[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

শিল্পে ভারত ও চীনের বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা সরকারের: উপদেষ্টা তিতুমীর

প্রকাশঃ
অ+ অ-
অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। আজ সোমবার সচিবালয়ে | ছবি: ভারতীয় হাইকমিশনের ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছেন, সরকার শিল্প খাতে ভারত ও চীনের বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।

সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা এবং চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। তিনি জানান, বিগত সরকারের সময়ে গৃহীত ভারত ও চীনের প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়েও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থায় রেখে আগের সরকার চলে গেছে। আমাদের অর্থনীতিতে নতুন প্রাণশক্তি যোগ করতে হবে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ইশতেহার অনুযায়ী বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগ বাড়লে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। উৎপাদন বাড়লে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে এবং রাজস্ব আহরণও বাড়বে। এর মাধ্যমে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য খাতে আরও বিনিয়োগ সম্ভব হবে।’

উপদেষ্টা তিতুমীর বলেন, ‘এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য আমরা বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করছি। এর অংশ হিসেবে আজ আমরা চীনা রাষ্ট্রদূত ও ভারতের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনা করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বৈঠকে মূলত ভারতের এবং চীনের সঙ্গে চলমান প্রকল্পগুলো নিয়ে কথা হয়েছে। যেমন ভারতের ক্ষেত্রে যে লাইন অব ক্রেডিট রয়েছে, কতগুলো প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, বর্তমান অবস্থা কী, ভবিষ্যতে কী করা দরকার, বাংলাদেশের বর্তমান উন্নয়নের সঙ্গে সেগুলো কীভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা যায়—এসবই আলোচনা হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তিতুমীর বলেন, ‘আমরা সব সময় চাই, দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিটি দেশের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক বজায় থাকুক এবং সেই সম্পর্ক উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত হোক। এই দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা ভুটান, নেপালসহ চার দেশের মধ্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও অন্যান্য খাতে উন্নয়নের সম্পর্ক কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায়, তা নতুনভাবে যাচাই-বিবেচনা করছি।’

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। আজ সোমবার সচিবালয়ে | ছবি: উপদেষ্টার দপ্তরের সৌজন্যে

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘আমরা এখন একটি জ্বালানি সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। তবে লক্ষ্য করেছি, অতীতের সরকার বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি চুক্তি করেছে, যা ছিল অসম।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড ও অন্যান্য কার্ডের মাধ্যমে “এক নাগরিক, এক কার্ড” ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছি। এই ক্ষেত্রে ভারতের আধার কার্ডের কিছু অভিজ্ঞতা আছে। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য আমরা চাই, তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যায় কি না।’

চীনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা মনে করবেন, ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং বাংলাদেশে এসেছিলেন এবং তখন ২০ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু আমরা দেখেছি, এ পর্যন্ত শুধু ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের মতো প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। এখন প্রকল্পগুলোর বর্তমান অবস্থা কী, ভবিষ্যতে সম্পর্ক কেমন হবে, এসব অগ্রগতি পর্যালোচনা করে কৌশল নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বড় আলোচনা হয়েছে, আমাদের দরকার বিনিয়োগ বাড়ানো এবং তা শিল্পায়নের জন্য ব্যবহার করা। এ জন্য একটি কাজের দল (ওয়ার্কিং গ্রুপ) করা যেতে পারে, যেখানে থাকবে বাংলাদেশ সরকার, চীনা সরকার, চীনের রাষ্ট্র মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো।’

তিনি আরও বলেন, ‘চীনের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য রয়েছে। তবে শুধু বাণিজ্য নয়, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বেশি শিল্পায়ন দরকার এবং বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। অর্থাৎ আমরা ঋণের সংস্কৃতি থেকে বিনিয়োগের সংস্কৃতিতে যেতে চাই।’

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘আজ চীনের সঙ্গে আলোচনার মূল বিষয়ও ছিল—পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ কীভাবে বাড়ানো যায় এবং সে ক্ষেত্রে কী উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব, এ বিষয়েই বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।’

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন