[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

পাম্পে যাওয়ার আগেই ফুরিয়ে গেল তেল, ১৫ কিলোমিটার পথ ঠেলে ফিরলেন বাড়ি

প্রকাশঃ
অ+ অ-
রাজবাড়ীতে পাম্পে গিয়ে তেল না পেয়ে দীর্ঘ প্রায় ১৫ কিলোমিটার পথ এভাবে গাড়ি ঠেলে বাড়ি পৌঁছান সদর উপজেলার বরাট গোপালবাড়ি এলাকার হৃদয়। শুক্রবার দুপুরে কাটাখালী এলাকায় | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন  

মাইক্রোবাসের চালক হৃদয় ঢাকায় থাকেন। ঈদের ছুটিতে তিনি রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের গোপালবাড়ি গ্রামের বাড়ি বেড়াতে আসেন। শুক্রবার ছুটিতে তিনি শখের মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে বের হন। তেলের সামান্য অবশিষ্ট থাকায় বাড়ি থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড়ের একটি পাম্পে পৌঁছান। কিন্তু পাম্পে পৌঁছানোর প্রায় এক কিলোমিটার আগে তেল শেষ হয়ে যায়।

হৃদয় জানান, মোটরসাইকেল ঠেলে পাম্পে পৌঁছালেও জানানো হয়, তেল নেই। এতে তিনি মহা বিপাকে পড়েন। বাড়িতে ফিরতে হবে বলেই তিনি অপেক্ষা না করে রওনা দেন। প্রায় ১৫ কিলোমিটার পথ ১৫০ সিসির মোটরসাইকেল ঠেলে দুই ঘণ্টার বেশি সময় পরে বাড়ি পৌঁছান।

জানা গেছে, রাজবাড়ীর অধিকাংশ পাম্পে তেলের অভাবে যানবাহনের চালকরা বিপাকে পড়ছেন। হৃদয়ের মতো মোটরসাইকেলের চালকসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালক এখন সমস্যার মুখে। মাঝে মাঝে তেল এলেও যানবাহনের চাপের কারণে কয়েক ঘণ্টা লাইনে থাকতে হয়। এমনকি তেল নেওয়ার জন্য মারামারির ঘটনাও ঘটছে।

সরেজমিনে রাজবাড়ী ফিলিং স্টেশনে দেখা যায়, মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির লম্বা সারি। পাম্প থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ সারি। মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে মাঝে মাঝে বাগ্‌বিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ ও সেনা সদস্যদের হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে। সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড় এলাকার দুটি পাম্পেরও একই অবস্থা।

প্রায় ১০ কিলোমিটার দূর থেকে তেল নিতে আসা আলিমুজ্জামান বলেন, ‘প্রায় দুই ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষার পর ২০০ টাকার তেল পেয়েছি। কিন্তু আসা–যাওয়া করতে ৫০ টাকার বেশি তেল শেষ হয়ে গেছে। তাহলে আবার আসব কীভাবে। তেলের সংকটে জরুরি কাজও ঠিকমতো করা যাচ্ছে না।’

গোয়ালন্দ মোড়ের করিম ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার ওমর ফারুক বলেন, ঈদের সময় গ্রামে মানুষ আসায় গাড়ির চাপ বেড়ে যায়। তেলও বেশি লাগে। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন ৫০০–৫৫০ লিটার তেল ব্যবহার হয়, আর ঈদের সময় সর্বোচ্চ এক হাজার লিটার লাগে। কিন্তু বৃহস্পতিবার এক দিনে ১ হাজার ৯৮৬ লিটার এবং শুক্রবার ১ হাজার ৭৫ লিটার তেল ফুরিয়েছে। দুই দিনে মোট তিন হাজার লিটার তেল শেষ হয়েছে, যা স্বাভাবিক সময়ে সাত দিনে শেষ হতো।

ওমর ফারুক আরও বলেন, ‘তেলের কোনো ঘাটতি নেই। স্বাভাবিক সময়ে চাহিদা অনুযায়ী যা আনতাম, এখনো তাই আনছি। এখন প্রতিদিন প্রচুর তেল লাগে। তেলের জন্য, বিশেষ করে মোটরসাইকেলের লম্বা লাইনের জন্য সমস্যা হচ্ছে। এত পেট্রল ও অকটেন কে নিচ্ছে, কোথায় যাচ্ছে, এ বিষয়গুলো খোঁজ নেওয়া দরকার।’

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন