[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

শ্রম অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তর ও বাস্তবায়নের দাবি তাসলিমা আখতারের

প্রকাশঃ
অ+ অ-
বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন (বাজাফে–১২) আয়োজিত মানববন্ধন। শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন  

শ্রমিক অধিকার ও শ্রম খাতের সংস্কারের জন্য প্রণীত শ্রম অধ্যাদেশ (২০২৫) দ্রুত আইনে পরিণত করে তা বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপতি ও সাবেক শ্রম সংস্কার কমিশনের সদস্য তাসলিমা আখতার।

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘জাতীয় সংসদের প্রতি আহ্বান, শ্রমিক অধিকার ও শ্রম খাতের সুরক্ষা–সংস্কারে শ্রম অধ্যাদেশ (২০২৫) আইনে পরিণত করো’ শীর্ষক এক মানববন্ধনে তিনি এ আহ্বান জানান। মানববন্ধনের আয়োজন করে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন (বাজাফে–১২)।

তাসলিমা আখতার বলেন, শ্রমিক, মালিক ও সরকারের যৌথ প্রচেষ্টায় তৈরি এই অধ্যাদেশ সংসদে আইনে পরিণত হওয়া উচিত। এ দায়িত্ব নির্বাচিত সরকারের।

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, এই নির্বাচিত সরকার এবং যাঁরা সংসদ সদস্য হয়েছেন, তাঁরা যদি জনগণের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হন, যদি জনগণের আন্দোলনের ভিত্তিতে দাঁড়িয়ে থাকেন, তাহলে তাঁরা অবশ্যই এই আইন পাস করবেন।’

বর্তমান সংসদ একটি ঐতিহাসিক গণ–অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গঠিত হয়েছে, যেখানে ছাত্র, পেশাজীবী, নারী ও শ্রমিকেরা প্রাণ দিয়েছেন। এই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই সরকার নির্বাচিত হয়েছে। তাই অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে শ্রম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ ও ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের মাধ্যমে যে শ্রম অধ্যাদেশ তৈরি হয়েছে, তা আইনে পরিণত করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তাসলিমা আখতার।

তিনি বলেন, ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে শ্রম অধ্যাদেশ একটি। সংসদ চলাকালে ৩০ দিনের মধ্যে এগুলো বিল আকারে পাস না হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। এই অধ্যাদেশে শ্রমিকদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সংগঠন করার অধিকার, ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের শর্ত সহজ করা, উৎসব ও মাতৃত্বকালীন ছুটি বৃদ্ধি, তিন বছর পরপর মজুরি পর্যালোচনা এবং যৌন নিপীড়নবিরোধী নীতিমালা যুক্তসহ ১২৫টি ধারা সংশোধন, সংযোজন ও পরিবর্তন করা হয়েছে।

তাসলিমা আখতার বলেন, এই শ্রম অধ্যাদেশ শুধু শ্রমিকদের জন্য নয়, পুরো শ্রম খাত ও উৎপাদনশীলতার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক আলীফ দেওয়ান বলেন, ২০২৫ সালের শ্রম আইন সংশোধন ২০২৬ সালের সংসদে বাস্তবায়ন করা উচিত। দেশে শ্রমিকদের জন্য একটি জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করতে হবে। বিভিন্ন শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। তাঁরা রিকশা চালানো বা হকারি করার মতো পেশায় যেতে বাধ্য হচ্ছেন। নতুন সরকার যেন বন্ধ শিল্পকারখানা চালু করা ও নতুন শিল্পকারখানা গড়ে তোলার দিকে গুরুত্ব দেয়।

নারী সংহতির সাধারণ সম্পাদক অপরাজিতা দেব বলেন, ‘একটি দেশ গণতন্ত্রের পথে কতটা এগিয়েছে, তা নির্ভর করে সেই দেশের শ্রমিক, নারী ও আদিবাসী জনগোষ্ঠী কতটা তাদের অধিকার পেয়েছে, তার ওপর।’

সরকার যদি সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তাহলে জনগণ ও শ্রমিকদের জন্য মানসম্মত পরিবেশ ও যথাযথ মজুরি নিশ্চিত করতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

বহুমুখী শ্রমজীবী সমিতির সভাপতি বাচ্চু ভূঁইয়া বলেন, গণ–অভ্যুত্থানের পর শ্রম কমিশন গঠন করা হয়েছিল। শ্রমিক সংগঠনগুলোর মতবিনিময় সভায় দেওয়া প্রস্তাবগুলো সরকারের কাছে পৌঁছেছে। তাঁরা চান, সরকার সেগুলো বাস্তবায়ন করুক।

মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন হাতিরঝিল সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান শাহাদাত হাওলাদার, কার ইউনিয়ন শ্রমিক সংহতির সংগঠক শহীদসহ অন্য শ্রমিকনেতারা।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন