[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

ভালুকায় বেতন-বোনাসের দাবিতে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ, পুলিশের লাঠিপেটা

প্রকাশঃ
অ+ অ-
ময়মনসিংহের ভালুকায় বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাসের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে রাখলে শ্রমিকদের সরিয়ে দেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। বুধবার বেলা সোয়া দুইটার দিকে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

ময়মনসিংহের ভালুকায় বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাসের দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন একটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা। এতে মহাসড়কটিতে প্রায় তিন ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে এবং যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

বুধবার বেলা ১১টা থেকে বেলা সোয়া দুইটা পর্যন্ত শ্রমিকেরা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। সোয়া দুইটার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা লাঠিপেটা করে শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেন। এ সময় ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়া শ্রমিকেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরে বিকেল থেকে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

পুলিশ ও আন্দোলনরত শ্রমিক সূত্রে জানা গেছে, ভালুকা পৌরসভার কাঁঠালী এলাকায় অবস্থিত ‘শেফার্ড জিনস লিমিটেড’ নামের ওই কারখানায় অন্তত দুই হাজার শ্রমিক কাজ করেন। বুধবার বেলা ১১টার দিকে শ্রমিকেরা কারখানার সামনে থেকে বেরিয়ে মহাসড়কে অবস্থান নেন। তাঁদের অভিযোগ, এখনো তাঁদের ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন দেওয়া হয়নি। এছাড়া ঈদ বোনাস এবং চলতি মাসের অর্ধেক বেতন দেওয়ার কথা থাকলেও মালিকপক্ষ তা পরিশোধ করেনি।

শ্রমিকেরা আরও জানান, গতকাল মঙ্গলবার বকেয়া বেতন দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু বেতন না দিয়ে পুলিশ দিয়ে কারখানা ঘিরে রাখা হয়। এই ক্ষোভ থেকে গতকাল রাতেও শ্রমিকেরা আন্দোলন করেছিলেন।

ভালুকা মডেল থানা-পুলিশ জানায়, শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকায় একপর্যায়ে ব্যবস্থা নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

ময়মনসিংহের ভালুকায় বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাসের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকেরা। বুধবার দুপুরে উপজেলার কাঁঠালী এলাকায় | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

ময়মনসিংহের ভালুকায় শেফার্ড জিনস লিমিটেড কারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাসের দাবিতে চলমান আন্দোলনে উঠে এসেছে শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার চিত্র। আন্দোলনরত শ্রমিকদের অভিযোগ, প্রায় দুই বছর ধরে বেতন নিয়ে এই টালবাহানা চলছে এবং বর্তমানে মালিকপক্ষ বা কারখানা কর্তৃপক্ষের কাউকেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

আন্দোলনরত শ্রমিক রাহিমা আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের কারখানায় প্রায় দুই বছর ধরেই বেতন নিয়ে সমস্যা চলছে। কিছুদিন পরপর আন্দোলন করে বকেয়া বেতন নিতে হয়। গতকাল বকেয়া দেওয়ার কথা থাকলেও দুপুর থেকে পুলিশ এনে কারখানা ভরে রাখা হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘বেতনের বিষয়ে জানতে গেলে জিএম (জেনারেল ম্যানেজার) কিছুই বলছেন না। আমাদের আগে বলা হতো কোম্পানিতে ওনার ৫০ শতাংশ শেয়ার আছে, কিন্তু এখন বলছেন শেয়ার নেই, বেতন দিতে পারবেন না। আমরা কী খেয়ে বাঁচব? আমাদের ন্যায্য বেতন, বোনাস আর ছুটির টাকা চাই।’

শান্ত আহমেদ নামের আরেক শ্রমিক জানান, অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেও তাঁরা কাজ চালিয়ে গেছেন। তিনি বলেন, ‘ঈদের সময় যদি বেতন-বোনাস না দেওয়া হয়, তবে মানুষ বাড়ি যাবে কী করে? গতকাল রাত পর্যন্ত আন্দোলন চললেও প্রশাসন ও মালিকপক্ষ কেউ গুরুত্ব দিচ্ছে না। অনেকে না খেয়ে রোজা রেখেছে। আজ সকাল ১০টার মধ্যে বেতন দেওয়ার সময় জানানোর কথা থাকলেও এখন মালিকপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।’

এ বিষয়ে জানতে শেফার্ড জিনস লিমিটেড কারখানার জেনারেল ম্যানেজার মোখলেছুর রহমানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি তা কেটে দেন। ফলে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

তবে দুপুর দুইটার দিকে শিল্প পুলিশ-৫–এর পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেন খান বলেন, ‘গার্মেন্টসের এই ঝামেলার মূল কারণ হলো ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন বকেয়া থাকা। মালিকপক্ষ বর্তমানে কারখানার ভেতরে নেই। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছি এবং মহাসড়ক থেকে শ্রমিকদের সরিয়ে দিয়েছি।’

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন