তেলের ঘাটতি কৃত্রিমভাবে তৈরি হয়েছে কিছু মিডিয়া, অতি উৎসাহ ও চোরাচালানের কারণে: চিফ হুইপ
![]() |
| বিএনপির সংসদীয় দলের সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম। জাতীয় সংসদ ভবন। ২৮ মার্চ | ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া |
দেশে জ্বালানি সংকট সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম। তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের সরবরাহে ঘাটতি কৃত্রিমভাবে তৈরি হয়েছে কিছু গণমাধ্যমের কারণে এবং কিছু মানুষের অতিরিক্ত আগ্রহ ও চোরাচালানের কারণে। এটি যাতে না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়েছে।
জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিএনপির সংসদীয় দলের সভা শেষে চিফ হুইপ সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। তিনি জানান, তারেক রহমান সভায় তেলের মজুতদারি বন্ধ এবং চোরাচালান ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন।
নূরুল ইসলাম বলেন, তেলের কোনো ঘাটতি নেই। ইতিমধ্যে দুই লাখ টন তেল নিয়ে জাহাজ ঘাটে পৌঁছেছে, আরও দুই লাখ টন তেল শিগগিরই দেশে আসবে। তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সারা বিশ্বের অর্থনীতি অস্থির হয়ে পড়েছে। বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বেড়েছে। দেশে তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকার চেষ্টা করছে এবং প্রতি মাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়টি সংসদ সদস্যদের জানানো হয়েছে।
চিফ হুইপ বলেন, সংসদ নেতা তারেক রহমান সংসদ সদস্যদের সব জায়গায় সক্রিয় থাকতে বলেছেন, যাতে তেলের দাম না বাড়ে। তিনি প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন।
তেলের মজুতদারি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চোরাচালান বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন। সংসদে ৩০০ বিধিতে জ্বালানিমন্ত্রী বক্তব্য দেবেন বলেও সভায় জানানো হয়েছে।
চিফ হুইপ জানান, সংসদীয় দলের বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বাস ও ট্রেন দুর্ঘটনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা তুলে ধরেছেন।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা প্রথমবারের মতো মন্ত্রীদের সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে বাধ্য করেছেন, যাতে তাঁরা নিজ নিজ এলাকায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন। আগামীকাল বেলা দেড়টায় আবার সংসদীয় দলের বৈঠক হবে। প্রতি মাসে সংসদ সদস্যদের জন্য এমন ব্রিফিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে সরকার কীভাবে কাজ করছে এবং কী করতে চায়, তা তাঁরা জানতে পারেন।

Comments
Comments