[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

শামসুজ্জোহার জোহার প্রয়াণ দিবসকে ‘জাতীয় শিক্ষক দিবস’ করার দাবি

প্রকাশঃ
অ+ অ-
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে জোহা স্মারক বক্তৃতায় স্মারক বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও লেখক মহিউদ্দিন আহমদ। বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন    

‘দয়া করে গুলি করবেন না; আমি বলছি, গুলি করবেন না। কোনো ছাত্রের গায়ে গুলি লাগার আগে যেন আমার গায়ে গুলি লাগে।’ ১৯৬৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ছাত্রদের বাঁচাতে পাকিস্তানি সৈন্যদের সামনে দাঁড়িয়ে এভাবেই গর্জে উঠেছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রক্টর সৈয়দ মুহম্মদ শামসুজ্জোহা। এরপরই সৈন্যদের বন্দুকের লক্ষ্যবস্তু হন তিনি। বেয়নেটের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত করে তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের সময় যাঁদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে আন্দোলন আরও বেগবান হয়েছিল, ড. শামসুজ্জোহা তাঁদের অন্যতম। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবী। তাঁর মৃত্যুর পর থেকেই ১৮ ফেব্রুয়ারিকে ‘শিক্ষক দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি, এই দিনটিকে যেন ‘জাতীয় শিক্ষক দিবস’ হিসেবে সারা দেশে পালন করা হয়। তবে ড. জোহার মৃত্যুর ৫৭ বছর পার হলেও দিবসটি আজও জাতীয় স্বীকৃতি পায়নি।

প্রতিবছরের মতো এবারও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ড. শামসুজ্জোহার মৃত্যুবার্ষিকী ‘শিক্ষক দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়েছে। কর্মসূচির মাধ্যমে দিনটিকে জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। গত বুধবার সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসন ভবন ও শিক্ষা ভবনসহ সব গুরুত্বপূর্ণ ভবনে কালো পতাকা ওড়ানো হয়। সকাল ৯টায় উপাচার্য সালেহ্ হাসান নকীবসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা শহীদ শামসুজ্জোহার সমাধি ও স্মৃতিফলকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, আবাসিক হল এবং বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেওয়া হয়। সমাধির পাশে দাঁড়িয়ে শহীদ শিক্ষকের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন ও সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ‘জোহা স্মারক বক্তৃতা’ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বেলা ১১টায় টিএসসিসিতে রচনা প্রতিযোগিতা এবং যোহরের নামাজের পর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে কোরআনখানি ও বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়। এছাড়া আসরের নামাজের পর শহীদ শামসুজ্জোহা হলে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে স্মারক বক্তা হিসেবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও লেখক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, ড. শামসুজ্জোহাকে জাতীয়ভাবে স্মরণ না করা আমাদের সামগ্রিক ব্যর্থতা। তিনি বলেন, ‘ড. শামসুজ্জোহা অনন্য এক ব্যক্তিত্ব। তিনি বুদ্ধিজীবী সমাজের একমাত্র সদস্য, যিনি শিক্ষার্থীদের বাঁচাতে গিয়ে সরাসরি প্রতিবাদ করে প্রাণ দিয়েছেন। এমন উদাহরণ আমাদের দেশে দ্বিতীয়টি নেই। তাই এই দিবসটি অবশ্যই জাতীয়ভাবে পালন করা উচিত।’

সকাল ১০টায় অন্যান্য সংগঠনের পাশাপাশি বন্ধুসভার বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্যরাও ড. জোহার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। সংক্ষিপ্ত আলোচনায় তাঁরা দিনটিকে জাতীয় শিক্ষক দিবস হিসেবে ঘোষণার জোর দাবি তোলেন। বন্ধুসভার সভাপতি সুইটি রাণী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে দিনটিকে শিক্ষক দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। কিন্তু ৫৭ বছরেও এর জাতীয় স্বীকৃতি না পাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।’

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন