গ্রিস উপকূলে ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু, ২১ বাংলাদেশিকে জীবিত উদ্ধার
![]() |
| জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে গ্রিস উপকূলে অন্তত ১০৭ জন অভিবাসী মারা গেছেন অথবা নিখোঁজ হয়েছেন | ফাইল ছবি |
ছয় দিন সাগরে ভেসে থাকার পর গ্রিসের উপকূলে কমপক্ষে ২২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে। তাঁরা উত্তর আফ্রিকা থেকে রাবারের নৌকায় করে সমুদ্রপথে ইউরোপ যাচ্ছিলেন। ওই যাত্রা থেকে বেঁচে ফেরা ব্যক্তিরা গ্রিসের উপকূলরক্ষী বাহিনীকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে উপকূলরক্ষী বাহিনী জানায়, ক্রিট দ্বীপের উপকূল থেকে ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থার একটি জাহাজ এক নারী ও এক শিশুসহ ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে।
পরে উপকূলরক্ষী বাহিনী জানায়, ওই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে ২১ জন বাংলাদেশি, ৪ জন দক্ষিণ সুদানি এবং চাদের একজন নাগরিক বেঁচে ফিরেছেন।
বেঁচে ফেরা ব্যক্তিরা জানান, নৌকায় থাকা এক মানব পাচারকারীর নির্দেশে মৃতদের মরদেহ ভূমধ্যসাগরে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
উপকূলরক্ষী বাহিনী জানিয়েছে, বেঁচে ফেরা দুই ব্যক্তিকে ক্রিট দ্বীপের একটি শহরের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের বক্তব্য অনুযায়ী, ২১ মার্চ লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলের বন্দর শহর তোবরুক থেকে নৌকাটি গ্রিসের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। ইউরোপীয় ইউনিয়নে আশ্রয়প্রার্থী অনেক অভিবাসীর জন্য গ্রিসই প্রধান প্রবেশপথ।
উপকূলরক্ষী বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, ‘যাত্রাপথে নৌকার যাত্রীরা দিক হারিয়ে ফেলেন এবং ছয় দিন খাবার ও পানি ছাড়াই সাগরে ভেসে থাকেন।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘মানব পাচারকারীদের একজনের নির্দেশে মৃতদের মরদেহ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়।’
গ্রিস কর্তৃপক্ষ ১৯ ও ২২ বছর বয়সী দুই দক্ষিণ সুদানি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁরা মানব পাচারকারী বলে ধারণা করা হচ্ছে। ‘অবৈধ প্রবেশ’ এবং ‘অবহেলার কারণে মৃত্যুর’ অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।
অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বহনকারী নৌকাটি দক্ষিণ ক্রিট উপকূলের শহর ইয়েরাপেত্রা থেকে ৫৩ নটিক্যাল মাইল, অর্থাৎ প্রায় ৯১ কিলোমিটার দক্ষিণে ছিল।

Comments
Comments