[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

সুন্দরবনে দস্যু আতঙ্কে মাছ ধরা বন্ধ

প্রকাশঃ
অ+ অ-
সুন্দরবনের মাছ ধরছেন জেলেরা | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন   

সুন্দরবনে অপহরণের দুই দিন পরও ২০ জেলের সন্ধান না পাওয়ায় জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে দুবলার চরের ১০ হাজারের বেশি শুঁটকি উৎপাদনকারী জেলে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে সাগরে মাছ ধরা বন্ধ রেখে চরে অবস্থান নিয়েছেন। মাছ ধরা বন্ধ থাকায় বন বিভাগ বড় ধরনের রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কা করছে।

গত সোমবার রাতে ওই ২০ জেলেকে অপহরণের ঘটনা ঘটে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সুন্দরবনে সম্প্রতি দস্যুরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। প্রায়ই অপহরণের ঘটনা ঘটছে এবং তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে আসছেন। দস্যু আতঙ্কে নতুন করে কোনো জেলে সুন্দরবনে মাছ ধরার অনুমতিপত্র বা পাস নিচ্ছেন না। ফলে মাসিক রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সাগরে মাছ ধরা বন্ধ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুবলা ফিশারমেন গ্রুপের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ। বুধবার দুবলার আলোরকোল থেকে মুঠোফোনে তিনি জানান, সুন্দরবন ও সাগরে নিরাপত্তা না থাকায় এবং দস্যুদের হাতে অপহরণের ভয়ে হাজার হাজার জেলে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। জেলেরা এখন চরে অলস সময় কাটাচ্ছেন। মৌসুমের শেষে খালি হাতে বাড়ি ফেরার চিন্তায় তাঁরা দিশেহারা হয়ে পড়ছেন।

কামাল উদ্দিন আরও জানান, সুন্দরবনে জাহাঙ্গীর, সুমন, শরীফ ও করিম বাহিনী নামে বনদস্যুদের চারটি দল সক্রিয় রয়েছে। দস্যুরা বেপরোয়াভাবে সুন্দরবন ও সাগরে বিচরণ করছে। জেলেদের আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায় করা হচ্ছে। যাঁরা টাকা দিতে পারছেন না, তাঁদের ওপর চালানো হচ্ছে অমানুষিক নির্যাতন। গত সপ্তাহে দস্যুদের মারধরে গুরুতর আহত হয়ে চারজন জেলে রামপাল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, সুন্দরবনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তেমন তৎপরতা না থাকায় দস্যুরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

আলোরকোলের রামপাল জেলে সমিতির সভাপতি মোতাসিম ফরাজী বলেন, ‘আগে বলা হতো জলে কুমির আর ডাঙ্গায় বাঘ। এখন তার সঙ্গে যোগ হয়েছে সাগরে ডাকাত। দস্যুদের তাণ্ডবে মাছ ধরা বন্ধ রাখা হয়েছে।’ তিনি জানান, গত ১৫ দিনে অনেক জেলেকে দস্যুরা অপহরণ করেছে। বর্তমানে তাঁদের কবজায় অন্তত শতাধিক জেলে আটক রয়েছেন। সোমবার রাতে ২০ জেলেকে নিয়ে যাওয়ার সময় দস্যুরা যোগাযোগের জন্য মুঠোফোন নম্বর দিয়ে গেছে। তবে দুই দিনেও ওই ২০ জেলের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের দুবলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মিলটন রায় বলেন, জেলেরা মাছ ধরা বন্ধ রাখায় রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে বড় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

শরণখোলা ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা ফরেস্ট রেঞ্জার মো. খলিলুর রহমান বলেন, দস্যু আতঙ্কে জেলেরা পাস নিচ্ছেন না, যার প্রভাব পড়ছে মাসিক রাজস্বের ওপর।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবনে দস্যুদের তৎপরতা বাড়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বনরক্ষীরা জেলেদের নিরাপত্তা দিতে কাজ করছেন।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন