[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

নরসিংদীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় কিশোরীকে অপহরণের পর হত্যা

প্রকাশঃ
অ+ অ-
ধর্ষণ | প্রতীকী ছবি

নরসিংদীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে বাবার কাছ থেকে অপহরণ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সদর উপজেলার মহিষাশুড়া ইউনিয়নের বিলপাড় ও দড়িকান্দীর মাঝামাঝি একটি শর্ষেখেত থেকে ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহত কিশোরী ওই ইউনিয়নের একটি এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা একটি বস্ত্র (টেক্সটাইল) কারখানার শ্রমিক। ওই এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে তিনি বসবাস করেন।

পুলিশ, নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয়ভাবে বখাটে হিসেবে পরিচিত নূরা নামের এক তরুণের সঙ্গে ওই কিশোরীর পরিচয় ছিল। ১৫ দিন আগে বাসায় ফেরার পথে ওই কিশোরীর মুখ চেপে ধরে তুলে নিয়ে যান নূরার নেতৃত্বে পাঁচ-ছয়জন তরুণ। তখন তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার বিচারের জন্য মহিষাশুড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য আহমদুল্লাহর কাছে যায় কিশোরীর পরিবার। তবে পরিবারটি বিচার পায়নি, উল্টো তাঁদের এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়েছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এদিকে সাবেক ইউপি সদস্যের কাছে অভিযোগ করায় ক্ষুব্ধ হন নূরাসহ অভিযুক্ত তরুণেরা। এমন পরিস্থিতিতে বুধবার রাতে মেয়েকে নিরাপদ রাখতে খালার বাড়িতে রেখে আসতে যাচ্ছিলেন বাবা। পথে বিলপাড় এলাকায় পৌঁছালে নূরার নেতৃত্বে ছয়জন তরুণ ওই কিশোরীকে বাবার কাছ থেকে জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে যান। রাতভর বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও কিশোরীর সন্ধান পাননি স্বজনরা।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে স্থানীয় লোকজন শর্ষেখেতে ওই কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে মাধবদী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

নিহত কিশোরীর বড় ভাই বলেন, ‘মেম্বার সাহেব বলেছিলেন মীমাংসা করে দেবেন এবং এরপর আমাদের এলাকা ছেড়ে চলে যেতে হবে। আমরা রাজি হয়েছিলাম যে ১ তারিখে চলে যাব। বুধবার রাতে বাবা ওকে নিয়ে খালার বাড়ি যাচ্ছিলেন। পথে নূরাসহ ছয়জন এসে আমার বোনকে ধরে নিয়ে যায়। সারারাত খুঁজেও পাইনি, সকালে শর্ষেখেতে লাশ পেলাম। আমরা এই অপরাধীদের বিচার চাই।’

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত নূরাসহ অন্য তরুণেরা পলাতক রয়েছেন। মরদেহ উদ্ধারের পর থেকে সাবেক ইউপি সদস্য আহমদুল্লাহকেও এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁর মুঠোফোন বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে তাঁর কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন জানান, ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় নূরা নামের একজন ওই কিশোরীকে বাবার কাছ থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করেছে। ধর্ষণের ঘটনায় বিচার চাইতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির কাছে না গিয়ে সরাসরি থানায় আসা দরকার ছিল পরিবারটির। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন