[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

৯ মসজিদ থেকে আনা হয়েছে খাটিয়া, জুমার নামাজের পর জানাজা

প্রকাশঃ
অ+ অ-

খাটিয়ায় রাখা হয়েছে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের লাশ। আজ শুক্রবার সকালে মোংলা উপজেলা পরিষদসংলগ্ন শেহলাবুনিয়ায় | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

বাগেরহাটের রামপালে নৌবাহিনীর বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত বর-কনেসহ ১৪ জনের মরদেহ তাঁদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। স্বজনদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই বৃহস্পতিবার রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মরদেহগুলো বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

নিহত ১৪ জনের মধ্যে বরের পরিবারেরই রয়েছেন ৯ জন। আজ শুক্রবার ভোরে তাঁদের মরদেহ বাগেরহাটের মোংলার শেহালাবুনিয়ায় পৌঁছায়। অন্যদিকে কনে, তাঁর বোন, দাদি ও নানির মরদেহ নেওয়া হয়েছে খুলনার কয়রা উপজেলায়।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার রাতে খুলনার কয়রা উপজেলার নাকসা গ্রামের আবদুস সালাম মোড়লের মেয়ে মার্জিয়া আক্তারের (মিতু) সঙ্গে মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবদুর রাজ্জাকের ছোট ছেলে আহাদুর রহমানের (ছাব্বির) বিয়ে হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে কনের বাড়ি থেকে মাইক্রোবাসে করে মোংলার উদ্দেশে রওনা দেন বর-কনেসহ দুই পরিবারের সদস্যরা। পথিমধ্যে রামপালের বেলাইবিজ এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা নৌবাহিনীর একটি বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে চালকসহ মাইক্রোবাসের ১৪ যাত্রীই নিহত হন।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন—বর আহাদুর রহমান, তাঁর বাবা আবদুর রাজ্জাক, ভাই আবদুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া (ঐশী), ভাগনে সামিউল ইসলাম ফাহিম, বড় ভাইয়ের স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকা (পুতুল), ভাতিজা আলিফ, আরফা ও ইরাম। এ ছাড়া নিহত হয়েছেন কনে মার্জিয়া আক্তার (মিতু), তাঁর বোন লামিয়া আক্তার, দাদি রাশিদা বেগম, নানি আনোয়ার বেগম এবং মাইক্রোবাসের চালক নাঈম।

আজ সকালে মোংলার শেহলাবুনিয়ায় বরের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। পুরো এলাকা শোকে স্তব্ধ। আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের উপচে পড়া ভিড়। বরের বাড়িতে চার নারীর মরদেহ এবং পাশের উপজেলা পরিষদ চত্বরে বাকি পাঁচজনের মরদেহ রাখা হয়েছে।

নিহত আবদুর রাজ্জাকের ছোট ভাই সাজ্জাদ সরদার কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ‘দুর্ঘটনায় পুরো পরিবারটা শেষ হয়ে গেল। আশপাশের ৯টি মসজিদ থেকে খাটিয়া আনা হয়েছে স্বজনদের রাখার জন্য।’ আজ জুমার নামাজের পর উপজেলা পরিষদ চত্বরে জানাজা শেষে তাঁদের পৌর কবরস্থানে দাফন করার কথা রয়েছে।

বর আহাদুরের মোংলা শহরে মুঠোফোনের দোকান ছিল এবং কনে মার্জিয়া কয়রা নাকসা আলিম মাদ্রাসার প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় দুই উপজেলাতেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

দুর্ঘটনায় বর-কনেসহ নিহত ১৪
Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন