত করতে সম্মত হয়নি। এতে সমর্থন ছিল না প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপিরও। ফলে একপর্যায়ে এ দাবি ঝিমিয়ে পড়ে।


আওয়ামী লীগ আমলে নির্বাচিত হলেও সংসদ বিলুপ্তির পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মো. সাহাবুদ্দিন। পদত্যাগের আন্দোলন স্তিমিত হলেও অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে প্রশাসনিক প্রজ্ঞাপন ও নিয়মিত দাপ্তরিক কাজ ছাড়া তাঁর তেমন কোনো ভূমিকা ছিল না। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে তাঁকে অধিকাংশ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি; এমনকি জাতীয় ঈদগাহেও তিনি ঈদের নামাজ আদায় করতে পারেননি।


এর আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মৌখিক নির্দেশনায় বিদেশের সব দূতাবাস ও কনস্যুলেট থেকে রাষ্ট্রপতির ছবি সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে হোয়াটসঅ্যাপে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘আমি অপমানিত বোধ করেছি এবং দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়ে চলে যেতে চাই।’ দূতাবাসগুলো থেকে রাতারাতি ছবি অপসারণের ফলে জনগণের কাছে ভুল বার্তা গেছে উল্লেখ করে তিনি নিজের গভীর ক্ষোভের কথা প্রকাশ করেছিলেন।


চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় জয়ের পর বিএনপি সরকার গঠন করলে রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের গুঞ্জন নতুন করে দেখা দেয়। মার্চে বিএনপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতার নাম এ পদের জন্য আলোচনায় এলেও দলের নীতিনির্ধারকেরা জানান, বর্তমান রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ হতে এখনো অনেকটা সময় বাকি থাকায় বিষয়টি নিয়ে তৎকালীন সময়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে সেই আলোচনার চার মাসের মাথায় এবার আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর পদত্যাগের খবর সামনে এল।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

How did this article make you feel?

Related Articles

0 Comments

No comments yet. Be the first to share your thoughts!

Leave a Comment

Moderated — may take a moment.