ছাঁটাই বন্ধের দাবিতে বরিশালে ওষুধ কারখানার শ্রমিকদের কর্মবিরতি
![]() |
| ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালসের শ্রমিকেরা কর্মবিরতি পালন করছেন। শনিবার দুপুরে বরিশালের বিএম কলেজসংলগ্ন কারখানাটির প্রধান ফটকের সামনে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
বরিশালে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে একটি ওষুধ কারখানার শ্রমিকেরা কর্মবিরতি পালন করছেন। শনিবার সকাল থেকে নগরের বিএম কলেজ সংলগ্ন কারখানাটির প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে তারা কর্মসূচি চালাচ্ছেন।
আন্দোলনকারী শ্রমিকেরা জানান, ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড কারখানার শ্রমিকদের অবৈধ ছাঁটাই বন্ধ করা, ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের পুনর্বহাল, ২০২৫ সালের গেজেট অনুযায়ী বেতন স্কেল বাস্তবায়ন এবং নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র প্রদানের দাবিতে তারা কর্মবিরতি পালন করছেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
ছাঁটাই হওয়া শ্রমিক স্বপন হাওলাদার বলেন, দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে তিনি কারখানায় কাজ করছেন। কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই গত মঙ্গলবার তাকে কাজে যোগ না দিতে বলা হয়েছে। এতে তিনি পরিবার-পরিজন নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
কয়েকজন নারী শ্রমিক অভিযোগ করেছেন, কারখানা কর্তৃপক্ষ সামান্য কারণেই চাকরিচ্যুত করে। চার বছর ধরে তাঁদের বেতন বাড়ানো হয়নি, নিয়মিত বেতনও দেওয়া হয় না। কর্মক্ষেত্রে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। সম্প্রতি চারজন শ্রমিককে কোনো ঘোষণা ছাড়াই চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। প্রায়ই এমন ঘটনা ঘটে। অসহায় শ্রমিকেরা মালিকদের অন্যায় আচরণের প্রতিবাদ করার সাহস পান না। এবার তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে নেমেছেন। সব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
দুপুরে শ্রমিকদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন বরিশাল জেলা বাসদের সমন্বয়ক মনীষা চক্রবর্তী। তিনি বলেন, এই কারখানায় শ্রমিক নিয়োগ ও ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্রে শ্রম আইন মানা হয় না। ৩০ বছর চাকরির পরও শ্রমিককে হঠাৎ বের করে দেওয়ার ঘটনা এর প্রমাণ। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও অনিয়মের কারণে শ্রমিকেরা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন।
মনীষা অভিযোগ করেন, সরকার নির্ধারিত মজুরি কাঠামো না মেনে শ্রমিকদের দিয়ে দীর্ঘ সময় কাজ করিয়ে অস্বাভাবিক কম বেতন দেওয়া হচ্ছে, যা অমানবিক ও বেআইনি। তিনি দ্রুত শ্রম আইন অনুসরণ করে শ্রমিকদের সব দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।

Comments
Comments