অবশেষে দেশে পৌঁছাল রূপপুরের ইউরেনিয়াম
২৪ সেপ্টেম্বর এ চালান আসার কথা থাকলেও পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় সেদিন তা আসতে পারেনি
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুরে নির্মাণাধীনপারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউরেনিয়ামের নতুন চালান শেষমেশ দেশে পৌঁছেছে। দেশের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে রিফুয়েলিংয়ের জন্য গত ২৪ সেপ্টেম্বর এ চালান আসার কথা থাকলেও পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় সেদিন তা আসতে পারেনি।
বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়রা) চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান জানান, শুক্রবার রাত পৌনে ১২টার দিকে ইউরেনিয়াম বহনকারী বিশেষ কার্গো ফ্লাইটটি ঢাকায় অবতরণ করেছে। রাশিয়ায় তৈরি চার ইঞ্জিনের ‘ইলিউশিন আইএল-৭৬’ মডেলের একটি বিমানে এ চালান দেশে আনা হয়।
এর আগে পাকিস্তান থেকে অনুমতি না পাওয়ার বিষয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘পাকিস্তান ক্লিয়ারেন্স দেয়নি। এখানে তো কয়েকটি দেশ রয়েছে—আজারবাইজান, কাজাখস্তান, পাকিস্তান এবং এরপর ভারত হয়ে বিমানে জ্বালানি আসে। পাকিস্তান থেকে যেহেতু আগে ক্লিয়ারেন্স এসেছে, এবারও পাওয়া যাবে। হয়তো কোনো তথ্যের ঘাটতি ছিল। আশা করি এটি সমাধান হয়ে যাবে।‘
মন্ত্রী শুক্রবার বিকেলে জানান, ইউরেনিয়াম বহনকারী বিমান ঢাকায় পৌঁছানোর পর তা নিরাপদে রূপপুরে স্থানান্তরের সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বরের মধ্যে মোট নয়টি চালানে (ফ্লাইটে) রূপপুরের জন্য আরও ইউরেনিয়াম দেশে আসার কথা রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ইউনিটের জন্য ৪৮টি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি আনার পরিকল্পনা রয়েছে। রাশিয়া থেকে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভারত হয়ে এসব চালান দেশে পৌঁছাবে।
রাশিয়ার ঋণ ও কারিগরি সহায়তায় রূপপুরে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে বাংলাদেশ। প্রকল্পটিতে এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে। রাশিয়ার সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তি অনুযায়ী ২০২৩ সালে প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা ছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় পারমাণবিক জ্বালানি ২০২৩ সালেই দেশে পৌঁছায়।
তবে করোনাভাইরাস মহামারি ও ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা ও আর্থিক লেনদেনে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় প্রকল্পটির বাস্তবায়ন পিছিয়ে যায়। এ ছাড়া ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি ছিল বলেও আলোচনা রয়েছে।
চলতি বছরের এপ্রিলে রূপপুরের প্রথম ইউনিটের চুল্লিপাত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি (ফুয়েল) লোডিং শুরু হলেও এখনো বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করা যায়নি। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে তা সম্ভব হয়নি। চলতি বছরেও উৎপাদনে যাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।