শরীয়তপুরে ছাত্রলীগের ২৩ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা
| মামলা | প্রতীকী ছবি |
শরীয়তপুরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের একটি অংশে আগুন দেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। সন্ধ্যায় সদরের পালং মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি করেন ওই থানার উপপরিদর্শক সাইদুল ইসলাম। মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের জেলা কমিটির আহ্বায়ক মহসিন মাদবরসহ সংগঠনটির ২৩ নেতা–কর্মীকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ ওই মামলার আসামি রিয়াজুল ইসলামকে (২১) গ্রেপ্তার করেছে।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ছাত্রলীগের কর্মী–সমর্থকেরা শরীয়তপুর জেলা শহরে অবস্থিত জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেন। ছাত্রলীগের দুই–তিনজন কর্মী স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দিচ্ছেন—এমন একটি ভিডিও শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেন শরীয়তপুর জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মহসিন মাতবর। এরপর বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং এনসিপির জাতীয় যুবশক্তির নেতা–কর্মীদের নজরে আসে।
শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ আলম বলেন, ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে আমরা জানতে পেরেছি, কারা আগুন দিয়েছে। তাঁদের শনাক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনার মূল ব্যক্তি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা মহসিন মাতবর। তাঁকেসহ তাঁর অনুসারী ২৩ নেতা–কর্মীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে। ওই মামলার রিয়াজুল ইসলাম নামের এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সন্ধ্যায় তাঁকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় যুবশক্তির নেতারা জানান, শরীয়তপুর জেলা শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করে স্থানীয় প্রশাসন। ওই স্মৃতিস্তম্ভে রাতের অন্ধকারে আগুন দেওয়া হয়। আগুনের তাপে স্মৃতিস্তম্ভের কিছু অংশ চারদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার একটি ভিডিও শুক্রবার রাতে ফেসবুকে পোস্ট করেন নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের শরীয়তপুর জেলা কমিটির আহ্বায়ক মহসিন মাতবর। ১৭ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, দুই–তিনজন ব্যক্তি স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দিচ্ছেন। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফেসবুক পোস্টে মহসিন মাতবর দাবি করেন, ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দিয়েছেন।
নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের শরীয়তপুর জেলা কমিটির আহ্বায়ক মহসিন মাতবর আত্মগোপনে আছেন। তাঁর মুঠোফোন বন্ধ থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে কল করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
Comments
Comments