মতলব উত্তরে জাটকা নিধনের মহোৎসব, নেপথ্যে দাদন ব্যবসা-প্রভাবশালী মহল
![]() |
| মেঘনায় চলছে জাটকা নিধন। আজ শুক্রবার সকালে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল এলাকায় | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় মেঘনা নদীর বিভিন্ন অংশে ব্যাপকভাবে জাটকা ও ইলিশ নিধন চলছে। এতে ইলিশের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জাটকা শিকার বন্ধ না হওয়ার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে আড়তদার ও মহাজনদের দাদন ব্যবসাকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় এই অবৈধ ব্যবসা চলছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জাটকা রক্ষা ও উৎপাদন বাড়াতে ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত মেঘনার মতলব উত্তরের ষাটনল থেকে হাইমচরের চরভৈরবী পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার এলাকায় সব ধরনের মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে মন্ত্রণালয়। এই সময়ে জাটকা ও ইলিশ ধরাসহ বিক্রি, পরিবহন ও মজুত রাখাও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
আজ শুক্রবার সকালে মতলব উত্তরের মোহনপুর, নাওভাঙা, জয়পুর, আমিরাবাদ ও ষাটনলসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নদীর মাঝখানে একাধিক ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে জেলেরা জাল ফেলে মাছ ধরছেন। অভিযানকারীদের চোখ ফাঁকি দিতে জেলেরা সাধারণত গভীর রাত বা ভোররাতে নদীতে নামেন। জাল পেতে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করে সুবিধামতো সময়ে মাছ তুলে দ্রুত সটকে পড়েন তাঁরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রশাসন ও নৌ পুলিশের অভিযান চললেও জেলেরা প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জাটকা শিকার করছেন। অনেক সময় অভিযানের খবর আগেভাগে জেলেদের কাছে পৌঁছে যায় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নাওভাঙা ও জয়পুর এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানান, জাটকা শিকারের মূল কারিগর মূলত আড়তদার ও মহাজনেরা। জাল, ট্রলারের ডিজেল ও জেলেদের খাওয়ার খরচ—সবই তাঁরা জোগান দেন। বিনিময়ে জেলেরা শিকার করা মাছ তাঁদের কাছে দিতে বাধ্য হন। জাটকা নিধন বন্ধ করতে হলে এই দাদন ব্যবসা ও নেপথ্যের প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস বলেন, মহাজন বা আড়তদারদের ‘চাপে পড়েই’ জেলেরা মূলত নদীতে নামছেন। এই সময়ে নদীতে প্রচুর মাছ থাকে এবং গোপনে বিক্রি করে ভালো টাকা পাওয়া যায়। প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি।
মৎস্য কর্মকর্তা আরও জানান, জাটকা রক্ষায় প্রতিদিন সাঁড়াশি অভিযান চালানো হচ্ছে। গত রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১৪টি অভিযানে ১০০ কেজি জাটকা, ১ লাখ মিটার জাল ও ৩টি নৌকা জব্দ করা হয়েছে। ২২ জন জেলেকে আটক করে ৬ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, উপজেলার নিবন্ধিত ৫ হাজার ১৫০ জেলের প্রত্যেককে মাসে ৪০ কেজি করে ভিজিএফের চাল দেওয়া হচ্ছে।

Comments
Comments