[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

হামে আক্রান্ত শিশুদের জন্য নেই আইসিইউ, রাজশাহীতে ৩ জনের মৃত্যু

প্রকাশঃ
অ+ অ-
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুরা। শনিবার বিকেলে হাসপাতালের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন  

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড থেকে হামে আক্রান্ত চার শিশুকে গত বৃহস্পতিবার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে তিনজন মারা গেছেন। বেঁচে থাকা শিশু জান্নাতুল মাওয়াকে বিকেলে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আরও তিন শিশুকে আইসিইউতে নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

চলতি মাসে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোট ১২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে আইসিইউতে নেওয়ার পরও ৯ শিশুকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে সাধারণ ওয়ার্ডের কোনো তথ্য জানা যায়নি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় ১৮ মার্চ রাজশাহী বিভাগের ১৫৩ রোগীর নমুনা পরীক্ষা করে ৪৪ জনের হাম পজিটিভ পাওয়া গেছে। আক্রান্তের হার প্রায় ২৯ শতাংশ। তার মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী ও পাবনায় সংক্রমণ বেশি হয়েছে।

 

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ হাম রাজশাহী অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় ১৮ মার্চ রাজশাহী বিভাগের ১৫৩ রোগীর নমুনা পরীক্ষা করা হয়, এর মধ্যে ৪৪ জনের হাম পজিটিভ ধরা পড়ে। আক্রান্তের হার প্রায় ২৯ শতাংশ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী ও পাবনায় সংক্রমণ বেশি হয়েছে।

১ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত রাজশাহীতে ৮৪ জন হামের রোগীকে আইসিইউতে নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আইসিইউতে নেওয়ার পরও ৯ জন এবং আইসিইউর অপেক্ষায় থাকা তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

পাবনায় সকাল পর্যন্ত হামে আক্রান্ত ২৬ শিশু ‘হাম ওয়ার্ডে’ চিকিৎসাধীন ছিলেন। তবে পাবনায় কোনো মৃত্যু খবর পাওয়া যায়নি। চাঁপাইনবাবগঞ্জে গত তিন মাসে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সকাল পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি ছিল ৭০ শিশু।

পাবনা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের অবস্থা বেশি খারাপ। পাবনা সদর হাসপাতালে আজ ২৬ জন হামের রোগী ভর্তি ছিল। আলাদা ওয়ার্ডে রেখে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পাবনায় মৃত্যুর তথ্য তিনি দিতে পারেননি।
হাবিবুর রহমান, পরিচালক, রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের শিশু ও নবজাতক বিভাগের কনসালট্যান্ট মাহফুজ রায়হান জানান, সকাল পর্যন্ত ৭০ শিশু হাম ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন। বিকেলের ছুটি দেওয়ার পর প্রায় ৫০ শিশু বাকি ছিল। গত তিন মাসে চারজন শিশু মারা গেছে, এর মধ্যে চলতি মাসেই দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তিন মাস ধরে তারা আলাদা ওয়ার্ডে রেখে শিশুদের চিকিৎসা দিচ্ছেন।

রাজশাহী মেডিকেলে চিকিৎসাধীন হামে আক্রান্ত চার শিশুকে বৃহস্পতিবার আইসিইউতে নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে জহির ও হুমায়রা শুক্রবার সকালে মারা গেছে। আরেক শিশু হিয়ার খোঁজ নিতে তার বাবা রিফাতকে ফোন করলে তিনি বলেন, ‘আর খোঁজ নিয়ে কী হবে ভাই, যার খোঁজ নেওয়া, সেই তো আর নাই।’

অন্য শিশু জান্নাতুল মাওয়ার বাবা হৃদয় জানিয়েছেন, তার মেয়েকে বিকেলে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সাধারণ রোগীদের সঙ্গে ছোঁয়াচে হামের রোগীদের রাখার বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর চিকিৎসকদের নিয়ে বৈঠক করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বৈঠকের বিষয়ে জানতে শিশু বিভাগের প্রধান শাহিদা ইয়াসমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এখন থেকে এসব বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক নিজেই কথা বলবেন।

তবে হাসপাতালের পরিচালকের মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। হাসপাতালের মুখপাত্র শঙ্কর কে বিশ্বাস জানান, একটি বৈঠক হয়েছে। হাসপাতালের নিজস্ব সংক্রামক ব্যাধি ইউনিট থাকলেও সেখানে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় রোগী পাঠানো সম্ভব হয়নি। তিনি আরও জানান, আলাদা ওয়ার্ড করা সম্ভব না হলেও ২৪ ও ১০ নম্বর ওয়ার্ডে রোগীদের আলাদা রাখার বিশেষ জায়গার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানেই এখন থেকে হামের রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হবে।

বিকেলে হাসপাতালের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে রোগীদের আলাদা রাখার এমন কোনো ব্যবস্থা দেখা যায়নি। তবে ১০ নম্বর ওয়ার্ডে ডায়রিয়া ও ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত স্থানের পাশে ‘হামের জন্য বিশেষ জায়গা’ লেখা দুটি কাগজ লাগানো দেখা গেছে। সেখানে দুই পাশে পাঁচটি করে মোট দশটি শয্যা রয়েছে। ওই শয্যাগুলোতে থাকা রোগীদের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বজনরা জানান, তাঁদের শিশুদের ডায়রিয়া হয়েছে।

হাম ছোঁয়াচে রোগ হলেএ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অন্য শিশুদের সঙ্গে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। শনিবার বিকেলে হাসপাতালের ১০নম্বর ওয়ার্ডে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন  

২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বারান্দায় একটি শয্যায় নিজের বাচ্চাকে রেখে চিকিৎসা করাচ্ছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বারোরসিয়া গ্রামের মোহাম্মদ ওয়াসিম। তিনি বলেন, তিন দিন আগে হাসপাতালে আসার সময় বাচ্চার হাম সমস্যা ছিল না। ঠান্ডা জ্বর ও নিউমোনিয়ার সমস্যা নিয়ে এসেছিলেন। হাসপাতাল আসার পর জানতে পারলেন, বাচ্চা হাম আক্রান্ত। তিনি বলেন, নার্সদের কাছ থেকে শুনেছেন, এটি মারাত্মক ছোঁয়াচে রোগ। একই ওয়ার্ডে আরও অনেক শিশু হাম আক্রান্ত অবস্থায় ভর্তি আছে।

সেই সঙ্গে, সকালে যে তিন শিশুকে আইসিইউতে নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে, তার মধ্যে চারঘাটের কুলসুম আক্তার রাফিয়ার টিকার কার্ডে দেখা যায়, ৯ মাসে যে হামের টিকা দেওয়া হয়, তা তার কার্ডে উল্লেখ নেই। তবে ৯ মাস বয়সের আগেই অনেক শিশু হাম আক্রান্ত হচ্ছে।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, তিনি পরিস্থিতি দেখতে পাবনায় গিয়েছিলেন। পাবনা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। পাবনা সদর হাসপাতালে ২৬ জন হামের রোগী ভর্তি ছিলেন। তাদের আলাদা ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে পাবনায় মৃত্যুর তথ্য তিনি দিতে পারেননি। ১৮ মার্চের পরের তথ্য জানতে চাইলে তিনি জানিয়েছেন, রোববার এই তথ্য দেওয়া হবে।

হাবিবুর রহমান আরও বলেন, বিভাগের সব জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা হাসপাতালগুলোয় আগেই তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও পাবনায় আক্রান্ত রোগীদের আলাদা করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। রাজশাহীর ব্যাপারে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিয়েছেন।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন