সাতক্ষীরায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় জামায়াত নেতা কারাগারে
![]() |
| এ কে এম আজহারুজ্জামান | ছবি: সংগৃহীত |
সাতক্ষীরায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিত করে জোরপূর্বক চেয়ার দখলের মামলায় এক সহকারী শিক্ষক ও স্থানীয় জামায়াত নেতাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক নজরুল ইসলাম আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এই আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো আসামির নাম এ কে এম আজহারুজ্জামান। তিনি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বল্লী ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি এবং মুজিবুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। ভুক্তভোগী মো. জামিলুজ্জামান একই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।
মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে আজহারুজ্জামান একদল বহিরাগত নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন। তাঁরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জামিলুজ্জামানকে কক্ষ থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে দেন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এই ঘটনায় ওই বছরের ১৯ নভেম্বর জামিলুজ্জামান সাতক্ষীরার আদালতে মামলা করেন।
আদালত বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি)। তদন্ত শেষে ঘটনার সত্যতা পেয়ে ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর আজহারুজ্জামানসহ ১০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন সিআইডির উপপরিদর্শক (এসআই) মাছুদ পারভেজ। এর আগে আজহারুজ্জামান উচ্চ আদালত থেকে অন্তর্বর্তী জামিন নিয়ে নিম্ন আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ পেয়েছিলেন। সেই অনুযায়ী বৃহস্পতিবার আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে আদালত তা নাকচ করে দেন।
বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা জানান, জামিলুজ্জামান ২০০২ সাল থেকে ওই বিদ্যালয়ে কর্মরত। বিধি অনুযায়ী সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর তিনি প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
বাদীপক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আব্দুল মুজিদ বলেন, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে একজন শিক্ষককে লাঞ্ছিত করা ও অবৈধভাবে চেয়ার দখল করার বিষয়টি সিআইডির তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। আদালত সার্বিক দিক বিবেচনা করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

Comments
Comments