[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

প্রথম রমজানেই জমে উঠেছে চকবাজারের ইফতারি

প্রকাশঃ
অ+ অ-
রমজানের প্রথম দিনে চকবাজারে ক্রেতাদের ভিড় | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন   

পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী চকবাজারে রমজানের প্রথম দিনেই ইফতারের বাজার জমে উঠেছে। শাহি মসজিদের সামনের সার্কুলার রোডের দুই পাশে সারি সারি দোকানে এখন ক্রেতা ও বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। বরাবরের মতো এবারও বাহারি সব ইফতারের আয়োজনে মুখর এই প্রাচীন বাজার। তবে বেশিরভাগ খাবারের দাম স্বাভাবিক থাকলেও কিছু কিছু পদের দাম নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

জোহরের নামাজের পর থেকেই দোকানিরা রকমারি ইফতারি সাজিয়ে বসতে শুরু করেন। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পছন্দের ইফতার কিনতে সেখানে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে।

প্রতিবছর রমজান মাসজুড়েই চকবাজারে নানা পদের মুখরোচক ইফতারি বিক্রি হয়। কেবল পুরান ঢাকার বাসিন্দারাই নন, রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভোজনরসিক মানুষ ইফতারি কিনতে ছুটে আসেন এই ঐতিহ্যের বাজারে।

রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব এলাকা থেকে ইফতারি কিনতে এসেছেন আবদুল হক। তিনি বলেন, ইফতারের অনেক পদের দাম গতবারের মতোই আছে। তবে মুরগি ও কোয়েল পাখির রোস্টসহ কিছু আইটেমে বাড়তি দাম রাখা হচ্ছে। গরুর মাংসের পদের দাম খুব একটা না বাড়লেও সামগ্রিকভাবে খরচ কিছুটা বেশি মনে হচ্ছে।

আবদুল হকের অভিযোগ, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতাদের ভিড় যখন বেড়ে যায়, তখন অনেক বিক্রেতা সুযোগ বুঝে দাম বাড়িয়ে দেন।

পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী চকবাজারে রমজানের প্রথম দিনেই ইফতারসামগ্রীর বাজার জমজমাট হয়ে উঠেছে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন   

ইফতারি বিক্রি করছিলেন মো. জাকির হোসেন। পুরান ঢাকার রহমতগঞ্জ থেকে আসা এই বিক্রেতা জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও তিনি রমজানে রকমারি পদের আয়োজন করেছেন। তাঁর মতে, ‘এবারের বাজার পরিস্থিতি মোটামুটি স্বাভাবিক। শুধু মুরগির দাম কিছুটা বেড়েছে, বাকি সব আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে।’ অন্যান্য পদের দামও নাগালের মধ্যে রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ইফতারের বিভিন্ন পদের মধ্যে কোয়েল পাখির রোস্ট বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকায়। মুরগির রোস্ট প্রতি পিস ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা, চিকেন কাঠি ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং চিকেন ললিপপ ও চিকেন বল প্রতি পিস ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া কাঠি কাবাব বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা দরে।

নানা ধরনের নানরুটির মধ্যে দুধ নান ৬০ টাকা, বিশেষ বাদাম নান ৮০ টাকা এবং রসুন নান (গারলিক নান) বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়।

ভারী খাবারের মধ্যে খাসির পায়া বা লেগ রোস্ট প্রতি পিস ৮০০ টাকা। গরুর সুতি কাবাব প্রতি কেজি ১ হাজার ২০০ টাকা এবং খাসির সুতি কাবাব ১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজারের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ আস্ত খাসির কাবাব, যার দাম হাঁকা হচ্ছে ১০ হাজার টাকা।

বিক্রেতা মো. সালেহ ক্রেতাদের নজর কাড়তে এই আস্ত খাসির কাবাব সাজিয়ে রেখেছেন। তিনি বলেন, ‘সবাই যে কিনছে তা নয়, তবে এটি দেখতেই মানুষ বেশি ভিড় করছে।’ এছাড়া গরুর কালা ভুনা প্রতি প্যাকেট ১৫০ টাকা এবং মুরগির তাওয়া কাবাব ১২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

নিউমার্কেটের দোকানমালিক মামুন হোসেনও এসেছেন চকবাজারে। তিনি জানান, রমজানের প্রথম দিন উপলক্ষে তাঁর দোকানের সব কর্মচারীকে চকবাজারের ঐতিহ্যবাহী ইফতারি দিয়ে আপ্যায়ন করবেন।

চকবাজারে ইফতারি সামগ্রী রাখা হয়েছে দোকানে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন   

মামুন হোসেন বলেন, ‘রমজানের প্রথম দিনে ইফতারি কিনতে এসেছি। দাম আমার কাছে আগের মতোই মনে হয়েছে। কিছু পদের দাম সামান্য বেশি মনে হলেও মোটের ওপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক। ঐতিহ্যের টানে চকবাজার থেকে ইফতারি কেনার আনন্দই আলাদা।’

বিক্রেতারা আশা করছেন, রমজানজুড়ে প্রতিদিন দুপুর থেকে মাগরিব পর্যন্ত এই বাজারে ক্রেতাদের ভিড় আরও বাড়বে।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন