সরকারি দপ্তরে ছাত্রদল নেতার হুমকির অভিযোগ, ইউএনওর ভিডিও বার্তা
এদিকে নিরাপত্তার দাবিতে এবং ঘটনার প্রতিবাদে পরদিন পিআইও কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে কর্মবিরতি পালন করেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে ঢুকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফিয়া আমীন পাপ্পা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি সতর্কতামূলক ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন।
এদিকে নিরাপত্তার দাবিতে এবং ঘটনার প্রতিবাদে পরদিন পিআইও কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে কর্মবিরতি পালন করেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
জানা গেছে, মঙ্গলবার গৌরীপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাইসুল ইসলাম রিশাদ। তিনি তাঁর এলাকার একটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প ও সরকারি বরাদ্দসংক্রান্ত তথ্য জানতে চান। এ সময় কার্যালয়ের এক অফিস সহকারীর সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়।
অফিস সহকারীর অভিযোগ, প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া দাপ্তরিক তথ্য দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানালে রিশাদ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যান। পরে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। হুমকির পরও দৃশ্যমান কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ায় বুধবার সকালে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে কর্মবিরতি শুরু করেন।
এর মধ্যে বৃহস্পতিবার ইউএনও আফিয়া আমীন পাপ্পা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ ফেসবুকে ভিডিও বার্তা দেন। ভিডিও বার্তায় তিনি সরকারি কাজে বাধা না দিতে এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হুমকি দেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাইসুল ইসলাম রিশাদ। তিনি বলেন, ‘কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে হুমকি দেওয়া হয়নি। এলাকার একটি সড়কের কাজে অনিয়ম এবং সরকারি সেলাই মেশিন বিতরণে দুর্নীতির বিষয়ে জানতে আমি পিআইও ও ইউএনও কার্যালয়ে গিয়েছিলাম। এসব অনিয়ম তুলে ধরায় আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।’
ভিডিও বার্তা দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে ইউএনও আফিয়া আমীন পাপ্পা বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে। এরপরও কেউ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখালে বা সরকারি কাজে বাধা দিলে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
হুমকির ঘটনায় কোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা মামলা হয়েছে কি না জানতে চাইলে ইউএনও বলেন, ‘ওই রকম পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি।’ আর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।