মাদারীপুরে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ইউপি সদস্যের বাড়িতে আগুন, লুটপাট, আহত ৮
মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় নারীসহ অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। এ সময় অন্তত ২০টি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পাঁচটি বসতঘর, দুটি দোকান ও দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর এবং লুটপাট করা হয়। এক পর্যায়ে এক ইউপি সদস্যের বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।
বুধবার বিকেল পাঁচটার দিকে সদর উপজেলার মস্তফাপুর এলাকায় এই তান্ডব চলে। আহতদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন—মস্তফাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হাবিব হাওলাদার (৩৫), তাঁর মা হাসিয়া বেগম (৬০), মকবুল হাওলাদার (৬০), নাসির হাওলাদার (৪৫), জাকির হাওলাদার (৪২) ও ইদ্রিস হাওলাদার (২৫)। আহতদের মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মস্তফাপুর ইউপি সদস্য হাবিব হাওলাদারের সঙ্গে শামচু সরদার ওরফে কোপা শামচুর দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ছয় মাস আগে বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া শামচু সরদার জামিনে বের হয়ে গত ৩০ ডিসেম্বর হাওলাদার বংশের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়ান। সেই ঘটনার জের ধরে মঙ্গলবার বিকেলে উভয় পক্ষের মধ্যে আবারও ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার দুপুরে শামচু সরদার এলাকায় গেলে তাঁকে ধাওয়া করে হাওলাদার বংশের লোকজন। এর কিছুক্ষণ পর শামচু সরদার ও তাঁর সমর্থকেরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হাবিব হাওলাদারের বাড়িতে হামলা চালায়। অন্তত ২০টি হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে তারা হাবিবের বাড়িতে ভাঙচুর, লুটপাট ও আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ছাড়া আরও চারটি ঘর, দুটি দোকান ও দুটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। ইফতারের আগে দুই পক্ষের এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত আটজন আহত হন।
খবর পেয়ে সদর থানার পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
বর্তমানে ওই এলাকায় নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
ইউপি সদস্য হাবিব হাওলাদার অভিযোগ করেন, ‘শামচু সরদার ৩০০-৪০০ লোক নিয়ে এসে বিনা উসকানিতে বোমাবাজি করে আমাদের বাড়িঘর তছনছ করে দিয়েছে। লুটপাট শেষে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। বাধা দিতে গেলে আমার বৃদ্ধ মা ও ভাইকে কুপিয়ে জখম করেছে। বারবার পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে জানালেও তারা সময়মতো আসেনি। এখন আমাদের থাকার জায়গাটুকুও নেই।’
মিজু হাওলাদার নামের এক ক্ষতিগ্রস্ত দোকানি বলেন, ‘কারও সাথে দ্বন্দ্ব না থাকলেও আমার দোকানের শাটার কুপিয়ে ভেঙে ফেলা হয়েছে। আমি এই অন্যায়ের বিচার চাই।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে শামচু সরদারের মুঠোফোনে কল দেওয়া হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তাঁর চাচাতো ভাই সোহরাব সরদার দাবি করেন, ‘ছোটদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়েছে। আমরা কোনো সংঘর্ষে যাইনি। ভাঙচুর বা আগুনের বিষয় আমাদের জানা নেই; তারা নিজেরা এসব করে আমাদের নামে ষড়যন্ত্র করছে।’
মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, দুই মাস আগের একটি সংঘর্ষের মামলায় দুই পক্ষই জামিনে এলাকায় ফিরে আবারও বিরোধে জড়িয়েছে। সকালে ছোটদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার জের ধরে এক পক্ষ অন্য পক্ষের বাড়িতে বোমাবাজি ও হামলা চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ ১৪ রাউন্ড কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করা সম্ভব না হলেও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Comments
Comments