[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ডিজেল দেওয়ার অনুরোধ বিবেচনা করছে ভারত

প্রকাশঃ
অ+ অ-
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল | ফাইল ছবি

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ বিবেচনা করছে ভারত। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে (ব্রিফিং) এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান।

রণধীর জয়সোয়াল বলেন, বাংলাদেশ ছাড়াও শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ একই ধরনের অনুরোধ করেছে। ভারতের নিজস্ব প্রয়োজন এবং শোধনাগারের সক্ষমতা যাচাই করে সরকার এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টি হামলার কারণে সৌদি আরব, কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে বিদ্যুৎ ও গ্যাস উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বন্ধ হয়ে গেছে।

এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি সংকট তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকার ভারতকে অতিরিক্ত ডিজেল পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছে। গত বুধবার ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে ঢাকার পক্ষ থেকে এই অনুরোধ জানানো হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। জানতে চাওয়া হয়, করোনাকালে (কোভিড-১৯) ভারত যেভাবে প্রতিবেশীদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছিল, এবার পশ্চিম এশিয়ার লড়াইয়ের ফলে আটকে পড়া নাগরিকদের উদ্ধার কিংবা জ্বালানি সরবরাহের জন্য বাংলাদেশ বা অন্য কোনো দেশ ভারতকে অনুরোধ জানিয়েছে কি না। জবাবে রণধীর জয়সোয়াল ভারতের ইতিবাচক অবস্থানের ইঙ্গিত দেন।

প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, ভারত প্রতিবেশী দেশগুলোতে বড় আকারে পরিশোধিত পেট্রো পণ্য রপ্তানি করে থাকে। বাংলাদেশ অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহ করার জন্য ভারতকে অনুরোধ জানিয়েছে এবং সেই অনুরোধ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

দুই দেশের সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে জয়সোয়াল বলেন, ভারতের নুমালিগড় শোধনাগার থেকে ২০০৭ সাল থেকেই বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে। সড়ক, রেল ও পাইপলাইনের মাধ্যমে সেই সরবরাহ এখনো অব্যাহত আছে। ২০১৭ সালে ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মধ্যে এ সংক্রান্ত একটি চুক্তিও সই হয়। সেই চুক্তি অনুযায়ীই বর্তমানে ডিজেল সরবরাহ চলছে। জয়সোয়াল আরও বলেন, ভারতের অভ্যন্তরীণ প্রয়োজন ও শোধনাগারের সক্ষমতা যাচাই করে অতিরিক্ত ডিজেলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে বুধবার সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। ওই বৈঠকের পর দুই দেশের পক্ষ থেকেই জানানো হয়েছিল যে, বাংলাদেশ অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে। আজ জয়সোয়াল নিশ্চিত করলেন যে, সেই অনুরোধটি বর্তমানে বিবেচনাধীন রয়েছে।

আজকের সংবাদ সম্মেলনে আরও দুটি বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার আসামিদের বিচারের জন্য বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে কি না বা তাঁদের সঙ্গে কথা বলার জন্য বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের অনুমতি দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নে সরাসরি কোনো জবাব দেননি জয়সোয়াল। তিনি শুধু বলেন, এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিবৃতিতে যা বলা হয়েছে, তার বাইরে নতুন কিছু বলার নেই।

দ্বিতীয় প্রশ্নটি ছিল বাংলাদেশের ডিজিএফআই প্রধানের ভারত সফর ও ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে। উত্তরে রণধীর জয়সোয়াল জানান, ডিজিএফআই প্রধান ভারতে এসেছিলেন এবং ‘রাইসিনা সংলাপ’-এর ফাঁকে ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর কথা হয়ে থাকতে পারে। 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন