আ.লীগের বিরুদ্ধে মিছিল করতে গিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৫
আওয়ামী লীগের নাশকতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী একটি র্যালি করার সময় বিএনপির দুই পক্ষ নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়ায়।
ঢাকার ধামরাইয়ে পূর্ববিরোধের জেরে ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি তমিজ উদ্দিন এবং ঢাকা জেলা যুবদলের সভাপতি ও ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। আওয়ামী লীগের নাশকতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী একটি র্যালি করার সময় বিএনপির দুই পক্ষ নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে জড়ায়।
শনিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার সুতিপাড়া ইউনিয়নের বালিথা এলাকায় একটি আঞ্চলিক সড়কে একেএইচ নামে পোশাক কারখানার পাশে এ ঘটনা ঘটে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তমিজ উদ্দিনের অনুসারীদের মধ্যে অন্তত দুজন এবং ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদের অন্তত তিনজন অনুসারী আহত হয়েছেন। তাঁরা হলেন—মো. শরিফুল ইসলাম (৪৪), বাবুল হোসেন, জাহিদ, নাজিরসহ আরও ২ জন। তবে কারওই বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি। তাঁরা ধামরাইয়ের সুতিপাড়া ইউনিয়নের বালিথা এলাকার বাসিন্দা বলে জানা যায়।
পুলিশ ও উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই উপজেলা বিএনপির সভাপতি তমিজ উদ্দিন ও ঢাকা জেলা যুবদলের সভাপতি ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ রয়েছে। এটিকে কেন্দ্র করে তৃণমূলেও আধিপত্য বিস্তার, ব্যবসা দখলসহ বিভিন্ন ইস্যুতে তাঁদের মনোমালিন্য রয়েছে।
শনিবার দুপুরের দিকে পূর্বঘোষণা অনুযায়ী তমিজ উদ্দিনের অনুসারীদের একটি অংশ ধামরাই উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের নাশকতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী একটি র্যালি বের করে। র্যালিটি একেএইচ নামে পোশাক কারখানার সামনে সমাপনী সমাবেশ করার সময় তাঁদের সঙ্গে থাকা মো. শরিফুল ইসলাম (৪৪) কিছুটা পেছনে যান। সেখানেই ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদের অনুসারীদের সঙ্গে তাঁর তর্ক বাধে। একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে সেখানে র্যালিতে থাকা অন্যরাও যান। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রমিজুর রহমান চৌধুরীর রুমার মেয়ের জামাইসহ অন্তত পাঁচজন আহত হন। তাঁদের ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হামলায় আহত হয়ে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সুতিপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরিফুল ইসলাম (৪৪)। মাথায় সেলাইয়ের কারণে কথা বলতে পারেননি তিনি। তাঁর মুঠোফোনে কল দিলে তিনি ফোনটি তাঁর সঙ্গে থাকা বন্ধু কামাল হোসেনকে দেন। কামাল হোসেন বলেন, ‘সে বিএনপির চলমান মিছিলে ছিল। তখন তাকে অতর্কিত হামলা করে। র্যালিটি বিভিন্ন এলাকায় প্রদক্ষিণ করে। এরপর বালিথা এলাকায় একেএইচের সামনে আসলে তারা হামলা করে। এতে শরিফুল ইসলামসহ আরও অনেকেই আহত হন।’
ধামরাই উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে সুতিপাড়া ইউনিয়ন বিএনপি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করে। সেটি শেষ করে বালিথা পূর্বপাড়া বাসস্ট্যান্ডে এসে সমাপ্তির প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। তখন কে বা কারা আমাদের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের ওপর হামলা করে। আমরা এ হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। প্রশাসনকে বলতে চাই, এখানে এখনও কীভাবে তারা থাকতে পারে? ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের গ্রেপ্তার করতে হবে। আমাদের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।’
ধামরাইয়ের সুতিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ধামরাই উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রমিজুর রহমান চৌধুরীর রুমা বলেন, ‘দুঃখজনক ঘটনা। ওখানে ২-৩ জন পোলাপান বসে ছিল। আমার মেয়ে জামাই ও এক ছেলে। তখন হামলা করে। চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কোপ দেয়। আমার মেয়ের জামাইয়ের ওপরও হামলা করে। অপরজনের আঙুল কেটে ফেলেছে। তারা মোটরসাইকেল দিয়ে মহড়া দিচ্ছিল, সেখান থেকেই হামলার ঘটনা ঘটে। পুরোটাই প্রতিহিংসা থেকে করেছে। আমার বাড়ির কাছে এসে হামলা করে বালিথা বাসস্ট্যান্ডের পাশে। এতে গুরুতর আহত হয় বাবুল হোসেন, আমার মেয়ের জামাই জাহিদ, নাজিরসহ আরও কয়েকজন। আমি এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেব।’
ধামরাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক বলেন, ‘বালিথা এলাকায় বিএনপির ফ্যাসিবাদবিরোধী একটি মিছিল হচ্ছিল। সেখানেই ফ্যাসিবাদের পক্ষের কিছু লোক তাদের ওপর হামলা করে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে রাখেনি। ঢাকায় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ফ্যাসিবাদ এখনও যায়নি। রমিজুর রহমান রুমা ১৭ বছর আওয়ামী লীগের সঙ্গে ছিল। সে আওয়ামী লীগের দালাল। সেই এসব করিয়েছে। সেই জড়িত।’
ধামরাই থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘বালিথা এলাকায় মাদকবিরোধী র্যালি চলাকালে উভয় পক্ষের সংঘর্ষ ঘটে। এতে অন্তত চারজন আহত হন। এর মধ্যে শরিফুল ইসলামের পক্ষে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য পদে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি তমিজ উদ্দিন ও ঢাকা জেলা যুবদলের সভাপতি ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ। দুজনই আলাদাভাবে নিজের অবস্থান জানান দেন। বিভিন্ন সমাবেশে একে অপরের বিষোদ্গার করেন। পরে তমিজ উদ্দিন মনোনয়ন পান ও নির্বাচিত হন। আর ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদকে ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগ করে সরকার।
সংঘর্ষের বিষয়ে জানতে ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি তমিজ উদ্দিনের মুঠোফোনে ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি। প্রশ্ন লিখে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠালেও তিনি জবাব দেননি।
এদিকে হোয়াটসঅ্যাপে কল দিলে ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদও ফোন ধরেননি।