[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

গরু লুট রুখতে গিয়ে অন্তঃসত্ত্বার পেটে লাথি, মৃত সন্তান প্রসব

প্রকাশঃ
অ+ অ-
নারী | প্রতীকী ছবি

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে গরু লুটের সময় বাধা দেওয়ায় ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীকে পেটে লাথি মারার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে। পরে ওই নারী মৃত কন্যাসন্তান প্রসব করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নবজাতকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ নেত্রকোনা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলার সুয়াইর ইউনিয়নের হাটনাইয়া আলীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে মোহনগঞ্জ থানায় মামলা করা হয়েছে। ভুক্তভোগী গৃহবধূর নাম রোকেয়া আক্তার (৩৮)। তিনি হাটনাইয়া আলীপুর গ্রামের ওলিউল্লার স্ত্রী। আগামী এপ্রিলের ১৫ তারিখ রোকেয়ার স্বাভাবিকভাবে সন্তান জন্ম দেওয়ার কথা ছিল বলে জানা গেছে।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য, ১৪ মার্চ ওলিউল্লার ভাগনে আমিরুল ইসলামের হাঁস ডোবায় নামার ঘটনায় প্রতিবেশী আংগুর মিয়ার ডোবার পানি ঘোলা হয়ে যায়। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে দুই পক্ষের কয়েকজন আহত হন। সংঘর্ষের সময় আংগুর মিয়ার লোকজন হাঁস লুট করে নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষই থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা করে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘটনার পর থেকে পুলিশের ভয়ে ওলিউল্লার পরিবারের পুরুষ সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে থাকেন। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে ওলিউল্লার বাড়িতে পুলিশ গিয়ে আসামিদের ধরতে অভিযান চালায়। কাউকে না পেয়ে পুলিশ চলে যায়। পরে দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে আংগুর মিয়া তাঁর লোকজন নিয়ে ওলিউল্লার বাড়িতে হামলা চালিয়ে গোয়ালঘর থেকে গরু লুটের চেষ্টা করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গরু লুটের সময় ওলিউল্লার ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রোকেয়া বাধা দেন। এতে আংগুর মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে রোকেয়ার পেটে লাথি মারেন। এ সময় অন্যরাও তাঁকে কিল-ঘুষি মেরে আহত করেন। তখন পেটের তীব্র ব্যথায় চিৎকার শুরু করেন রোকেয়া। পরে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। কয়েক ঘণ্টা পর রোকেয়া সন্তান প্রসব করেন। এরপর মা ও নবজাতককে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা করে নবজাতককে মৃত ঘোষণা করেন। রোকেয়াকে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে ওলিউল্লার ভাতিজা আবুল বাশার বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। মামলায় আংগুর মিয়াসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। ওলিউল্লা বলেন, ‘এটি একটি পরিকল্পিত হত্যা। আমি এর বিচার চাই। এর আগেও প্রতিপক্ষের লোকজন আমাদের হাঁস লুট করেছে। পিটিয়ে জখম করে উল্টো মিথ্যা মামলায় আসামি করেছে। আমরা পালিয়ে থাকার সুযোগে গভীর রাতে বাড়িতে হামলা করে গোয়ালের গরুগুলো লুট করতে গিয়েছিল। বাধা দেওয়ায় তারা আমার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর পেটে লাথি মেরে গর্ভের সন্তানকে হত্যা করেছে।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য মামুন মিয়া বলেন, ‘আংগুর মিয়ার লোকজন বলছে, ঘটনা মিথ্যা। আর ওলিউল্লার লোকজন বলছে, ঘটনা সত্য। এ বিষয়টি নিয়ে এলাকায় দুটি পক্ষ তৈরি হয়েছে। তাই প্রকৃত ঘটনা বোঝা যাচ্ছে না। পুলিশ তদন্ত করে ঘটনার আসল বিষয় বের করবে বলে আশা করছি।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আংগুর মিয়া বলেন, ‘আগের একটি ঘটনায় আমার বিরুদ্ধে মামলা হওয়ায় এলাকায় থাকি না। আগের ঘটনা চাপা দিতে এটি একটি সাজানো নাটক। আমাদের ফাঁসাতেই এই নাটক সাজানো হচ্ছে।’

মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন জানান, খবর পেয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নবজাতকের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন