[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

সাবেক উপদেষ্টা আদিলুর রহমানের বাড়ির সামনে সড়ক নির্মাণ নিয়ে বিতর্ক

প্রকাশঃ
অ+ অ-
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় সাবেক উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানের পৈতৃক বাড়ির সামনে এই সড়ক নির্মাণ করাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সোমবার তোলা  | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের শিল্প, গৃহায়ণ ও গণপূর্তবিষয়ক উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানের পৈতৃক বাড়ির সামনে একটি সড়ক নির্মাণ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সাবেক উপদেষ্টাকে সুবিধা দিতে প্রভাব খাটিয়ে একটি পরিবারের ঘরবাড়ি ভেঙে ও জমি দখল করে সড়কটি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। তবে প্রশাসনের দাবি, কোনো ব্যক্তিগত জমিতে নয় বরং সরকারি জমিতে নিয়ম মেনেই জনসাধারণের জন্য সড়কটি নির্মাণ করা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তথ্য অনুযায়ী, ষোলঘর ইউনিয়নের ভূইয়াপাড়া এলাকায় ভূইয়াবাড়ি থেকে পালবাড়ি পর্যন্ত ৪০২ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১২ ফুট প্রস্থের এই আরসিসি সড়কটি নির্মাণ করা হয়েছে। ‘ওরিয়া কনস্ট্রাকশন’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ৯৩ লাখ ৪৯ হাজার ৫৮৯ টাকা ব্যয়ে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাজ শুরু করে ডিসেম্বরে তা শেষ করে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মূল সড়কটি ১০-১২ ফুট চওড়া হলেও নবনির্মিত সড়কটি অন্তত ১৪ ফুট প্রশস্ত। পালবাড়ির অংশে এর প্রস্থ প্রায় ১৮ ফুট। এই সড়কের মাঝামাঝি এলাকাতেই সাবেক উপদেষ্টা আদিলুর রহমানের পৈতৃক বাড়ি অবস্থিত।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্রিটিশ আমল থেকেই ওই এলাকায় একটি সরু পায়ে চলার পথ ছিল। সড়কটির প্রবেশমুখে ‘পালবাড়ি’ নামে হরোমোহন ধুপিদের ২৪ শতাংশ জমি ছিল। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় তাঁরা ভারতে চলে গেলে ওই জমি লুৎফে হাবীবদের দাদা লুৎফে আলী ভূইয়া কিনে নেন বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, জমিটি কেনা হয়নি। ২০০৪ সালে সড়কটি পাকা ও প্রশস্ত করার উদ্যোগ নিলে লুৎফে হাবীবরা বাধা দেন, যা নিয়ে আদিলুর রহমান খানদের সঙ্গে তাঁদের বিরোধের সূত্রপাত হয়।

২০০৭ সালে জেলা প্রশাসন ওই জায়গা সরকারের পক্ষে নিতে মামলা করে। তবে ২০১৮ সালে নিম্ন আদালত লুৎফে হাবীবদের পক্ষে রায় দেন। পরবর্তীতে সরকার পক্ষ এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আদিলুর রহমান উপদেষ্টা হলে জেলা প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে আপিল করে।

জেলা প্রশাসন জানায়, হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের রায় খারিজ করে লুৎফে হাবীবদের দখলে থাকা ১২ শতাংশ জমি খাস খতিয়ানভুক্ত করেন এবং অবশিষ্ট ১২ শতাংশের দলিল যাচাইয়ের নির্দেশ দেন। এরপর গত বছরের শেষ দিকে ওই জায়গায় খাস সম্পত্তির সাইনবোর্ড টানানো হয়। তবে গত বছরের ১৯ আগস্ট আদালতের এক আদেশে বলা হয়েছিল, রাষ্ট্র যদি বৈধ প্রমাণের মাধ্যমে দেখাতে পারে যে ওই জমির কোনো বৈধ মালিক বা রক্ষণাবেক্ষণকারী নেই, তবেই মালিকানা রাষ্ট্রের অনুকূলে যেতে পারে।

ভুক্তভোগী লুৎফে হাবীব অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাদের জায়গায় ২০টি পরিবার বসবাস করত। দীর্ঘদিন ধরে জায়গাটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছিল। আদালতে স্থিতাবস্থা থাকা সত্ত্বেও আদিলুর রহমানকে সুবিধা দিতে জেলা প্রশাসন জায়গাটি খাস ঘোষণা করে। রাজউকের লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন জোর করে মনগড়া সড়ক বানিয়েছে। আমাদের ঘরবাড়ি ভেঙে ১২ ফুটের সড়ককে নিয়মবহির্ভূতভাবে ১৮-২০ ফুট বানানো হয়েছে।’

বসতভিটার আরেক মালিক শারমিন রহমানের পক্ষে কাজী রুবেল জানান, ৮-১০ ফুটের সড়ক হলে তাঁদের কোনো আপত্তি ছিল না এবং সেই অনুযায়ী তাঁরা জায়গা ছেড়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের কেনা সম্পত্তিকে খাস বানিয়ে ঘরবাড়ি ভাঙা হয়েছে। তাঁরা বর্তমান সরকারের কাছে এর ন্যায়বিচার চান।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘ওরিয়া কনস্ট্রাকশন’-এর কর্ণধার সাইফুর রহমান জানান, ১২ ফুটের অনুমোদন নিয়ে কাজ শুরু হলেও গাড়ি চলাচলের সুবিধার্থে প্রকল্প-সংশ্লিষ্টদের নির্দেশে কোনো কোনো জায়গায় রাস্তাটি ১৬ ফুটের বেশি প্রশস্ত করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কথা বলতে শ্রীনগর উপজেলা প্রকৌশলী মো. মহিফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

মুন্সিগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী বলেন, খাস খতিয়ানভুক্তের সাইনবোর্ড দেওয়া হলেও আদালতে স্থিতাবস্থার কথা জানতে পেরে তা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সড়কটি ১২ ফুটের চেয়ে কতটুকু বেশি করা হয়েছে, তা সরেজমিনে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে সড়কটি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও স্থানীয় পথচারী ও চালকেরা খুশি। তাঁরা জানান, আগে কাঁচা রাস্তা থাকায় বৃষ্টির সময় কাদা-পানিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। এখন সড়কটি পাকা হওয়ায় বাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত সহজ হয়েছে। 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন