পদ্মা ট্রিবিউন | বাংলা নিউজ পেপার
বাংলাদেশ রাজনীতি বিশ্ব বাণিজ্য মতামত খেলা বিনোদন চাকরি জীবনযাপন ভিডিও

চকবাজারে আগুনে পুড়ল ৭-৮টি গুদাম, বেশি ক্ষতি ছয়তলায়

তবে আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি বলে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা
চকবাজারে আগুনের ঘটনা নিয়ে ব্রিফিংয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান
চকবাজারে আগুনের ঘটনা নিয়ে ব্রিফিংয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান | ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

পুরান ঢাকার চকবাজারে মনসুর খান প্লাজা মার্কেটের ছয় ও সাততলায় আগুনে সাত থেকে আটটি গুদাম পুড়ে গেছে। এর মধ্যে ছয়তলায় ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়েছে। গুদামগুলোয় ছাতা, প্রসাধনসামগ্রী, আতরসহ বিভিন্ন ধরনের মালামাল ছিল।


মঙ্গলবার সকালে আগুনের ঘটনা নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান। তবে আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি বলে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছে।


কাজী নজমুজ্জামান বলেন, ভোর ৫টা ২০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে গুদামগুলোয় মালামাল ঠাসা থাকায় আগুন পুরোপুরি নেভাতে সময় লাগছে। ক্ষতিগ্রস্ত মালামাল সরানোর সময় মাঝেমধ্যে ধোঁয়া বের হচ্ছে। সেগুলোয় পানি দিয়ে আগুন পুরোপুরি নেভানোর চেষ্টা চলছে। এখনো ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করছে। আগুন নেভানোর কাজে সব মিলিয়ে ১০০ থেকে ১৫০ জন কর্মী অংশ নিয়েছেন।


আগুন নেভানোর কাজে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরে এই কর্মকর্তা বলেন, গুদামগুলোর দরজায় তালা লাগানো ছিল। কোনো কোনো দোকানে তিন থেকে চারটি তালার পাশাপাশি কলাপসিবল গেট ছিল। তালা কেটে ভেতরে ঢুকে আগুন নেভাতে হয়েছে। এ ছাড়া সরু রাস্তার কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশে সমস্যা হয়েছে। ভবন থেকে ধোঁয়া বের হওয়ার পর্যাপ্ত পথ না থাকায় আগুন নেভাতে সময় লেগেছে। পানির স্বল্পতাও ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। резервের পানি বারবার শেষ হয়ে যাচ্ছিল।


কাজী নজমুজ্জামান বলেন, মনসুর খান প্লাজার ছয়তলায় ১২ থেকে ১৪টি বড় গুদাম রয়েছে। এর মধ্যে সাত থেকে আটটিতে আগুন লেগেছে। অন্য গুদামগুলোয় সরাসরি আগুন না লাগলেও আগুন নেভানোর সময় পানি দেওয়ায় সেখানকার মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাততলায় তুলনামূলকভাবে ক্ষয়ক্ষতি কম হয়েছে।


ভবনটিতে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র ছিল জানিয়ে ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা বলেন, আগুন লাগার পর ব্যবসায়ীরা সেগুলো ব্যবহার করে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেছিলেন। তবে আগুনের তীব্রতা বেশি থাকায় তাঁরা সফল হননি।


আশপাশের মার্কেটগুলোয় আগুন ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো সম্ভব হয়েছে উল্লেখ করে কাজী নজমুজ্জামান বলেন, আগুনে ভবনটি যতটা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছিল, বাস্তবে ক্ষয়ক্ষতি তার চেয়ে কম হয়েছে। মনসুর খান প্লাজার আশপাশে আরও তিন থেকে চারটি মার্কেট রয়েছে। শুরু থেকেই আগুন যাতে সেসব মার্কেটে ছড়িয়ে না পড়ে, সে চেষ্টা করেছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। কয়েকবার আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হলেও সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়ায় তা ঠেকানো গেছে।


কাজী নজমুজ্জামান বলেন, ভবনের ভেতরে এখন দৃশ্যমান আগুন নেই। তবে ক্ষতিগ্রস্ত মালামাল সরানোর সময় ধোঁয়া বের হচ্ছে। তখন পানি দেওয়া হচ্ছে। পানি দেওয়া বন্ধ করলে এসব মালামাল থেকে আবার আগুন জ্বলে উঠতে পারে। এ কারণে আগুন পুরোপুরি নেভানোর কাজ এখনো শেষ হয়নি।


ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে চাইলে কাজী নজমুজ্জামান বলেন, আগুন নেভানোর কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা কঠিন। গুদামের মালিকেরা তাঁদের ক্ষতির হিসাব জানাতে পারবেন। এ জন্যও সময় লাগবে।


আগুন লাগার কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি জানিয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, আগুন পুরোপুরি নেভানোর পর এ বিষয়ে তদন্ত করা হবে। ফায়ার সার্ভিস তদন্ত কমিটি গঠন করবে। ভবনটিতে বিদ্যুতের লাইন ছিল। শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগতে পারে, তবে তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।


ভবনটিতে কেউ বসবাস করতেন, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানান কাজী নজমুজ্জামান। আগুন নেভানোর কাজে মার্কেটের দোকানদার ও স্থানীয় বাসিন্দারা ফায়ার সার্ভিসকে সহযোগিতা করেছেন। আগুনের তাপ ও প্রচণ্ড ধোঁয়ার কারণে ফায়ার সার্ভিসের চার সদস্য অসুস্থ হয়েছেন। তাঁদের হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

0 Comments

No comments yet. Be the first to share your thoughts!

Leave a Comment

Moderated — may take a moment.