ভেরিফিকেশন ফির কারণে বিদেশে পড়ার স্বপ্ন ভঙ্গ হচ্ছে ঢাবি শিক্ষার্থীদের
![]() |
| ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় | ছবি: সংগৃহীত |
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুন্সী শামস উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ভেরিফিকেশন ফি নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই ঘটনায় কোনো ভুল করেনি। তবে বিষয়টি জানার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সায়মা হক বিদিশা জানিয়েছেন, ফি নেওয়ার বিষয়টি তারা পুনর্বিবেচনা করবেন।
জিনিয়া তাসনিম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। একাডেমিক কোনো ঘাটতি না থাকলেও ঢাবির প্রশাসনিক জটিলতা, নথিপত্র তুলতে দেরি এবং হঠাৎ ‘ভেরিফিকেশন ফি’ চাওয়া তার বিদেশে উচ্চশিক্ষার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে।
জিনিয়া তাসনিম বলেন, ২০২০ সালের পর থেকে তিনি বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন শুরু করেন। শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে আবেদন করেছিলেন, কিন্তু ভিসার জটিলতার কারণে পরে ইউরোপে, বিশেষ করে সুইডেনে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর তিনি সুইডেনের দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে চারটি বিষয়ে আবেদন করেন, প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র জমা দেন এবং সাক্ষাৎকারও সম্পন্ন করেন।
তিনি জানান, আমি পুরো প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৩ হাজার টাকা আবেদন ফি, ৪–৫ হাজার টাকা কাগজপত্র কুরিয়ারের মাধ্যমে পাঠানোর খরচ এবং ট্রান্সক্রিপ্ট ও অন্যান্য কাজে আরও কয়েক হাজার টাকা ব্যয় করেছি। এত অর্থ খরচ হওয়ার পরও শুধুমাত্র এই অনাকাঙ্ক্ষিত প্রক্রিয়ার কারণে আমি সুযোগ হারিয়েছি।
জিনিয়ার এই ঘটনা জানার পর বিদেশি পড়াশোনা করা কিছু বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে সমালোচনা করছেন। তারা বলছেন, ক্রেডেনশিয়াল যাচাইয়ের জন্য বিদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণত কোনো ফি নেয় না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশি কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কোনো শিক্ষার্থীর সনদ যাচাইয়ের সুপারিশ এলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী তা পরিশোধ করে দেন। তবে জিনিয়া বলেন, বিষয়টি তিনি আগেই জানতেন না এবং বিশ্ববিদ্যালয়ও তাকে জানিয়েছে না।
![]() |
| সুইডেন থেকে পাঠানো ই–মেইলে জিনিয়া তাসনিমকে জানানো হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভেরিফিকেশন ফি চাইছে বলে তাঁর আবেদন বাতিল হয়েছে | ছবি: ইমেইলের স্ক্রিনশট |
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক জটিলতার অভিযোগ তুলেছেন জিনিয়া তাসনিম। রেজিস্ট্রার ভবনে ভোগান্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ট্রান্সক্রিপ্ট (শিক্ষা রেকর্ড) সংগ্রহের সময় রেজিস্ট্রার ভবনে আমাকে অনেক কষ্ট পোহাতে হয়েছে। জরুরি ফি দেওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ে ট্রান্সক্রিপ্ট পাইনি। আমাকে নিজেই কাগজপত্র খুঁজে বের করতে বলা হয়েছে, কর্মকর্তাদের অসহযোগিতা ও ভদ্র আচরণহীনতার সম্মুখীন হতে হয়েছে। একাধিকবার অফিসে এসে ছুটি নিয়ে গিয়েও কাজ শেষ করতে পারিনি।’
জিনিয়ার অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুন্সী শামস উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ভেরিফিকেশন ফি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী নেওয়া হয়। আমাদের ওয়েবসাইটে ভেরিফিকেশন ফি, ট্রান্সক্রিপ্ট ফি—সবকিছুই উল্লেখ করা আছে। শিক্ষার্থীরাও সাধারণত বিষয়টি সম্পর্কে অবগত থাকে।’
জিনিয়ার বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগামীকাল অফিসে এসে দেখতে পারব যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিঠিটা আমাদের কাছে কীভাবে এসেছে।
আমরা দেখব এসব ফি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত নিয়মের মধ্যে আছে কি না এবং সেগুলোর ক্ষেত্রে কোনো যৌক্তিকীকরণের সুযোগ রয়েছে কি না।
— সায়মা হক বিদিশা, সহ-উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সায়মা হক বিদিশা জানান, বিষয়টি তার নজরে এসেছে। তিনি রেজিস্ট্রারকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস এবং পরবর্তী সাপ্তাহিক ছুটির কারণে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
‘আগামী কর্মদিবসে রেজিস্ট্রারের সঙ্গে বসে পুরো বিষয়টির পেছনের প্রেক্ষাপট, সংশ্লিষ্ট ফি এবং ই–মেইলের বিষয়বস্তু বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হবে। আমরা দেখব, এসব ফি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত নিয়মের মধ্যে আছে কি না এবং সেগুলোর ক্ষেত্রে কোনো যৌক্তিকীকরণের সুযোগ আছে কি না,’ বলেন সায়মা হক বিদিশা।


Comments
Comments