সাভারে ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে কিশোরকে পিটিয়ে অন্ধ করার অভিযোগ
সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে দীর্ঘ চিকিৎসাতেও তার শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি।
সাভার পৌর এলাকার রাজাশন মহল্লায় এক কিশোরকে নির্মমভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে সাভার থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন সামিরের বিরুদ্ধে। মারধরের শিকার ওই কিশোরের নাম রিপন দাস এবং তার বয়স ১৫ বছর। ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, গুরুতর আঘাতের কারণে ওই কিশোর এখন দুই চোখেই দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছে।
রিপনের মা বাসন্তী ঋষি জানান, নির্যাতনের কারণে ছেলের চোখ ও মাথায় মারাত্মক জখম হয়েছে। প্রথমে তাকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় নিউরোসায়েন্সেস ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে দীর্ঘ চিকিৎসাতেও তার শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি।
তিনি আরও জানান, চরম আর্থিক সংকটের কারণে উন্নত ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে না পেরে গত বৃহস্পতিবার তাকে বাড়ি ফিরিয়ে আনা হয়েছে। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে পরিবার জানায়, মাথায় প্রচণ্ড আঘাতের ফলে ভেতরে রক্তক্ষরণ হয়েছে এবং জরুরি ভিত্তিতে মাথায় অস্ত্রোপচার করা প্রয়োজন।
এই ঘটনায় নির্যাতিত কিশোরের বোনজামাই স্বপন চন্দ্র সূত্রধর গত বৃহস্পতিবার রাতে সাভার মডেল থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলায় ছাত্রদল নেতা মাহাবুব হোসেন সামিরকে প্রধান আসামি করে চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার বাদী স্বপন চন্দ্র সূত্রধর অভিযোগ করেন, শনিবার দুপুরে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতার মা ও মামা আনোয়ার হোসেন রাজাশন এলাকায় রিপন দাসের বাসায় যান। তাঁরা চিকিৎসার খরচ বাবদ ১০ হাজার টাকা দিয়ে থানা থেকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য পরিবারকে চাপ সৃষ্টি করেন।
এদিকে প্রধান অভিযুক্ত মাহাবুব হোসেন সামিরকে পুলিশ এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তবে তিনি এক সংবাদ সম্মেলন ডেকে নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেছেন। ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে তিনি জানান, ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না এবং রাজনৈতিকভাবে তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে।
ঘটনাটি প্রকাশ্য আসার পর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ছাত্রদল থেকে মাহাবুব হোসেন সামিরকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সাভার মডেল থানার পরিদর্শক তদন্ত নূর মোহাম্মদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এই নির্যাতনের ঘটনায় থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।