মানিকগঞ্জে ভাইদের ঘর ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে সংঘর্ষ, সালিস বৈঠকে প্রাণহানি
![]() |
| পিটিয়ে হত্যা | প্রতীকী ছবি |
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় বাড়ির ঘর ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে ভাইদের মধ্যে দ্বন্দ্বের জেরে সালিসে হামলা চালানো হলে বজলুর রহমান ওরফে রাবিল হোসেন (৫৫) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তাঁর ছেলে সাকিবুর রহমানও আহত হয়েছেন।
ঘটনা ঘটে শুক্রবার রাতে সদর উপজেলার দিঘী ইউনিয়নের নতুন বসতি গ্রামে। নিহত রাবিল হোসেন ওই গ্রামের প্রয়াত ধলা মিয়ার ছেলে। তিনি স’মিলের ব্যবসা করতেন, তবে বর্তমানে বেকার ছিলেন।
সদর থানার পুলিশ, পরিবার ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নতুন বসতি গ্রামের ধলা মিয়ার সাত ছেলে ও এক মেয়ে ছিলেন। এর মধ্যে বড় ছেলে ও একমাত্র মেয়ে রঞ্জু বেগম মারা গেছেন। বাড়িতে টিনশেডের আধা-পাকা একটি ঘরের চারটি কক্ষের মধ্যে দুটি কক্ষে রাবিল ও তাঁর পরিবার থাকতেন। বাকি দুটি কক্ষে বোন রঞ্জুর সন্তানেরা থাকতেন। সম্প্রতি রঞ্জুর সন্তানেরা অন্যত্র চলে গেলে ওই দুটি কক্ষ খালি হয়। এরপর থেকে রাবিল ও তাঁর ভাইদের মধ্যে ওই কক্ষের ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল।
দ্বন্দ্বের কারণে শুক্রবার সন্ধ্যার পর এলাকায় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সালিস বসানো হয়। সালিসে রাবিল এবং তাঁর তিন ভাই—রাশিদুর রহমান পিয়ারা, জিয়াউর রহমান চারু, সাইদুর রহমান হাবিল ও তাঁদের পরিবারের লোকজন উপস্থিত ছিলেন। রাত আটটার দিকে সালিস চলাকালীন ঘরের দুটি কক্ষ ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে রাবিল ও ভাইদের মধ্যে বাক্যবিতর্ক ও ঝগড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে ভাই ও ভাতিজাদের কিল, ঘুষি ও লাথিতে রাবিল অচেতন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাঁকে উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় তাঁর ছেলে সাকিবুরও আহত হন এবং হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
রাত ১১টার দিকে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পুলিশ নিহতের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন করে। এ সময় নিহতের আত্মীয়দের মধ্যে উত্তেজনা লক্ষ্য করা যায়। সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।

Comments
Comments