এক ‘অপরাধে’ আমাকে তিনবার সাজা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে: রুমিন
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রশাসন পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে বলে অভিযোগ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ (সরাইল–আশুগঞ্জ–বিজয়নগরের একাংশ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, একটি ঘটনার জন্য প্রশাসনের কাছ থেকে তিনি তিনবার শাস্তি পেয়েছেন। সোমবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, ‘গত দুই দিন ধরে দেখছি ফেসবুকে দুটি চিঠি ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রথম চিঠিটি আমি ফেসবুকেই দেখেছি, সেটি আমার কাছে সরাসরি আসেনি। চিঠিটি দিয়েছে সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়। সেটি নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটিকে পাঠানো হয়েছে। ১৭ তারিখের চিঠি ১৭ তারিখ রাতেই এবং ১৮ তারিখ সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। যে ইউএনও কার্যালয় একটি চিঠির নিরাপত্তা দুই ঘণ্টাও নিশ্চিত করতে পারে না, তারা কীভাবে একটি নির্বাচনের মতো বড় দায়িত্ব পালন করবে?’
তিনি আরও বলেন, গতকাল রোববার জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকেও ফেসবুকের মাধ্যমে একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ পেয়েছেন। এসব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘১৭ জানুয়ারি সরাইলের ইসলামাবাদে আমরা কোনো জনসভা করিনি। সেটি ছিল একটি ছোট উঠান বৈঠক। ওই সময় ম্যাজিস্ট্রেট এসে পুলিশ নিয়ে ভেতরে ঢোকেন এবং উঠানে আসেন। আমি তখন বক্তব্য সংক্ষিপ্ত করে নেমে যাই। বিনয়ের সঙ্গে জানতে চেয়েছিলাম, আমি কোন আচরণবিধি ভঙ্গ করেছি। তিনি তা বলতে পারেননি। একপর্যায়ে আমি উত্তেজিত হয়ে বলি, সবাই প্রচারণা করছে। আপনাদেরকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে।’
রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমি কাউকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাইনি। অথচ দুটি সরকারি চিঠিতে বলা হয়েছে, আমি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছি। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি বলেছি, অন্য প্রার্থীর কর্মীরা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায়। হাবিব সাহেব (আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান) যখন বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখান, তখন প্রশাসন সেখানে উপস্থিত ছিল। কিন্তু তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।’
একটি ঘটনার জন্য তিনবার শাস্তি দেওয়া হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘এই ঘটনার পর আমাকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর আগেও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। ৪০ হাজার টাকা জরিমানা মানে এই ঘটনার শাস্তি সেটুকুই হওয়া উচিত ছিল। এরপর দ্বিতীয় শাস্তি হিসেবে ইউএনও নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটিকে চিঠি পাঠান। এখানেই শেষ নয়। তৃতীয় শাস্তি হিসেবে রিটার্নিং কর্মকর্তা বা জেলা প্রশাসক আমাকে নোটিশ পাঠান। সেই নোটিশ আমি এখনো হাতে পাইনি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছি। একটি অপরাধের জন্য তিন জায়গা থেকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের পক্ষপাতদুষ্ট প্রশাসনের অধীনে আমি কীভাবে নির্বাচন করব?’
এই আসনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব জোটের প্রার্থী। এ বিষয়ে প্রশাসন নীরব রয়েছে বলে অভিযোগ করেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, ‘জুনায়েদ আল হাবিবের প্রচারণাকালে আমাকে নর্তকী ও টিস্যু পেপারের সঙ্গে তুলনা করে বলা হয়েছে, দল আমাকে ব্যবহার করে ফেলে দিয়েছে। এ ধরনের উসকানিমূলক, আক্রমণাত্মক এবং নারী পরিচয় নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্যের বিষয়ে জেলা প্রশাসক কোনো ব্যবস্থা নেননি।’
রুমিন ফারহানা বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধিমালার ২৬ ধারা অনুযায়ী একটি নির্বাচনী তদন্ত কমিটি রয়েছে, যার কাছে ইউএনও চিঠি দিয়েছেন। জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে শোকজ নোটিশ দেওয়ার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। রুমিন ফারহানা বলেন, ‘জেলা প্রশাসক কীভাবে আমাকে শোকজ করেন এবং সশরীরে উপস্থিত হতে নির্দেশ দেন? উপস্থিত না হলে তিনি যে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন কী পদক্ষেপ নেবে—এই প্রশ্ন আমি বিনীতভাবে নির্বাচন কমিশনের কাছে রাখছি।’
এসব অভিযোগ রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহানের নজরে আসলে তিনি বলেন, রুমিন ফারহানার এসব বক্তব্য মনগড়া। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘কারণ দর্শানোর নোটিশ আমি যেকোনো প্রার্থীকে দিতে পারি। কোনো প্রার্থী আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে তাকে কারণ দেখাতে বলা হয়। এটি একটি সাধারণ প্রক্রিয়া। প্রার্থী কারণ দেখাবে, আমি তা নির্বাচন কমিশনকে জানিয়ে দিই। কেউ মনগড়া কথা বললেই হবে না। আমাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা প্রতিদিন মাঠে যাচ্ছেন, জরিমানা করছেন। সেই সব তথ্য আমরা প্রতিদিন নির্বাচন কমিশনকে জানাচ্ছি। আজকেও অভিযোগ এসেছে, এক প্রার্থী মঞ্চ করেছেন, সঙ্গে সঙ্গে আমাদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গিয়ে মঞ্চ ভেঙে দিয়েছেন।’

Comments
Comments