পদ্মা ট্রিবিউন | বাংলা নিউজ পেপার
বাংলাদেশ রাজনীতি বিশ্ব বাণিজ্য মতামত খেলা বিনোদন চাকরি জীবনযাপন ভিডিও

ফ্যামিলি কার্ড শুমারির নিয়োগ নিয়ে ইউএনও ও ছাত্রদল নেতার উত্তপ্ত কথোপকথন

এতে নিয়োগের প্রক্রিয়া, গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য এবং রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে দুজনের মধ্যে উত্তপ্ত কথোপকথন শোনা যায়।

প্রতিনিধি রংপুর
ফোনালাপ
ফোনালাপ | প্রতীকী ছবি

রংপুরের পীরগঞ্জে পরিবার কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রাহক ও তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগকে কেন্দ্র করে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে নিয়োগের প্রক্রিয়া, গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য এবং রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে দুজনের মধ্যে উত্তপ্ত কথোপকথন শোনা যায়।


শুক্রবার রাতে মুঠোফোনে ওই দুজনের মধ্যে কথা হয়েছিল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান ও উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মিলু দুজনই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পরে কথোপকথনের অডিও ছড়িয়ে পড়ে।


এ সম্পর্কে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের একটি অংশ আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ছাত্রদলের শতাধিক আবেদনকারী থাকলেও একজনও নিয়োগ পাননি। এ বিষয়ে শিগগির সংবাদ সম্মেলন করে তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরার কথাও জানিয়েছেন তিনি।


অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান বলেছেন, নিয়োগে কোনো রাজনৈতিক দলের সুপারিশ নেওয়া হয়নি। লিখিত ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় যাঁরা ভালো করেছেন, তাঁদেরই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।


২ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের অডিওতে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আপনি (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা) এভাবে সরকারের ভাবমূর্তি ঠিক করলেন? এই জামায়াত আর আওয়ামী লীগগুলোকে দিয়ে?’ জবাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি জামায়াত-আওয়ামী লীগ চেনেন না, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে তথ্য নিয়ে এবং পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে নিয়োগ দিয়েছেন।’


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, তথ্য সংগ্রহকারী ১৮৫ জনের বিপরীতে আবেদন করেন ২ হাজার ৮২ জন এবং তত্ত্বাবধায়ক ১৯ জনের বিপরীতে আবেদন করেন ৩১৫ জন। গত ৩০ জুলাই যাচাই-বাছাই ও ব্যবহারিক পরীক্ষা হয়েছে। ৭ আগস্ট রাত আটটার দিকে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের ফলাফল প্রকাশিত হয়।


অডিওতে মোস্তাফিজুর রহমান দাবি করেন, তাঁর দেওয়া তালিকায় থাকা ছাত্রদলের নেতাদের কাউকেই রাখা হয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জবাবে বলেন, কোনো তালিকা দেখে নিয়োগ দেওয়া হয়নি, ব্যবহারিক পরীক্ষা বা মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর না পেলে কাউকে নেওয়ার সুযোগ নেই।


পরে মোস্তাফিজুর রহমান অভিযোগ করেন, পরিবার কার্ডের মতো বিএনপির ‘পরীক্ষামূলক প্রকল্পে’ রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত ব্যক্তিদের যুক্ত করা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, গোয়েন্দা সংস্থা থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কিছু ব্যক্তিকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কারও বিরুদ্ধে নির্ভরযোগ্য অভিযোগ থাকলে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে অন্যজনকে নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।


অডিও ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এটা সহজ বিষয়, আমি ভাত খাচ্ছিলাম, আমাকে কল দিল, কথোপকথন হয়েছে। এটা আবার উনিই রেকর্ড করছে। করে এটা নাকি কাকে কাকে দিয়েছে, কোনোভাবে এটা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলে আসছে আর কি।’


মোস্তাফিজুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘যারা নিয়োগ পাইছে, তাদের মধ্যে ২০ ভাগই আওয়ামী লীগ। আমরা ইতিমধ্যে ৮ থেকে ১০ জনের, ১২ জনের ছবি পাইছি, ভিডিও পেয়েছি, যারা বিগত দিনে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করত, তারা এখানে নিয়োগ পাইছে। তারপরে এখানে ৬০ ভাগ জামায়াত, জামায়াতের পরিবারের লোক। তারা সক্রিয় জামায়াত করতেছে।’


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ছাত্রদলের কাছে একটি তালিকা চেয়েছিলেন দাবি করে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমার ছাত্রদলের ছেলেপেলে প্রায় শতাধিকের ওপর আবেদন করছিল। তাদের একজনেরও রাখা হয় নাই, একজনকেও না। যেহেতু এইটা আমাদের পার্টিরই একটা প্রকল্প, ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন না হওয়ার জন্য আমাদের দলীয় লোকজন এখানে নিয়োগ পেলে তারা ভালোভাবে কাজ করত। এ নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছি।’


তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি কারও কোনো সুপারিশ নিই নাই। একজনেরও না, শূন্য। কোনো দলের, কোনো ব্যক্তির, কোনো সংবাদমাধ্যম কর্মীর, কোনো আত্মীয়স্বজন, কিছুই না! একদম শূন্য তদবিরে আমি কাজটা করছি, শুধু মেধার ভিত্তিতে।’ ছাত্রদলের একজনও কেন নির্বাচিত হননি, এ প্রশ্নের জবাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘পাইছে ৩৫-৪০। ৭০-এ পাস হওয়া লাগবে। তাহলে কীভাবে নিব?’

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

How did this article make you feel?

0 Comments

No comments yet. Be the first to share your thoughts!

Leave a Comment

Moderated — may take a moment.