নারীবিদ্বেষী অপশক্তি রুখতে সিপিবির ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের আহ্বান
নারীমুক্তির সংগ্রাম ও সমাজ পরিবর্তনের লড়াই অভিন্ন। বর্তমান সমাজ ও রাষ্ট্রকাঠামোয় নিপীড়িত নারীসমাজের নিরাপত্তা, সমান অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ লড়াই অব্যাহত রাখতে হবে। বৈষম্যের বিরুদ্ধে এবং নারীবিদ্বেষী উগ্র ডানপন্থী শক্তির আগ্রাসন প্রতিহত করতে সিপিবি আপসহীন ভূমিকা পালন করবে।
রোববার বেলা ১১টায় আন্তর্জাতিক নারী দিবসের আলোচনা সভায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) নেতারা এসব কথা বলেন। রাজধানীর পুরানা পল্টনের মুক্তি ভবনের মৈত্রী মিলনায়তনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয় বলে দলের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য জলি তালুকদার। দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য লাকী আক্তারের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, সিপিবি চিকিৎসক শাখার সম্পাদক আক্তার বানু, নারীনেত্রী তাহমিনা ইয়াসমিন নীলা, শ্রমিকনেতা শিল্পী আক্তার, ডালিয়া আক্তার, রেহানা আক্তার, প্রগতি লেখক সংঘের সহসভাপতি জাকির হোসেন, সংস্কৃতিকর্মী সৈয়দা রত্না, ফারুখ আহমেদ, ছাত্রনেতা সোফিয়া মাহবুব প্রমুখ।
সিপিবি সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, ‘আমরা ক্ষোভের সঙ্গে লক্ষ করছি, সম্প্রতি একটি নারীবিদ্বেষী মহল একের পর এক আক্রমণের ঘটনা ঘটাচ্ছে, যা খুবই উদ্বেগজনক। এ বিষয়ে সরকারের কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। সম্প্রতি সারা দেশে নারীদের হেনস্তা করার পরও সরকার হেনস্তাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এসব অপশক্তিকে দমন করতে না পারার দায় সরকারকেই নিতে হবে।’
সাজ্জাদ জহির চন্দন আরও বলেন, বিভিন্ন উগ্র ধর্মীয় মৌলবাদী গোষ্ঠী নারীদের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য ও বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে। দেশের সামাজিক সম্প্রীতি নষ্টের এই চেষ্টা বন্ধ করতে হবে।
সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য জলি তালুকদার বলেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবস সমাজতন্ত্রী নারীদের হাত ধরে শুরু হওয়া শ্রমজীবী অধিকার আন্দোলনের ঐতিহাসিক দিন। দুঃখজনক হলেও বহুজাতিক করপোরেট পুঁজি নারী দিবসের মূল সুরকে পণ্যের মোড়কে বন্দি করেছে। ফলে নারীমুক্তির সংগ্রামের মর্ম আজ এই দিবস পালনে খুঁজে পাওয়া যায় না। তিনি নারীর বিরুদ্ধে চলমান আক্রমণ ও আধিপত্য প্রতিরোধ করতে ‘রোকেয়া ব্রিগেড’ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

Comments
Comments