[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

কলেজের নিয়োগ পরীক্ষার কাগজপত্র নিতে ইউএনও কার্যালয়ে বিএনপি নেতা

প্রকাশঃ
অ+ অ-
নিয়োগ পরীক্ষার কাগজপত্র ছিনিয়ে নিচ্ছেন ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিন। আজ শুক্রবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়েছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে এক দল মানুষের উপস্থিতিতে হট্টগোল সৃষ্টি করে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে কলেজের কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষার কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে শুক্রবার বিকেল চারটার দিকে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার একটি ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রশাসন ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মেদিনী সাগর বিএম মহাবিদ্যালয়ের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও আয়া নিয়োগের জন্য সম্প্রতি বিজ্ঞপ্তি দেয় কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার ছিল ওই দুটি পদের নিয়োগ পরীক্ষা। পরীক্ষা শেষে নিয়োগের কাজ চলার সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিন ইউএনও কার্যালয়ে আসেন। সে সময় জামাল উদ্দিন নিয়োগের কাজ বন্ধ করতে বলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন উপজেলা বিএনপি নেতা ইরফান আলী, উপজেলা যুবদলের সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, যুবদলের নেতা মো. ফারুক, মোখলেসুর রহমানসহ ২৫ থেকে ৩০ জন নেতা-কর্মী। তাঁরা ইউএনওর সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে নেতা-কর্মীরা নিয়োগের কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে কার্যালয় থেকে চলে যান।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বাগ্‌বিতণ্ডার এক ফাঁকে হরিপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিনকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি আমার মহাসচিবের সাথে এই বিষয়ে কথা বলে তারপরে গাড়িতে উঠেছি। আপনি রাতের বেলায় অফিসে কিছু কিছু মক্কেলকে নিয়ে এসে...।’ কথা শেষ হতেই ইউএনও বলেন, ‘রাতের বেলায় আমি অফিস করব, সেটা তো একান্ত আমার বিষয়। আমাদের অফিস দিন-রাত চব্বিশ ঘণ্টাই খোলা।’

জামাল হোসেন বলেন, ‘আপনি নিয়োগ নিয়ে বাণিজ্য শুরু করেছেন।’ এ সময় একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি অফিস রাতে বা দিনে করেন আমাদের কোনো আপত্তি নেই। এর আগের ইউএনও বিকাশ চন্দ্র বর্মন ছিলেন, ওনাকে আমরা রক্ষা করেছি এখানে।’ সে সময় ইউএনও বলেন, ‘এই গণহট্টগোল বা মব কালচার করে তখনো কিন্তু এ রকম করা হয়েছিল।’ জামাল বলেন, ‘আপনি আওয়ামী লীগের স্বৈরাচারদের নিয়োগ দেবেন, এটা মানা হবে না।’ ইউএনও পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘অধ্যক্ষ যদি অবৈধ হয় তবে বোর্ডকে বলেন নিয়োগ বাতিল করে দিতে, আমাদের অসুবিধা কোথায়?’ সে সময় জামাল বলেন, ‘আমরা এই কথাটি বারবার বলছি, আওয়ামী লীগের স্বৈরাচারদের আপনি নিয়োগ দিবেন, আমরা কি ললিপপ চুষব? এটা তো হবে না।’

এরপর জামাল তাঁর লোকজনকে নির্দেশ দেন, ‘এই অধ্যক্ষকে নিয়ে বাইরে চলো।’ তখন জামালের সঙ্গে থাকা লোকজন মেদিনী সাগর বিএম মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদকে বলেন, ‘আপনি বাইরে আসেন।’ তাঁদের একজন অধ্যক্ষের কাছ থেকে নথিপত্র কেড়ে নিতে গেলে অধ্যক্ষ বলেন, ‘আপনি আমার খাতাপত্র কেড়ে নিতে পারেন?’

এরপরই জামাল কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধি জাবেদ আলীকে বলেন, ‘আপনি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটা দেখেন তো। কত তারিখে বিজ্ঞপ্তি হয়েছে, কোন পত্রিকায় হয়েছে?’ ইউএনও বলেন, ‘এখন নিয়োগের কাজ চলছে। কী অবস্থা আপনাদের দেখাতে হবে? আপনারা নিয়োগ বোর্ডে অবৈধভাবে এসেছেন।’ সে সময় বিএনপি নেতা-কর্মীরা হট্টগোল শুরু করেন। একপর্যায়ে জামাল উদ্দিন কারিগরি বোর্ডের প্রতিনিধির কাছ থেকে নিয়োগের কাগজপত্র ছিনিয়ে নেন। অন্যদিকে বিএনপির নেতা-কর্মীরাও অধ্যক্ষের কাছ থেকে নথিপত্র ছিনিয়ে নিয়ে ইউএনও কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যান। অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদও তাঁদের পিছু নেন।

মহাবিদ্যালয়টির অধ্যক্ষ ও নিয়োগ পরীক্ষার সদস্যসচিব হারুন অর রশিদ বলেন, ‘উপজেলা বিএনপির সভাপতি লোকজন নিয়ে এসে নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধের জন্য ইউএনওকে হুমকি-ধমকি দেন। একপর্যায়ে তাঁরা পরীক্ষার কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে যান। নিয়োগ পরীক্ষার কাগজপত্র ফিরিয়ে দিতে আমি তাঁদের হাত-পা পর্যন্ত ধরেছি।’

এ বিষয়ে হরিপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামাল উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের কাছে তথ্য ছিল ইউএনও নিয়োগের জন্য টাকা লেনদেন করেছেন। তাঁর কার্যালয়ের দরজা বন্ধ করে চারজনের নিয়োগ পরীক্ষা নিচ্ছিলেন। এটার প্রতিবাদ করতে ছেলেরা সেখানে গিয়েছিল। তখনই ইউএনও তাদেরকে পুলিশে দেওয়ার ভয় দেখান। তারা বিষয়টি জানালে আমি সেখানে যাই। নিয়োগ-বাণিজ্য নিয়ে তাঁর সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়।’ কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, পরে নথিপত্রগুলো ইউএনও অফিসে ফেলে আসা হয়েছে।

ইউএনও রায়হানুল ইসলাম বলেন, ‘উপজেলা বিএনপির সভাপতি নিয়োগ পরীক্ষা চলাকালে এক দল উশৃঙ্খল লোক নিয়ে এসে পরীক্ষাটি বন্ধ করার দাবি করেন। রাজি না হওয়ায় তাঁরা অশোভন আচরণ করেন। একপর্যায়ে কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে চলে যান। এই ঘটনায় একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে।’ 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন