পদ্মা ট্রিবিউন | বাংলা নিউজ পেপার
বাংলাদেশ রাজনীতি বিশ্ব বাণিজ্য মতামত খেলা বিনোদন চাকরি জীবনযাপন ভিডিও

ঈশ্বরদীতে শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠান ভাঙচুর করে পণ্ড করল বিএনপির এক পক্ষ

প্রতিনিধি পাবনা
অনুষ্ঠানস্থলে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে আছে চেয়ার
অনুষ্ঠানস্থলে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে আছে চেয়ার | ছবি: সংগৃহীত



পাবনার ঈশ্বরদীতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের অবসর নেওয়া উপলক্ষে আয়োজিত বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ভাঙচুর করে পণ্ড করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকে দাওয়াত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার তৈরি হলে একপর্যায়ে মঞ্চ, শামিয়ানা, চেয়ার ও টেবিল ভাঙচুর করা হয়। নষ্ট করে দেওয়া হয় অনুষ্ঠানের জন্য তৈরি করা খাবারও।


মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের ৭০ নম্বর জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জহুরুল ইসলামের অবসর উপলক্ষে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।


প্রত্যক্ষদর্শী ও আয়োজকদের সূত্রে জানা গেছে, অতিথি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা অনুষ্ঠানস্থলে আসতে শুরু করলে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের অনুসারী হিসেবে পরিচিত কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি সেখানে যান। তাঁরা অভিযোগ করেন, স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকে অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং সাবেক সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম সরদারকে প্রধান অতিথি করা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। এ নিয়ে আয়োজকদের সঙ্গে তাঁদের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে একপর্যায়ে অনুষ্ঠানস্থলে ভাঙচুর চালানো হয়। এতে মঞ্চের সাজসজ্জা, শামিয়ানা, চেয়ার ও টেবিল ভেঙে ফেলা হয় এবং রান্না করা খাবার নষ্ট করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি আর করা সম্ভব হয়নি।


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহীনা আক্তার, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুজ্জামান শেখ, পাবনা জেলা বিএনপির সাবেক মৎস্যবিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রশিদ সরদার এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির দুলাল সরদারকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করার কথা ছিল বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য মো. ফজলুর রহমানের।


এই বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, স্থানীয় বিএনপির অনেক নেতাকর্মীকে অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেওয়া হয়নি। অথচ দলের সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত কয়েকজন মানুষকে অতিথি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল এবং তা জেলা পর্যায়ের নেতাদেরও জানানো হয়েছিল। পরে সেখানে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। তবে ভাঙচুরের সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না বলে দাবি করেন।


বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জহুরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, শিক্ষকতা জীবন থেকে অবসর নেওয়া উপলক্ষে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এই সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবকে দাওয়াত না দেওয়ায় তাঁর অনুসারী হিসেবে পরিচিত উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম সরদার, সলিমপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আলম প্রামাণিকসহ ১২ থেকে ১৫ জন লাঠিসোঁটা নিয়ে মঞ্চে উঠে ভাঙচুর চালান।


উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির দুলাল সরদার বলেন, দলীয় বিরোধের জেরে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনা রাজনৈতিকভাবে নিন্দনীয়। বিষয়টি নিয়ে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে।


বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. ফজলুর রহমান বলেন, স্থানীয় বিএনপির ভেতরের দলাদলির জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে।


উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. শাহীনা আক্তার বলেন, অতিথিরা অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছানোর আগেই হামলা চালিয়ে পুরো আয়োজন পণ্ড করে দেওয়া হয়। একজন শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠানে এমন ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।


অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম সরদার এবং সলিমপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওর্য়াড বিএনপির সভাপতি আলম প্রামাণিকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশাদুর রহমান বলেন, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় লিখিত বা মৌখিক কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

How did this article make you feel?

Related Articles

0 Comments

No comments yet. Be the first to share your thoughts!

Leave a Comment

Moderated — may take a moment.