সুনামগঞ্জে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া
শনিবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা সদরের থানা ভবনের সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে মিছিল করাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা সদরের থানা ভবনের সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ফারুক আহমদ (৩০) নামের একজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ঘটনার পর উপজেলা সদরে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দুপুরে জামালগঞ্জ উপজেলা সদরে পৃথক দুটি মিছিল বের করে স্থানীয় বিএনপির দুটি পক্ষ। মিছিল দুটি থানার সামনের সড়কে মুখোমুখি হয়। এ সময় এক পক্ষ অন্য পক্ষকে সড়ক ছেড়ে দিতে রাজি না হলে নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পুলিশ এসে তাঁদের থামানোর চেষ্টা করে। এর মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হলে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। পরে লাঠিসোঁটা নিয়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ালে পাঁচজন আহত হন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুই পক্ষের নেতা-কর্মীদের মধ্যে এক পক্ষের নেতৃত্ব দেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শফিকুর রহমান, সদস্য মোহাম্মদ শাহজাহান, জুলফিকার চৌধুরীসহ অন্যরা। অন্য পক্ষের নেতৃত্বে আছেন যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুম মাহমুদ তালুকদার, যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল মালিকসহ অন্যরা।
মাসুম মাহমুদ তালুকদার বলেন, ‘আমাদের মিছিল শান্তিপূর্ণ ছিল। চারজন যুগ্ম আহ্বায়কসহ বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের অসংখ্য নেতা-কর্মী ছিলেন। তাঁরা আমাদের মিছিলের পথ আটকে লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালিয়েছেন। এতে আমাদের তিন-চারজন আহত হয়েছেন।’
অপর পক্ষের নেতা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জুলফিকার চৌধুরী বলেন, তাঁরা মিছিল শেষে উপজেলা পার্কে সমাবেশ করছিলেন। তখন প্রতিপক্ষের লোকজন মিছিল নিয়ে এসে সেখানে স্লোগান দিতে শুরু করেন। এতে উত্তেজনা দেখা দেয় এবং পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. বন্দে আলী বেলা দুইটার দিকে বলেন, মূলত দুটি মিছিল মুখোমুখি হওয়ায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এখন দুই পক্ষ দুই জায়গায় অবস্থান করছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে আছে।