রমজান উপলক্ষে খামারে ১০ টাকা লিটার দুধ বিক্রি
![]() |
| খামার থেকে ১০ টাকা লিটার দুধ কিনছেন নিম্ন আয়ের মানুষেরা। বৃহস্পতিবার কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
পবিত্র রমজান এলেই নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় নামেন কিছু ব্যবসায়ী। তবে এর ব্যতিক্রমী এক উদাহরণ তৈরি করেছে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের জেসি অ্যাগ্রো ফার্ম। রমজান মাস উপলক্ষে তারা মাত্র ১০ টাকা লিটার দরে দুধ বিক্রির ঘোষণা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার প্রথম রোজা থেকেই করিমগঞ্জের নিয়ামতপুর গ্রামে জেসি অ্যাগ্রো ফার্মের গরুর খামারে ১০ টাকা লিটার দরে দুধ বিক্রি শুরু হয়েছে। প্রথম দিন ৯০ জন নিম্নবিত্ত মানুষের কাছে এই দামে দুধ বিক্রি করা হয়।
জেসি অ্যাগ্রো ফার্মের খামারি শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, রমজানের প্রথম থেকে শেষ দিন পর্যন্ত প্রতিদিন ৯০ থেকে ১০০ জন নিম্নবিত্ত মানুষের মাঝে এভাবে দুধ বিক্রি অব্যাহত থাকবে। বর্তমানে বাজারে প্রতি লিটার দুধ ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হলেও তাঁদের এই উদ্যোগ এলাকায় বেশ প্রশংসা কুড়াচ্ছে।
শফিকুলদের খামারে বিভিন্ন জাতের প্রায় ২৫০টি গরু আছে। এর মধ্যে ২০টি গাভি থেকে প্রতিদিন ৯০ থেকে ১০০ লিটার দুধ পাওয়া যায়। খামারে উৎপাদিত এই পুরো দুধই রমজান মাসজুড়ে গরিব মানুষের জন্য ১০ টাকা লিটার দরে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত ২০২০ সাল থেকে রোজা উপলক্ষে এই বিশেষ ছাড়ে দুধ বিক্রি করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি।
খামারি শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রথম রোজা থেকেই আমরা ১০ টাকা দরে দুধ বিক্রি শুরু করেছি। পুরো রমজানে প্রায় ৩ হাজার লিটার দুধ এই দামে দেওয়া হবে। রমজান মাসে বিশেষ করে সাহ্রির সময় অনেকেই দুধ খেতে পছন্দ করেন। এই সুযোগে বাজারে দুধের দাম বেড়ে যায়। তাই আমরা উদ্যোগ নিয়েছি, আমাদের খামারের দুধ যে কেউ এসে ১০ টাকা লিটারে কিনে নিতে পারবেন। তবে জনপ্রতি সর্বোচ্চ এক লিটার দুধ কেনা যাবে।’
শফিকুল ইসলাম আরও জানান, কম দামে দুধ বিক্রি ছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা এলাকায় বিভিন্ন সেবামূলক কাজ করছেন। এমনকি স্কুল-কলেজসহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও গড়ে তুলেছেন তাঁরা।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আলমগীরসহ কয়েকজন জানান, রোজার আগেও যেখানে দুধের দাম ছিল ৬০ থেকে ৮০ টাকা, তা এখন বেড়ে ১০০ থেকে ১২০ টাকা হয়েছে। এই সময়ে গরিব মানুষের কথা ভেবে মাত্র ১০ টাকায় দুধ বিক্রি করছে জেসি অ্যাগ্রো ফার্ম। এমনকি অতিদরিদ্র কেউ টাকা ছাড়া এলেও তাঁদের খালি হাতে ফেরত না দিয়ে বিনামূল্যে দুধ দেওয়া হচ্ছে। এটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় একটি কাজ।

Comments
Comments