[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

মেহেদির রং মোছার আগেই চিরবিদায়, নতুন ঘরে আর পৌঁছানো হলো না মিতুর

প্রকাশঃ
অ+ অ-
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মার্জিয়া আক্তারের মরদেহ। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

হাতে মেহেদির টকটকে লাল রং। পরনে খয়েরি বেনারসি—এই শাড়িতেই হয়েছিল বিয়ে। জীবনের নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা। নববধূ সেজে বাবার বাড়ি থেকে যাচ্ছিলেন স্বামীর বাড়ি। কিন্তু সেই নতুন ঘরে আর পৌঁছানো হলো না মার্জিয়া আক্তারের (মিতু)। তার আগেই এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় থমকে গেল সব।

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বেলাইব্রিজ এলাকায় খুলনা-মোংলা মহাসড়কে বৃহস্পতিবার বিকেলে মাইক্রোবাসের সঙ্গে নৌবাহিনীর একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এই দুর্ঘটনায় মাইক্রোবাসের যাত্রী বর-কনেসহ ১৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে হতাহত ব্যক্তিদের আনা হয়। সেখানে আনা হয় নববধূ মার্জিয়া আক্তারের নিথর দেহ। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর চাকাওয়ালা স্ট্রেচারে করে জরুরি বিভাগ থেকে মর্গে নেওয়া হয় তাঁর লাশ। তখন সোনালি পাড়ের বিয়ের ওড়না দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয় নববধূর দেহ। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই শোক প্রকাশ করেন।

গত বুধবার রাতে খুলনার কয়রা উপজেলার আমাদী ইউনিয়নের নাকসা গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সালাম মোড়লের মেয়ে মার্জিয়া আক্তারের (মিতু) সঙ্গে বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার শ্যালাবুনিয়া গ্রামের আবদুর রাজ্জাকের ছেলে আহাদুর রহমান সাব্বিরের বিয়ে হয়। বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বরপক্ষের সদস্যরা রাতে কনের বাড়িতেই ছিলেন। বৃহস্পতিবার সেখান থেকে একটি মাইক্রোবাসে করে তাঁরা মোংলার উদ্দেশে রওনা দেন। পথে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাইব্রিজ এলাকায় মাইক্রোবাসটির সঙ্গে নৌবাহিনীর একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে দুর্ঘটনার পর রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চারজনের মরদেহ নেওয়া হয়। এরপর খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একের পর এক মরদেহ আনা হলে স্বজনদের কান্নায় চারপাশ ভারী হয়ে ওঠে। নবদম্পতিসহ ১০টি মরদেহ রাখা হয়েছে হাসপাতালের মর্গে।

বাগেরহাটের কাটাখালী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাফর আহমেদ মুঠোফোনে জানান, মাইক্রোবাসটিতে চালকসহ ১৫ জন ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১৪ জনই মারা গেছেন। অন্য একজন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পুলিশ জানায়, মাইক্রোবাসটিতে বরপক্ষের ১১ জন, কনেপক্ষের ৩ জন এবং চালকসহ মোট ১৫ জন যাত্রী ছিলেন। নিহত ব্যক্তিদের সবাই মাইক্রোবাসের আরোহী ছিলেন।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন