ছাত্রলীগও যে সাহস করেনি তা প্রকাশ্যে ছাত্রশিবির করেছে: ছাত্রদল সভাপতি
ছাত্রলীগ যা করার সাহস পায়নি, ইসলামী ছাত্রশিবির তা প্রকাশ্যে করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। তিনি বলেছেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলার সাহস আগে কেউ দেখায়নি, যা তারা করে দেখিয়েছে।
শুক্রবার ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছাত্রশিবিরের হামলায় আহত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকদের দেখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘সুস্থ হওয়ার পর যদি আমার ছাত্রদলের কেউ কোনো অন্যায় করে, তবে সবার আগে খবর প্রকাশ করবেন। আগামী রোববারের মধ্যে এই ঘটনার বিচার হবে। মনোবল হারাবেন না, সাহস রাখুন; আমি আপনাদের কেবল আশ্বাস নয়, অঙ্গীকার দিচ্ছি।’
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আরও বলেন, ‘শিক্ষাঙ্গনে কোনো সন্ত্রাসী কার্যক্রম চলতে দেব না। রগ কাটার সংস্কৃতি ফিরে আসতে দেওয়া হবে না। আমরা দেখেছি শিবিরের নেতারাই হামলা চালিয়েছেন, কিন্তু আমাদের কোনো নেতাকর্মী এই হামলায় জড়িত ছিলেন না। সাংবাদিক সমিতিতে শিবিরের নেতাদের কাজ কী?’
নতুন বাংলাদেশে এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই কাম্য নয় মন্তব্য করে রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত ধৈর্য ধরে রাজনীতি করছি। আমাদের পরিষ্কার বক্তব্য, এই ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের কঠোর বিচার হতে হবে। আপনাদের কথা দিচ্ছি, এর সঠিক তদন্ত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জবাব দিতে হবে যে কেন শিবির এমন হামলা চালানোর সুযোগ পেল।’
ছাত্রদল সভাপতি বলেন, ‘আপনাদের ওপর শিবিরের এমন নেক্কারজনক হামলার জন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। এই হামলায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই হামলা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিবিরের পরিকল্পিত কাজ। কারণ, আমরা জানতে পেরেছি শিবিরের নেতাকর্মীরা আগে থেকেই সেখানে লাঠিসোঁটা ও কাঠের দণ্ড জড়ো করে রেখেছিল। এমনকি হামলার সময় পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের নজরদারি ক্যামেরাগুলোও বন্ধ ছিল। এটি একটি রহস্য তৈরি করেছে।’
এ সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল, সদস্য সচিব শামসুল আরেফিনসহ আরও অনেক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে শিবিরের নেতৃত্বে হামলার ঘটনায় অন্তত ১২ জন সাংবাদিক আহত হন। সাংবাদিকদের উদ্ধার করতে গিয়ে আহত হন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি এ কে এম রাকিবও।
আহত সাংবাদিকদের অভিযোগ, সাংবাদিক সমিতির নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় প্রায় ৩৫ জন সাংবাদিকের নাম রাখা হয়নি। বিষয়টি জানতে তাঁরা সমিতির কার্যালয়ে গেলে সেখানে থাকা শিবির ও ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবি তোলা (জকসু) সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীরা তাঁদের ওপর হঠাৎ হামলা চালান।

Comments
Comments