পদ্মা ট্রিবিউন | বাংলা নিউজ পেপার
বাংলাদেশ রাজনীতি বিশ্ব বাণিজ্য মতামত খেলা বিনোদন চাকরি জীবনযাপন ভিডিও

চট্টগ্রাম বন্দরে ২৫০ উচ্চ ঝুঁকির কনটেইনারের খোঁজ মিলছে না

তবে এ ঘটনায় দায় এড়িয়ে পরস্পরকে দোষারোপ করছে বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

প্রতিনিধি চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার
চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার | ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমস হাউসের সমন্বয়হীনতার সুযোগে চোরাচালান, পণ্যের মিথ্যা ঘোষণা ও শুল্ক ফাঁকির সন্দেহে আটকে রাখা অন্তত ২৫০টি একক কনটেইনারের অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কাস্টমসের অভিযোগ, জাল সিল, ভুয়া স্বাক্ষর ও জাল গেটপাস ব্যবহার করে বন্দর ও কাস্টমসের এক শ্রেণির কর্মকর্তার যোগসাজশে এসব কনটেইনার খালাস করে একটি জালিয়াতচক্র। তবে এ ঘটনায় দায় এড়িয়ে পরস্পরকে দোষারোপ করছে বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।


কাস্টমসের দাবি, সন্দেহভাজন এসব কনটেইনার লক করে রাখা হয়েছিল এবং তদন্ত কর্মকর্তাদের সরেজমিন পরিদর্শন শেষে প্রতিবেদন দেওয়ার পরই সেগুলো খালাস হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কনটেইনারগুলোর অবস্থান শনাক্ত করা না যাওয়ায় তদন্তও এগোচ্ছে না।


অন্যদিকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, অধিকাংশ কনটেইনারের তথ্য ও কাগজপত্র আগেই কাস্টমসকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একাধিকবার চিঠি চালাচালি হলেও এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই দায় স্বীকার করেনি।


এ পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা। তাঁদের ভাষ্য, যেসব প্রতিষ্ঠানের কাছে পণ্য নিরাপদ থাকার কথা, সেখান থেকেই যদি পণ্য নিখোঁজ হয়, তাহলে ব্যবসায়ীদের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।


চিটাগাং চেম্বারের সভাপতি ও সি কম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল হক বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে নিখোঁজ কনটেইনারের সংখ্যা নিয়ে দায়িত্বশীল দুটি প্রতিষ্ঠান ভিন্ন তথ্য দিচ্ছে। তবে বন্দর থেকে একটি কনটেইনারও কীভাবে নিখোঁজ হতে পারে, তার দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে।


কাস্টমসের অডিট, ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট (এআইআর) শাখার তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ কনটেইনারগুলোর মধ্যে ২০২১ সালের ৮৩টি, ২০২২ সালের ৬১টি, ২০২৩ সালের ৪০টি এবং ২০২৪ সালের ৬৬টি রয়েছে। গত এক বছরে এ বিষয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষকে চারটি চিঠি দিয়েছে কাস্টমস। সর্বশেষ চিঠি পাঠানো হয় গত এপ্রিলে। চিঠিগুলোতে উল্লেখ করা হয়, কনটেইনারগুলোর অবস্থান শনাক্ত করা না যাওয়ায় তদন্ত কার্যক্রম চালানো সম্ভব হচ্ছে না।


কাস্টমসের উপকমিশনার তারেক মাহমুদ বলেন, বন্দরে সংরক্ষিত সব আমদানিকৃত কার্গো বা পণ্যের আইনগত অভিভাবক চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। আইনানুগভাবে খালাস বা হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত পণ্য নিরাপদে সংরক্ষণের দায়িত্ব বন্দরের।


তবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ কাস্টমসের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, অনুমাননির্ভর তথ্য দিয়ে বন্দরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের চেষ্টা করা হচ্ছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, কাস্টমস ২৫০টি চালানের কথা বললেও প্রকৃত সংখ্যা ২৪৭টি। এর মধ্যে ১৬৪টি চালানে ২৯৩টি পূর্ণ কনটেইনার (এফসিএল) এবং বাকি ৮৩টি চালানে এলসিএল কার্গো রয়েছে।


বন্দর কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, ২৯৩টি কনটেইনারের মধ্যে কাস্টমসের আউটপাসের মাধ্যমে ৮৮টি সরবরাহ করা হয়েছে, আইজিএম ঘোষণার ভিত্তিতে ৭০টি বিভিন্ন বেসরকারি কনটেইনার ডিপোতে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং ১৩১টি এখনও বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ডে রয়েছে। এছাড়া চারটি কনটেইনার নম্বর ভুলভাবে উল্লেখ করা হয়েছে বলেও দাবি তাদের।


বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামীম বলেন, আলোচ্য সব কনটেইনার ও কার্গো কাগজপত্রের মাধ্যমে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে চিঠি দিয়ে কাস্টমসকে অবহিত করা হয়েছে।


এদিকে লক করা কনটেইনারের অবস্থান নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই ফ্যাব্রিকবোঝাই আরও তিনটি কনটেইনার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। শাহ আমানত ট্রেডিংয়ের মালিক সেলিম রেজা জানান, কাস্টমসের ই-নিলামের মাধ্যমে তিনি ২৭ টন আমদানিকৃত ইনডিগো ফ্যাব্রিকভর্তি একটি কনটেইনার ৮৫ লাখ টাকায় কেনেন। অগ্রিম আয়কর, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও অন্যান্য ব্যয়সহ তাঁর মোট খরচ হয় ১ কোটি ৬ লাখ টাকা। নিলামে অংশ নেওয়ার আগে তিনি কনটেইনারটি সরেজমিনে দেখে নিশ্চিত হন। কিন্তু ২০২৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি পণ্য খালাস নিতে গিয়ে সেটির আর কোনো খোঁজ পাননি। চার মাস পর বন্দর কর্তৃপক্ষও কনটেইনারটির অনুপস্থিতির বিষয়টি স্বীকার করে। এ ঘটনায় তিনি ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। কাস্টমস বলছে, ক্ষতিপূরণের দায়িত্ব বন্দর কর্তৃপক্ষের।


এ ছাড়া পণ্যবোঝাই আরও দুটি কনটেইনার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় বন্দর কর্তৃপক্ষ পৃথক দুটি ফৌজদারি মামলা করেছে। সম্প্রতি নগরের হালিশহর এলাকা থেকে একটি খালি কনটেইনার উদ্ধার করে বন্দর থানা পুলিশ। তবে কনটেইনারে থাকা প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের আমদানিকৃত ফ্যাব্রিক পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় দুই বন্দরকর্মীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

How did this article make you feel?

0 Comments

No comments yet. Be the first to share your thoughts!

Leave a Comment

Moderated — may take a moment.