[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

পাবনায় পেঁয়াজের দাম অর্ধেক, লোকসানে চোখে জল কৃষকের

প্রকাশঃ
অ+ অ-
করমজা চতুরহাটে মুড়িকাটা পেঁয়াজ। আজ শনিবার সকালে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন    

পেঁয়াজের ভান্ডার হিসেবে পরিচিত পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার হাটগুলোতে মাত্র চার দিনের ব্যবধানে মুড়িকাটা পেঁয়াজের দাম অর্ধেকে নেমে এসেছে। গত মঙ্গলবার যে পেঁয়াজ প্রতি মণ ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে, আজ শনিবার তা বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়। হঠাৎ দাম কমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে কৃষকেরা বড় ধরনের লোকসানে পড়েছেন।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় ও স্থানীয় কৃষকদের সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজারে আসে প্রায় দুই মাস আগে। শুরুতে প্রতি মণের দাম ছিল প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকা। পরে তা কমে ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায় দাঁড়ায়। এরপর দাম আবার বেড়ে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়েছিল, যাতে কৃষকেরা প্রতি মণে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা লাভ পাচ্ছিলেন। তবে গত মঙ্গলবার থেকে দাম দ্রুত কমতে শুরু করে।

শনিবার সাঁথিয়ার করমজা চতুরহাটে (পাইকারি বাজার) গিয়ে দেখা যায়, প্রতি মণ পেঁয়াজ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোট আকারের পেঁয়াজের দাম আরও কম—মণপ্রতি মাত্র ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা। এমন দামে পেঁয়াজ বিক্রি করে হতাশ হয়ে ঘরে ফিরছেন চাষিরা।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় জানায়, সাঁথিয়ায় এ বছর ১৬ হাজার ৬৯০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৬১০ হেক্টর জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে। পাবনায় সাধারণত দুই পদ্ধতিতে পেঁয়াজ চাষ হয়—মুড়িকাটা ও হালি। মুড়িকাটা পেঁয়াজ অক্টোবর-নভেম্বরে রোপণ করে ডিসেম্বর থেকে মার্চের মধ্যে তোলা হয়। আর হালি পেঁয়াজ ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে রোপণ করে মার্চ-এপ্রিলে তোলা হয়।

সাঁথিয়ার বায়া গ্রামের কৃষক মনসুর আলীসহ আরও কয়েকজন চাষি জানান, প্রতি মণ পেঁয়াজের পেছনে তাঁদের গড় খরচ হয়েছে ১ হাজার ৬০০ টাকা। এক সপ্তাহ আগেও লাভ থাকলেও এখন মণে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা লোকসান দিতে হচ্ছে। মাঠে এখনো প্রচুর পেঁয়াজ বাকি থাকায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তাঁরা।

পুন্ডুরিয়া গ্রামের কৃষক আশরাফ আলী আক্ষেপ করে বলেন, ‘ধারদেনা করে চাষ করেছিলাম। এখন খরচই উঠছে না। পাওনাদারের টাকা শোধ তো দূরের কথা, সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।’

করমজা চতুরহাট ও বোয়াইলমারী হাটের আড়তদারেরা জানান, অধিকাংশ মুড়িকাটা পেঁয়াজ ইতিমধ্যে বাজারে চলে এসেছে। মাঠে থাকা পেঁয়াজও পরিপক্ব হওয়ায় কৃষকেরা দ্রুত তুলছেন। এতে বাজারে সরবরাহ বেড়েছে, কিন্তু সেই তুলনায় চাহিদা কম। সাধারণত রমজানের শুরুতে পেঁয়াজের চাহিদা কিছুটা কম থাকে। এ ছাড়া আগামী ৮-১০ দিনের মধ্যে নতুন হালি পেঁয়াজ বাজারে আসবে—এসব কারণেই দাম কমেছে। লোকসানের ভয়ে অনেক কৃষক এখন জমি থেকে পেঁয়াজ তোলাও বন্ধ করে দিয়েছেন।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন