[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

‘আমাদের মাকে ফিরিয়ে দেন, না হলে খুনিদের ফাঁসি দিন’

প্রকাশঃ
অ+ অ-
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হত্যার ঘটনায় খুনিদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন। আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সামনে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন   

‘আমাদের মাকে ফিরিয়ে দেন। তা না হলে মায়ের হত্যাকারীদের ফাঁসি দিন। আমার ভাইবোনগুলো রাতে ঘুমাতে পারে না। আমাদের মা রাতে কত আদর করে ঘুম পাড়িয়ে দিত। আমাদের মাকে কোথায় পাব?’

কথাগুলো বলছিল ১০ বছর বয়সী শিশু ইফফাত তাইবা। সে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিহত শিক্ষক আসমা সাদিয়ার বড় মেয়ে। শনিবার সকালে মায়ের খুনিদের ফাঁসির দাবি নিয়ে মানববন্ধনে আসে সে। বাবা ইমতিয়াজ সুলতানের সঙ্গে ইফফাতের অন্য তিন ভাইবোনও আসে। তারা হলো জান্নাতুল বুশরা (৭), আবরার সাজিদ (৩) ও আয়েশা (১৩ মাস)।

সকাল ১০টার দিকে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সামনে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং পরিবারের ব্যানারে মানববন্ধন হয়। বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলে। আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য বক্তারা প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেন। তা না হলে সারা দেশে বড় আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

মানববন্ধনে আসমার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান অভিযোগ করে বলেন, ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) তদন্ত কর্মকর্তাকে বিশ্বাস করতে পারছি না। তাঁরা বিভিন্ন ধরনের কথা বলছেন। তাঁদের প্রতি আস্থা নেই।’

গত বুধবার বিকেলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজ দপ্তরে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা (৩৫) নিহত হন। একই সময় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকে (৩৫) ওই কক্ষ থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। সেদিন থেকেই তাঁকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

সকাল ১০টার দিকে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সামনে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং পরিবারের ব্যানারে মানববন্ধন শুরু হয় | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন   

গত বুধবার রাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় আসমার স্বামী মো. ইমতিয়াজ সুলতান বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলার এজাহারে তিনি অভিযোগ করেন, বিভাগের দুই শিক্ষক ও এক কর্মকর্তার দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ও নির্দেশে কর্মচারী খন্দকার ফজলুর রহমান আসমা সাদিয়াকে হত্যা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়েছে, তবে সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।

মামলার এজাহারভুক্ত ২ নম্বর আসামি বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস উম্মুল মোমেনিন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার। কিছুদিন আগে সমাজকল্যাণ বিভাগ থেকে তাঁকে সেখানে বদলি করা হয়। এ ছাড়া ৩ ও ৪ নম্বর আসামি হলেন যথাক্রমে সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও হাবিবুর রহমান। শ্যাম সুন্দর এর আগে আসমা সাদিয়ার বিভাগের সভাপতি ছিলেন।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন