[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়ক বিভাজক যেন এক টুকরো জাপান

প্রকাশঃ
অ+ অ-
বসন্তের ছোঁয়ায় চার লেনের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মাঝখানের বিভাজকজুড়ে ফুটেছে হাজারো রঙিন ফুল। সারি সারি বাগানবিলাস, করবী, কাঞ্চন ও কৃষ্ণচূড়ার গাছে ফুটে থাকা গোলাপি, লাল ও সাদা ফুলের সমারোহে পুরো সড়কটি যেন রূপ নিয়েছে সুবিশাল এক রঙিন গালিচায়। ময়মনসিংহের বাইপ | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন   

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পিচঢালা পথের মাঝখানে যেন রূপের পসরা সাজিয়ে বসেছে বসন্ত। গাজীপুর অংশে সড়ক বিভাজকের কোথাও ফুটেছে রক্তলাল পলাশ, আবার কোথাও সাদা কিংবা হালকা ও গাঢ় গোলাপি রঙের ক্যাসিয়া রেনিজেরা। হরেক রকমের ফুলের এমন সৌন্দর্যে মহাসড়কটি এখন অপরূপ রূপ ধারণ করেছে।

যাতায়াতের সময় যাত্রীরা এসব দেশি-বিদেশি ফুল দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন। কেউ কেউ যানবাহন থামিয়ে ছবি তুলছেন কিংবা ভিডিও করছেন। আবার কেউ বাস বা ছোট গাড়ির জানালা দিয়ে একপলক তাকিয়ে এই সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। এমনকি দূর-দূরান্ত থেকেও অনেকে এই ফুলের সৌন্দর্য দেখতে আসছেন।

তুলোর মতো হালকা ফুলগুলো এমনভাবে ফুটেছে যে, দেখলে মনে হয় প্রতিটি গাছ যেন একেকটি ফুলের তোড়া। সড়কের সৌন্দর্য বাড়ানো এবং এক লেনের গাড়ির আলোর প্রতিফলন থেকে অন্য লেনের চালকদের রক্ষা করতে বিভাজকে এসব গাছ লাগানো হয়েছিল। এখন সেই গাছে ফোটা ফুলের মনমাতানো রঙ মুহূর্তেই যাত্রী ও পথচারীদের মন কেড়ে নিচ্ছে। অনেকেই এসব ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাত থেকে আট বছর আগে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কটি চার লেনে রূপান্তরের সময় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। এক লেনের গাড়ির হেডলাইটের আলো যাতে অন্য লেনের চালকের চোখে না পড়ে, সেজন্যই সড়ক বিভাজকের ওপর রোপণ করা হয় দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির গাছ। এসব গাছের মধ্যে ছিল চমৎকার সোনালু, কাঞ্চন, কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, কদম, পলাশ, বাগানবিলাস, হৈমন্তী, কুর্চি, টগর, জবা, বকুল, কবরী, জারুল ও জাপানি চেরি গোত্রের ক্যাসিয়া রেনিজেরা।

তিন-চার বছর আগে থেকেই পলাশ, জারুল, সোনালু, রাধাচূড়া, বাগানবিলাস, কদম, বকুল ও জবা ফুল ফুটে যাত্রীদের নজর কাড়ছে। গত বছর কিছু গাছে সামান্য ক্যাসিয়া রেনিজেরা দেখা গেলেও, এবার শীত বিদায় নেওয়ার পর এই তিন প্রজাতির ফুল ব্যাপকভাবে ফুটতে শুরু করেছে। বসন্তের শুরুতেই চেরি ফুলগুলো তাদের মোহনীয় সৌন্দর্য মেলে ধরেছে। বিশেষ করে গাজীপুরের হোতাপাড়া এলাকার সড়ক বিভাজকটি হালকা সাদা ও গোলাপি ফুলে ছেয়ে গেছে, যা দেখে মনে হয় যেন এক টুকরো জাপান।

পথচারী রুহুল আমিন জানান, ক্যাসিয়া রেনিজেরা মূলত জাপানি চেরি গোত্রের ফুল, যা বসন্তকালে ফোটে। শীত শেষে গাছের পাতা ঝরে যাওয়ার পর এই ফুলগুলো ফুটতে শুরু করে।

নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জগামী দূরপাল্লার বাসের যাত্রীরা এ পরিবর্তনের অনেক প্রশংসা করছেন। এনা পরিবহনের চালক আব্দুল হালিম জানান, দীর্ঘ পথযাত্রায় একঘেয়েমি ও ক্লান্তি দূর করতে এ দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ মহৌষধ হিসেবে কাজ করছে। গত মঙ্গলবার ও বুধবার বিকেলে বইলার ও ত্রিশাল এলাকায় সরেজমিন দেখা যায়, অনেক পর্যটক ও শৌখিন ভ্রমণকারী এখন সড়কের নান্দনিক স্থানে গাড়ি থামিয়ে ছবি তুলছেন এবং তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোরাদ আহমেদ ফারুখ জানান, দ্রুত নগরায়ণের ফলে যেখানে সবুজ হারিয়ে যাচ্ছে, সেখানে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের এই ‘সবুজ পথ’ বা করিডোর একটি আদর্শ মডেল হতে পারে। এটি কেবল বায়ুদূষণ রোধ ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করছে না, বরং একটি পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গাজীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী তারিক হোসেন বলেন, সড়কের সৌন্দর্য বাড়াতে এবং যাত্রীদের মন প্রফুল্ল রাখতে নানা রকম ফুলের গাছ লাগানো হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন