কুষ্টিয়ায় দিনদুপুরে প্রকাশ্যে যুবককে কুপিয়ে হত্যা
![]() |
| ঘটনাস্থলে লোকজনের ভিড় | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
কুষ্টিয়া শহরে দিনদুপুরে সানি শেখ সাগর নামের এক তরুণকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শহরের চৌড়হাস পশ্চিমপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
নিহত সানি শেখ (২৭) ওই এলাকার আবদুর রাজ্জাকের ছেলে। তিনি পেশায় একজন রংমিস্ত্রি ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ে সানি শেখের সঙ্গে কয়েকজনের বিরোধ ছিল। সম্প্রতি একটি মামলায় কারাগার থেকে জামিনে বের হয়েছিলেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছে, মাদক কেনাবেচা নিয়ে বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সানি শেখ কুষ্টিয়া শহরে একটি কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরছিলেন। বাড়ি থেকে মাত্র ২০০ গজ দূরে কোল্ডস্টোর গলিতে একদল দুর্বৃত্ত তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে থাকে। একপর্যায়ে সানি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তারা পালিয়ে যায়। পরে পথচারীরা গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গের সামনে নিহত সানি শেখের খালাতো ভাই তৌফিক ইসলাম জানান, তিনি সানি শেখদের বাড়িতে মাঝেমধ্যে থাকেন এবং একসঙ্গে কাজ করেন। তিনি বলেন, ‘বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এলাকায় ভাইয়ের (সানি শেখ) বন্ধু ভিকি, বিজয়, হৃদয়সহ আরও কয়েকজন মিলে আমাকে মারধর করেন। তাঁরা হুমকি দিয়ে বলেন, তোর ভাইকে ডেকে নিয়ে আয়। তাকে খবর দে, বল তোকে মেরেছি।’
তৌফিক আরও জানান, এরপর তিনি সানি শেখকে খুঁজতে বের হন। কিছুক্ষণ পরেই ফোনে খবর পান যে সানি ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে এবং তাঁর লাশ হাসপাতালে আছে। তৌফিক বলেন, ‘ভাইয়ের সঙ্গে তাদের কী নিয়ে দ্বন্দ্ব, আমি জানি না। আমাকে মারলে ভাই ছুটে আসবে, সেই উদ্দেশ্যেই তারা আমাকে মেরেছিল।’
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা হোসেন ইমাম জানান, হাসপাতালে আনার আগেই সানি শেখের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের অসংখ্য কোপের চিহ্ন রয়েছে, বিশেষ করে গলায় ক্ষত সবচেয়ে বেশি।
কুষ্টিয়া মডেল থানার উপ-পরিদর্শক মোস্তাক আহমেদ বলেন, ওই যুবকের কাঁধ, পিঠ, পেটসহ শরীরের বেশ কয়েক জায়গায় কোপের অসংখ্য চিহ্ন রয়েছে। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্ত করা হবে।
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, ঘটনার পরপরই পুলিশ সেখানে গিয়েছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। এই বিষয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা করা হবে।

Comments
Comments